দিকপাল

দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৪ পানীয় কমতে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি


ইয়াসরির মাহবুব
ইয়াসরির মাহবুব স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৬:০২ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৪ পানীয় কমতে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি

বর্তমান বিশ্বে ক্যানসার অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হলেও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, সচেতন জীবনযাপন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এই মরণব্যাধির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষ করে আমাদের হাতের নাগালে থাকা কিছু প্রাকৃতিক পানীয় শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চারটি বিশেষ পানীয় নিয়মিত গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার প্রতিরোধের লড়াইয়ে শরীর বাড়তি সুরক্ষা পায়।

দিনের শুরুটা যদি এক গ্লাস কুসুম গরম লেবু পানি দিয়ে করা যায়, তবে তা শরীরের বিষাক্ত উপাদান বা টক্সিন বের করে দিতে জাদুর মতো কাজ করে। লেবুতে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যালের হাত থেকে রক্ষা করে এবং লিভারের কার্যকারিতা সচল রাখে। একইভাবে গ্রিন টি-র জয়জয়কার এখন বিশ্বজুড়ে। এতে থাকা ‘ক্যাটেচিন’ নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন রুখতে সাহায্য করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিদিন অন্তত এক কাপ গ্রিন টি পানের অভ্যাস ক্যানসার প্রতিরোধী ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রাকৃতিক ঔষধি গুণের আধার হিসেবে পরিচিত হলুদ ও আদার পানীয়ও এই তালিকায় বেশ গুরুত্ববহ। হলুদে বিদ্যমান ‘কারকিউমিন’ উপাদানটি শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে, যা মূলত ক্যানসারসহ অনেক জটিল রোগের উৎস। সামান্য গরম পানিতে নিয়মিত হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে পান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা বহুগুণ শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে, আদার মধ্যে থাকা ‘জিঞ্জারল’ উপাদানটি কেবল হজমশক্তিই বাড়ায় না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ কোষগুলোকে সজীব রাখতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে।

তবে চিকিৎসকরা একটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন—কোনো নির্দিষ্ট পানীয়কে ক্যানসারের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এগুলো সুস্থ জীবনধারার একটি অংশ মাত্র। ক্যানসারের ঝুঁকি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে এসব পানীয় গ্রহণের পাশাপাশি সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং তামাক ও অ্যালকোহলের মতো ক্ষতিকর অভ্যাস বর্জন করা অপরিহার্য। মূলত সচেতনতা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের সমন্বয়ই হতে পারে একটি ক্যানসারমুক্ত জীবনের শক্তিশালী ভিত্তি।

তথ্যের উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর ক্যানসার রিসার্চ (AICR)।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৪ পানীয় কমতে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বর্তমান বিশ্বে ক্যানসার অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হলেও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, সচেতন জীবনযাপন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এই মরণব্যাধির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষ করে আমাদের হাতের নাগালে থাকা কিছু প্রাকৃতিক পানীয় শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চারটি বিশেষ পানীয় নিয়মিত গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার প্রতিরোধের লড়াইয়ে শরীর বাড়তি সুরক্ষা পায়।

দিনের শুরুটা যদি এক গ্লাস কুসুম গরম লেবু পানি দিয়ে করা যায়, তবে তা শরীরের বিষাক্ত উপাদান বা টক্সিন বের করে দিতে জাদুর মতো কাজ করে। লেবুতে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যালের হাত থেকে রক্ষা করে এবং লিভারের কার্যকারিতা সচল রাখে। একইভাবে গ্রিন টি-র জয়জয়কার এখন বিশ্বজুড়ে। এতে থাকা ‘ক্যাটেচিন’ নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন রুখতে সাহায্য করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিদিন অন্তত এক কাপ গ্রিন টি পানের অভ্যাস ক্যানসার প্রতিরোধী ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রাকৃতিক ঔষধি গুণের আধার হিসেবে পরিচিত হলুদ ও আদার পানীয়ও এই তালিকায় বেশ গুরুত্ববহ। হলুদে বিদ্যমান ‘কারকিউমিন’ উপাদানটি শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে, যা মূলত ক্যানসারসহ অনেক জটিল রোগের উৎস। সামান্য গরম পানিতে নিয়মিত হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে পান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা বহুগুণ শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে, আদার মধ্যে থাকা ‘জিঞ্জারল’ উপাদানটি কেবল হজমশক্তিই বাড়ায় না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ কোষগুলোকে সজীব রাখতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে।

তবে চিকিৎসকরা একটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন—কোনো নির্দিষ্ট পানীয়কে ক্যানসারের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এগুলো সুস্থ জীবনধারার একটি অংশ মাত্র। ক্যানসারের ঝুঁকি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে এসব পানীয় গ্রহণের পাশাপাশি সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং তামাক ও অ্যালকোহলের মতো ক্ষতিকর অভ্যাস বর্জন করা অপরিহার্য। মূলত সচেতনতা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের সমন্বয়ই হতে পারে একটি ক্যানসারমুক্ত জীবনের শক্তিশালী ভিত্তি।

তথ্যের উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আমেরিকান ইনস্টিটিউট ফর ক্যানসার রিসার্চ (AICR)।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল