দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে এবং পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি ঘটছে। সবশেষ মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশজুড়ে হাম এবং হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ১১টি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত শিশুদের মধ্যে ২ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল, আর বাকি ৯ জন শিশু মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে। প্রতিনিয়ত এই প্রাণহানির ঘটনা দেশের স্বাস্থ্যখাত এবং অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে হাম সংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুরু করে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কেবল মৃত্যু নয়, নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৬১ জন শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমানের এই প্রকোপে এখন পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৬০ হাজার ৫৪০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা স্পষ্ট করে দেয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে আরও ৫৪ জন নতুন হামের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি সময় পর্যন্ত দেশে সরকারিভাবে মোট ৮ হাজার ৩২৯ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু শনাক্ত হলো। আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৫১১ জনে। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় এদের মধ্য থেকে ৪৩ হাজার ৪১১ জন শিশু সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতালে ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে এখনো অনেক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং নতুন রোগী ভর্তির চাপও কমেনি।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সামগ্রিক মৃত্যুর হিসাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই আড়াই মাসেরও কম সময়ে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৪১৪ জন শিশু। আর ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৮৫ জন শিশু। সব মিলিয়ে দেশে হাম এবং এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ জনে, যা প্রায় পাঁচশোর কাছাকাছি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি, অন্যথায় এই মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারে।

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে এবং পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি ঘটছে। সবশেষ মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশজুড়ে হাম এবং হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও ১১টি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত শিশুদের মধ্যে ২ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল, আর বাকি ৯ জন শিশু মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে। প্রতিনিয়ত এই প্রাণহানির ঘটনা দেশের স্বাস্থ্যখাত এবং অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে হাম সংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুরু করে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কেবল মৃত্যু নয়, নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৬১ জন শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমানের এই প্রকোপে এখন পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৬০ হাজার ৫৪০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা স্পষ্ট করে দেয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে আরও ৫৪ জন নতুন হামের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি সময় পর্যন্ত দেশে সরকারিভাবে মোট ৮ হাজার ৩২৯ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু শনাক্ত হলো। আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৫১১ জনে। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় এদের মধ্য থেকে ৪৩ হাজার ৪১১ জন শিশু সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতালে ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে এখনো অনেক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং নতুন রোগী ভর্তির চাপও কমেনি।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সামগ্রিক মৃত্যুর হিসাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই আড়াই মাসেরও কম সময়ে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৪১৪ জন শিশু। আর ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৮৫ জন শিশু। সব মিলিয়ে দেশে হাম এবং এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ জনে, যা প্রায় পাঁচশোর কাছাকাছি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি, অন্যথায় এই মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন