মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আপাতত খুলে দেওয়া সম্ভব নয়—এমন অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণেই তারা এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে এ পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ইরানের বন্দরগুলোকে কার্যত অচল করে দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার সামিল। পাশাপাশি তিনি বলেন, ইসরায়েল বিভিন্ন ফ্রন্টে উত্তেজনা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, তেহরান এখনো আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী। তবে এর জন্য চুক্তি লঙ্ঘন, অবরোধ এবং হুমকির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। তার মতে, এসবই শান্তিপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনার প্রধান বাধা।
এদিকে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে জোর গুঞ্জন শোনা গেলেও তা এখনো বাস্তবে রূপ পায়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বর্তমানে নিজ দেশেই অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভভ্যাট এক বিবৃতিতে জানান, এই সিদ্ধান্তের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধের কার্যকারিতায় ট্রাম্প প্রশাসন সন্তুষ্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনা করে প্রেসিডেন্ট নিজেই যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে দুটি কার্গো জাহাজ ‘তল্লাশির জন্য’ জব্দ করেছে ইরান। এর আগে ওই এলাকায় তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জাহাজগুলো নিয়ম লঙ্ঘন করে এবং নেভিগেশন সিস্টেমে কারসাজি করে গোপনে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আপাতত খুলে দেওয়া সম্ভব নয়—এমন অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণেই তারা এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে এ পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ইরানের বন্দরগুলোকে কার্যত অচল করে দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার সামিল। পাশাপাশি তিনি বলেন, ইসরায়েল বিভিন্ন ফ্রন্টে উত্তেজনা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, তেহরান এখনো আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী। তবে এর জন্য চুক্তি লঙ্ঘন, অবরোধ এবং হুমকির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। তার মতে, এসবই শান্তিপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনার প্রধান বাধা।
এদিকে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে জোর গুঞ্জন শোনা গেলেও তা এখনো বাস্তবে রূপ পায়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বর্তমানে নিজ দেশেই অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভভ্যাট এক বিবৃতিতে জানান, এই সিদ্ধান্তের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধের কার্যকারিতায় ট্রাম্প প্রশাসন সন্তুষ্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনা করে প্রেসিডেন্ট নিজেই যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে দুটি কার্গো জাহাজ ‘তল্লাশির জন্য’ জব্দ করেছে ইরান। এর আগে ওই এলাকায় তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, জাহাজগুলো নিয়ম লঙ্ঘন করে এবং নেভিগেশন সিস্টেমে কারসাজি করে গোপনে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন