দিকপাল

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়ছে বজ্রপাত নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার নিয়ম


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০১:২৬ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়ছে বজ্রপাত নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার নিয়ম

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই দেশজুড়ে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনজীবনে এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ করে গ্রীষ্মের শুরু থেকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এর তীব্রতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। গত রোববারও দেশের সাতটি জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা অসচেতনতার এক ভয়াবহ চিত্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাত কেবল তাৎক্ষণিক প্রাণহানিই ঘটায় না, বরং এর আঘাতে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিও দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, শ্রবণশক্তি হ্রাস বা দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

আকাশে মেঘের ঘনঘটা বা বজ্রঝড় শুরু হওয়া মাত্রই খোলা জায়গা বা জলাশয় ত্যাগ করে কোনো পাকা দালান কিংবা কংক্রিটের ছাউনিযুক্ত স্থানে আশ্রয় নেওয়া জরুরি। টিনের ঘর বা অস্থায়ী ঝুপড়ি বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে না। ঘরের ভেতরে অবস্থানকালেও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, তারযুক্ত ফোন এবং পানির কল ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ বজ্রপাতের বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইনের মাধ্যমে ভেতরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ঝড়ের সময় জানালা থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ। বাইরে থাকা অবস্থায় ঝড়ের কবলে পড়লে কোনোভাবেই উঁচু গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়ানো যাবে না, কারণ বজ্রপাত সাধারণত উঁচু স্থানে আগে আঘাত করে।

বজ্রপাতের সময় খালি পায়ে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ; এক্ষেত্রে রাবারের সোলযুক্ত জুতা কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। এছাড়া ছাতা বা লোহার খুঁটির মতো ধাতব বস্তু ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বজ্রধ্বনি থামার অন্তত ৩০ মিনিট পর পর্যন্ত বাইরে বের না হওয়া শ্রেয়, কারণ ঝড় কমে গেলেও ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয় না। বড়দের পাশাপাশি শিশুদেরও এই জীবনরক্ষাকারী নিয়মগুলো শেখানো জরুরি। প্রকৃতির এই মরণঘাতী ছোবল থেকে বাঁচতে নিয়মিত আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুসরণ করা এবং আগাম সতর্কতা অবলম্বন করাই এখন সময়ের দাবি।

সূত্র: আবহাওয়া অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়ছে বজ্রপাত নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার নিয়ম

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই দেশজুড়ে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনজীবনে এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ করে গ্রীষ্মের শুরু থেকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এর তীব্রতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। গত রোববারও দেশের সাতটি জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা অসচেতনতার এক ভয়াবহ চিত্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাত কেবল তাৎক্ষণিক প্রাণহানিই ঘটায় না, বরং এর আঘাতে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিও দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, শ্রবণশক্তি হ্রাস বা দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

আকাশে মেঘের ঘনঘটা বা বজ্রঝড় শুরু হওয়া মাত্রই খোলা জায়গা বা জলাশয় ত্যাগ করে কোনো পাকা দালান কিংবা কংক্রিটের ছাউনিযুক্ত স্থানে আশ্রয় নেওয়া জরুরি। টিনের ঘর বা অস্থায়ী ঝুপড়ি বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে না। ঘরের ভেতরে অবস্থানকালেও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, তারযুক্ত ফোন এবং পানির কল ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ বজ্রপাতের বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইনের মাধ্যমে ভেতরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ঝড়ের সময় জানালা থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ। বাইরে থাকা অবস্থায় ঝড়ের কবলে পড়লে কোনোভাবেই উঁচু গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়ানো যাবে না, কারণ বজ্রপাত সাধারণত উঁচু স্থানে আগে আঘাত করে।

বজ্রপাতের সময় খালি পায়ে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ; এক্ষেত্রে রাবারের সোলযুক্ত জুতা কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। এছাড়া ছাতা বা লোহার খুঁটির মতো ধাতব বস্তু ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বজ্রধ্বনি থামার অন্তত ৩০ মিনিট পর পর্যন্ত বাইরে বের না হওয়া শ্রেয়, কারণ ঝড় কমে গেলেও ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয় না। বড়দের পাশাপাশি শিশুদেরও এই জীবনরক্ষাকারী নিয়মগুলো শেখানো জরুরি। প্রকৃতির এই মরণঘাতী ছোবল থেকে বাঁচতে নিয়মিত আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুসরণ করা এবং আগাম সতর্কতা অবলম্বন করাই এখন সময়ের দাবি।

সূত্র: আবহাওয়া অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল