ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও সম্পূর্ণ অবৈধ বলে অভিহিত করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যাগনেস কালামার এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ভূখণ্ডে যে যৌথ হামলা শুরু হয়েছে, তা জাতিসংঘ সনদে উল্লেখিত বলপ্রয়োগ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত পরিপন্থী। এই অভিযানের ফলে ইতিমধ্যে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং পুরো পশ্চিম এশিয়াজুড়ে লাখ লাখ বেসামরিক নাগরিকের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কালামার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চলমান সংঘাতে সুনির্দিষ্টভাবে সাধারণ মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়েছে, যুদ্ধের এই ডামাডোলের মধ্যে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধ এমনকি গণহত্যার মতো হুমকি প্রদান করেছেন। ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংস করে দেওয়ার মতো যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তা বিশ্ববিবেকের জন্য বড় ধরনের হুমকি। আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থার প্রধান আরও মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালে লেবানন কিংবা ২০২৫ সালে গাজায় যেসব তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, সেগুলো মূলত ইসরায়েলের আগ্রাসন ও বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৬৫ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং দক্ষিণ লেবাননে নিয়মিত বিমান হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি স্পষ্ট ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা টানার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাগনেস কালামার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। এই লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অবিলম্বে সশস্ত্র সংঘর্ষ বন্ধ করতে হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা পুরো বিশ্বের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলেও বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: পার্সটুডে (ইসনা’র প্রতিবেদন অবলম্বনে)।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও সম্পূর্ণ অবৈধ বলে অভিহিত করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যাগনেস কালামার এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ভূখণ্ডে যে যৌথ হামলা শুরু হয়েছে, তা জাতিসংঘ সনদে উল্লেখিত বলপ্রয়োগ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত পরিপন্থী। এই অভিযানের ফলে ইতিমধ্যে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং পুরো পশ্চিম এশিয়াজুড়ে লাখ লাখ বেসামরিক নাগরিকের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কালামার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চলমান সংঘাতে সুনির্দিষ্টভাবে সাধারণ মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়েছে, যুদ্ধের এই ডামাডোলের মধ্যে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধ এমনকি গণহত্যার মতো হুমকি প্রদান করেছেন। ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংস করে দেওয়ার মতো যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তা বিশ্ববিবেকের জন্য বড় ধরনের হুমকি। আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থার প্রধান আরও মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালে লেবানন কিংবা ২০২৫ সালে গাজায় যেসব তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, সেগুলো মূলত ইসরায়েলের আগ্রাসন ও বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৬৫ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং দক্ষিণ লেবাননে নিয়মিত বিমান হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি স্পষ্ট ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা টানার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাগনেস কালামার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। এই লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অবিলম্বে সশস্ত্র সংঘর্ষ বন্ধ করতে হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা পুরো বিশ্বের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলেও বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: পার্সটুডে (ইসনা’র প্রতিবেদন অবলম্বনে)।

আপনার মতামত লিখুন