দিকপাল

অ্যাপলের ১৫ বছরের ‘কুক’ যুগের অবসান, নতুন সিইও জন টার্নাস


তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:১৯ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

অ্যাপলের ১৫ বছরের ‘কুক’ যুগের অবসান, নতুন সিইও জন টার্নাস

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার পর টেক জায়ান্ট অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন টিম কুক তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন কোম্পানির হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন টার্নাস আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিম কুক সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপল থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না তিনি প্রতিষ্ঠানটির 'এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান' হিসেবে নতুন ভূমিকা পালন করবেন অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর থেকেই জন টার্নাস কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে (বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স) সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন স্টিভ জবস এবং টিম কুকের পর জন টার্নাস হতে যাচ্ছেন অ্যাপলের ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় সিইও

৫০ বছর বয়সী জন টার্নাস প্রায় ২৫ বছর ধরে অ্যাপলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছেন পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক করা টার্নাস ২০০১ সালে অ্যাপলের প্রোডাক্ট ডিজাইন টিমে যোগ দেন

পরবর্তীতে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালে তিনি কোম্পানির এক্সিকিউটিভ টিমে জায়গা করে নেন কাকতালীয়ভাবে, ২০১১ সালে টিম কুক যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তার বয়সও ছিল ৫০ বছর

অ্যাপলের সাম্প্রতিক সময়ের প্রায় প্রতিটি উদ্ভাবনী পণ্যের পেছনে জন টার্নাসের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাক কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার বিবর্তনে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য হলো ম্যাক কম্পিউটারকে ইন্টেল প্রসেসর থেকে সরিয়ে অ্যাপলের নিজস্ব ‘সিলিকন চিপে’ রূপান্তর করা, যা প্রতিষ্ঠানটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এছাড়া আসন্ন ‘আইফোন ১৭’ এবং বহুল আলোচিত ‘আইফোন এয়ার’ প্রকল্পের নেপথ্যেও তার দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

টিম কুকের নেতৃত্বে অ্যাপল বিশ্বের প্রথম পরবর্তীতে ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে জন টার্নাস এক বিবৃতিতে কুককে তারমেন্টরহিসেবে উল্লেখ করেছেন অন্যদিকে, কুক টার্নাসকে অ্যাপলের ভবিষ্যতের জন্যসঠিক ব্যক্তিহিসেবে আখ্যা দিয়ে তাকে একজন দূরদর্শী উদ্ভাবক হিসেবে বর্ণনা করেছেন

টিম কুক অ্যাপলকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করলেও সমালোচকদের মতে, গুগল বা মেটার তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) উদ্ভাবনে কিছুটা ধীরগতিতে চলছে অ্যাপল বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সিইও হিসেবে জন টার্নাসের প্রধান কাজ হবে: . অ্যাপলের প্রতিটি পণ্যে নিজস্ব এআই প্রযুক্তির সফল সমন্বয় . আইফোনের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে ফোল্ডেবল ফোন বা স্মার্ট চশমার মতো নতুন উদ্ভাবনে জোর দেওয়া . উদ্ভাবন ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে কোম্পানির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা

হার্ডওয়্যার বিশেষজ্ঞ হিসেবে টার্নাসের নিয়োগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অ্যাপল তাদের পণ্যের শারীরিক ডিজাইন গুণগত মানে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় তবে বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় অ্যাপলকে তিনি কতটা এগিয়ে নিতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়

 

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


অ্যাপলের ১৫ বছরের ‘কুক’ যুগের অবসান, নতুন সিইও জন টার্নাস

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার পর টেক জায়ান্ট অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন টিম কুক তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন কোম্পানির হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন টার্নাস আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিম কুক সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপল থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না তিনি প্রতিষ্ঠানটির 'এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান' হিসেবে নতুন ভূমিকা পালন করবেন অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর থেকেই জন টার্নাস কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে (বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স) সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন স্টিভ জবস এবং টিম কুকের পর জন টার্নাস হতে যাচ্ছেন অ্যাপলের ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় সিইও

৫০ বছর বয়সী জন টার্নাস প্রায় ২৫ বছর ধরে অ্যাপলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছেন পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক করা টার্নাস ২০০১ সালে অ্যাপলের প্রোডাক্ট ডিজাইন টিমে যোগ দেন

পরবর্তীতে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালে তিনি কোম্পানির এক্সিকিউটিভ টিমে জায়গা করে নেন কাকতালীয়ভাবে, ২০১১ সালে টিম কুক যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তার বয়সও ছিল ৫০ বছর

অ্যাপলের সাম্প্রতিক সময়ের প্রায় প্রতিটি উদ্ভাবনী পণ্যের পেছনে জন টার্নাসের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাক কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার বিবর্তনে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য হলো ম্যাক কম্পিউটারকে ইন্টেল প্রসেসর থেকে সরিয়ে অ্যাপলের নিজস্ব ‘সিলিকন চিপে’ রূপান্তর করা, যা প্রতিষ্ঠানটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এছাড়া আসন্ন ‘আইফোন ১৭’ এবং বহুল আলোচিত ‘আইফোন এয়ার’ প্রকল্পের নেপথ্যেও তার দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

টিম কুকের নেতৃত্বে অ্যাপল বিশ্বের প্রথম পরবর্তীতে ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে জন টার্নাস এক বিবৃতিতে কুককে তারমেন্টরহিসেবে উল্লেখ করেছেন অন্যদিকে, কুক টার্নাসকে অ্যাপলের ভবিষ্যতের জন্যসঠিক ব্যক্তিহিসেবে আখ্যা দিয়ে তাকে একজন দূরদর্শী উদ্ভাবক হিসেবে বর্ণনা করেছেন

টিম কুক অ্যাপলকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করলেও সমালোচকদের মতে, গুগল বা মেটার তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) উদ্ভাবনে কিছুটা ধীরগতিতে চলছে অ্যাপল বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সিইও হিসেবে জন টার্নাসের প্রধান কাজ হবে: . অ্যাপলের প্রতিটি পণ্যে নিজস্ব এআই প্রযুক্তির সফল সমন্বয় . আইফোনের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে ফোল্ডেবল ফোন বা স্মার্ট চশমার মতো নতুন উদ্ভাবনে জোর দেওয়া . উদ্ভাবন ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে কোম্পানির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা

হার্ডওয়্যার বিশেষজ্ঞ হিসেবে টার্নাসের নিয়োগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অ্যাপল তাদের পণ্যের শারীরিক ডিজাইন গুণগত মানে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় তবে বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় অ্যাপলকে তিনি কতটা এগিয়ে নিতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়

 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল