দিকপাল

সংরক্ষিত নারী এমপিরা কত বেতন-ভাতা পান? জানলে চমকে যাবেন!


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সংরক্ষিত নারী এমপিরা কত বেতন-ভাতা পান? জানলে চমকে যাবেন!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে এবার বিএনপি পাচ্ছে ৩৬টি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা একটি আসন।

এই নির্বাচন ঘিরে একটি প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে—যেহেতু সাধারণ আসনের এমপিরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন, তাহলে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা কি একই মর্যাদা ও সুবিধা পান?

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মতোই সমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করেন। এ সংক্রান্ত সব সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’-এর মাধ্যমে, যা বিভিন্ন সময়ে সংশোধিত হয়েছে—সর্বশেষ ২০১৬ সালে।

আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য মাসিক ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। পাশাপাশি তারা ন্যাম ভবনে বাসস্থান, পরিবহন সুবিধা, উন্নত চিকিৎসা ও বিমা সুবিধা উপভোগ করেন। দৈনন্দিন খরচের জন্য মাসে ১,৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা এবং ৬,০০০ টাকা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য প্রদান করা হয়।

এছাড়া, নির্ধারিত শর্তে একজন এমপি শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর ছাড়াই একটি গাড়ি আমদানি করতে পারেন এবং পাঁচ বছর পর আবারও একই সুবিধা পান। তবে বর্তমান সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এ সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত ও সাধারণ আসনের এমপিদের মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই—তারা সবাই সমান মর্যাদার সংসদ সদস্য।

ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রে, সংসদ অধিবেশন বা কমিটির কাজে রেল, নৌ বা বিমানপথে যাতায়াত করলে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে নির্ধারিত হারে কিলোমিটারভিত্তিক ভাতা প্রদান করা হয়। এছাড়া বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা সমপরিমাণ ট্রাভেল পাসের সুবিধাও রয়েছে।

সংসদ সদস্যরা অধিবেশন বা দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক ভাতা হিসেবে ৭৫০ টাকা এবং যাতায়াত বাবদ ৭৫ টাকা পান। আবার অধিবেশনে উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা এবং ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়।

চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে তারা ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের সেবা পান, পাশাপাশি মাসে ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া ১০ লাখ টাকার বিমা সুবিধা রয়েছে, যা দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়।

প্রত্যেক এমপি বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্ধারিত নিয়মে ব্যয় করতে হয়।

টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয় এবং ভাড়া ও কল খরচ বাবদ মাসে ৭,৮০০ টাকা প্রদান করা হয়।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—সংসদ সদস্যদের এসব ভাতা আয়করমুক্ত। অতীতে অনেক এমপি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি প্লট সুবিধাও পেয়েছেন।

সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা কোনো দিক থেকেই সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের চেয়ে কম নন—তাদের ক্ষমতা, মর্যাদা ও সুবিধা সবই সমান।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


সংরক্ষিত নারী এমপিরা কত বেতন-ভাতা পান? জানলে চমকে যাবেন!

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে এবার বিএনপি পাচ্ছে ৩৬টি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা একটি আসন।

এই নির্বাচন ঘিরে একটি প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে—যেহেতু সাধারণ আসনের এমপিরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন, তাহলে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা কি একই মর্যাদা ও সুবিধা পান?

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মতোই সমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করেন। এ সংক্রান্ত সব সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’-এর মাধ্যমে, যা বিভিন্ন সময়ে সংশোধিত হয়েছে—সর্বশেষ ২০১৬ সালে।

আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য মাসিক ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। পাশাপাশি তারা ন্যাম ভবনে বাসস্থান, পরিবহন সুবিধা, উন্নত চিকিৎসা ও বিমা সুবিধা উপভোগ করেন। দৈনন্দিন খরচের জন্য মাসে ১,৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা এবং ৬,০০০ টাকা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য প্রদান করা হয়।

এছাড়া, নির্ধারিত শর্তে একজন এমপি শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর ছাড়াই একটি গাড়ি আমদানি করতে পারেন এবং পাঁচ বছর পর আবারও একই সুবিধা পান। তবে বর্তমান সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এ সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত ও সাধারণ আসনের এমপিদের মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই—তারা সবাই সমান মর্যাদার সংসদ সদস্য।

ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রে, সংসদ অধিবেশন বা কমিটির কাজে রেল, নৌ বা বিমানপথে যাতায়াত করলে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে নির্ধারিত হারে কিলোমিটারভিত্তিক ভাতা প্রদান করা হয়। এছাড়া বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা সমপরিমাণ ট্রাভেল পাসের সুবিধাও রয়েছে।

সংসদ সদস্যরা অধিবেশন বা দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক ভাতা হিসেবে ৭৫০ টাকা এবং যাতায়াত বাবদ ৭৫ টাকা পান। আবার অধিবেশনে উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা এবং ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়।

চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে তারা ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের সেবা পান, পাশাপাশি মাসে ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া ১০ লাখ টাকার বিমা সুবিধা রয়েছে, যা দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়।

প্রত্যেক এমপি বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্ধারিত নিয়মে ব্যয় করতে হয়।

টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয় এবং ভাড়া ও কল খরচ বাবদ মাসে ৭,৮০০ টাকা প্রদান করা হয়।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—সংসদ সদস্যদের এসব ভাতা আয়করমুক্ত। অতীতে অনেক এমপি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি প্লট সুবিধাও পেয়েছেন।

সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা কোনো দিক থেকেই সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের চেয়ে কম নন—তাদের ক্ষমতা, মর্যাদা ও সুবিধা সবই সমান।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল