দিকপাল

প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ জার্মানি থেকে মার্কিন ব্রিগেড সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্পের


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০১:৪৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ জার্মানি থেকে মার্কিন ব্রিগেড সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

জার্মানিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনা সদস্যের সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে অত্যন্ত জোরালোভাবে জানিয়েছেন যে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। কয়েক দশকের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান পরিস্থিতি নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসের সঙ্গে তাঁর বাগযুদ্ধ তুঙ্গে। সম্প্রতি মেরৎস মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরানের নেতৃত্বের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে—যা ট্রাম্পের চরম অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর পরপরই তিনি জার্মান চ্যান্সেলরের কঠোর সমালোচনা করেন। শুধু তাই নয়, জার্মানি ও ন্যাটোর অন্যান্য মিত্র রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান নীতিতে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত সমর্থন দিচ্ছে না বলে ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করে আসছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে জার্মানির নৌবাহিনী মোতায়েন না করার বিষয়টি ওয়াশিংটনকে ক্ষুব্ধ করেছে।

উল্লেখ্য, জার্মানি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৩ হাজার ৯০০ মার্কিন সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। যদি ট্রাম্প তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী সেনা কমানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন, তবে তা ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামো এবং ইউরোপীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মিত্র রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাব মূলত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।


তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ জার্মানি থেকে মার্কিন ব্রিগেড সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জার্মানিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনা সদস্যের সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে অত্যন্ত জোরালোভাবে জানিয়েছেন যে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। কয়েক দশকের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান পরিস্থিতি নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসের সঙ্গে তাঁর বাগযুদ্ধ তুঙ্গে। সম্প্রতি মেরৎস মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরানের নেতৃত্বের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে—যা ট্রাম্পের চরম অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর পরপরই তিনি জার্মান চ্যান্সেলরের কঠোর সমালোচনা করেন। শুধু তাই নয়, জার্মানি ও ন্যাটোর অন্যান্য মিত্র রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান নীতিতে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত সমর্থন দিচ্ছে না বলে ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করে আসছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে জার্মানির নৌবাহিনী মোতায়েন না করার বিষয়টি ওয়াশিংটনকে ক্ষুব্ধ করেছে।

উল্লেখ্য, জার্মানি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৩ হাজার ৯০০ মার্কিন সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। যদি ট্রাম্প তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী সেনা কমানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন, তবে তা ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামো এবং ইউরোপীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মিত্র রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাব মূলত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।


তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল