আটলান্টিক মহাসাগরের নীল জলরাশিতে ভেসে বেড়ানো একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী এখন পরিণত হয়েছে এক ভাসমান মৃত্যুপুরীতে। আর্জেন্টিনা থেকে দক্ষিণ মেরুর বরফশুভ্র অ্যান্টার্কটিকা ও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা শেষে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাচ্ছিল ডাচ পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি হন্ডিয়াস’। কিন্তু মাঝসমুদ্রেই ছন্দপতন ঘটে। প্রমোদতরীটিতে হঠাৎ করেই থাবা বসিয়েছে বিরল এবং ভয়ংকর ‘হান্টাভাইরাস’। এই ভাইরাসের সংক্রমণে ইতিমধ্যেই এক প্রবীণ দম্পতিসহ প্রাণ হারিয়েছেন তিন পর্যটক। এই ঘটনায় জাহাজজুড়ে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তেমনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ (WHO) আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় জাহাজের এক সত্তর বছর বয়সী বৃদ্ধ পর্যটককে দিয়ে। ভ্রমণের মাঝপথেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জাহাজে থাকা অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়। ট্র্যাজেডি এখানেই শেষ হয়নি; স্বামীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী যখন নিজ দেশ নেদারল্যান্ডসে ফেরার উদ্দেশ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিমানবন্দরে পৌঁছান, তখন তিনিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। এছাড়া ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও এক পর্যটক মারা গেছেন এবং একজন ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমানে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে নিশ্চিত করেছে যে, মৃত ও আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত একজনের শরীরে হান্টাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মূলত ইঁদুর বা ছুঁচো জাতীয় প্রাণীর মলমূত্র থেকে ছড়ানো এই ভাইরাস মানুষের শ্বাসযন্ত্র এবং কিডনিতে ভয়াবহ সংক্রমণ ঘটায়। এই মুহূর্তে জাহাজটিতে থাকা আরও দুই ক্রু সদস্য গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রায় ১৫০ জন পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা এই প্রমোদতরীটি বর্তমানে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের উপকূলে নোঙর করে আছে। তবে সংক্রমণের ভয়াবহ ঝুঁকি থাকায় স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে; কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্যকে জাহাজ থেকে উপকূলে নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো এখন এই ভাইরাসের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। জাহাজটিতে কীভাবে এই ভাইরাস পৌঁছালো এবং আরও কতজন এর সংস্পর্শে এসেছেন, তা জানতে ‘কন্টাক্ট ট্রেসিং’ এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষা পুরোদমে চলছে। পর্যটকদের স্বপ্নীল সমুদ্রযাত্রা যে এভাবে এক সংক্রামক ব্যাধির কবলে পড়ে প্রাণঘাতী রূপ নেবে, তা ছিল সবার কল্পনার বাইরে। আপাতত কেপ ভার্দের উপকূলে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা জাহাজটির ভেতরে চলছে বাঁচার লড়াই, আর বাইরে চলছে ভাইরাসের বিস্তার রোধে কঠোর নজরদারি।
সূত্র: এপি (AP)

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
আটলান্টিক মহাসাগরের নীল জলরাশিতে ভেসে বেড়ানো একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী এখন পরিণত হয়েছে এক ভাসমান মৃত্যুপুরীতে। আর্জেন্টিনা থেকে দক্ষিণ মেরুর বরফশুভ্র অ্যান্টার্কটিকা ও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা শেষে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাচ্ছিল ডাচ পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি হন্ডিয়াস’। কিন্তু মাঝসমুদ্রেই ছন্দপতন ঘটে। প্রমোদতরীটিতে হঠাৎ করেই থাবা বসিয়েছে বিরল এবং ভয়ংকর ‘হান্টাভাইরাস’। এই ভাইরাসের সংক্রমণে ইতিমধ্যেই এক প্রবীণ দম্পতিসহ প্রাণ হারিয়েছেন তিন পর্যটক। এই ঘটনায় জাহাজজুড়ে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তেমনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ (WHO) আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় জাহাজের এক সত্তর বছর বয়সী বৃদ্ধ পর্যটককে দিয়ে। ভ্রমণের মাঝপথেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জাহাজে থাকা অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়। ট্র্যাজেডি এখানেই শেষ হয়নি; স্বামীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী যখন নিজ দেশ নেদারল্যান্ডসে ফেরার উদ্দেশ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিমানবন্দরে পৌঁছান, তখন তিনিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। এছাড়া ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও এক পর্যটক মারা গেছেন এবং একজন ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমানে জোহানেসবার্গের একটি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে নিশ্চিত করেছে যে, মৃত ও আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত একজনের শরীরে হান্টাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মূলত ইঁদুর বা ছুঁচো জাতীয় প্রাণীর মলমূত্র থেকে ছড়ানো এই ভাইরাস মানুষের শ্বাসযন্ত্র এবং কিডনিতে ভয়াবহ সংক্রমণ ঘটায়। এই মুহূর্তে জাহাজটিতে থাকা আরও দুই ক্রু সদস্য গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রায় ১৫০ জন পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা এই প্রমোদতরীটি বর্তমানে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের উপকূলে নোঙর করে আছে। তবে সংক্রমণের ভয়াবহ ঝুঁকি থাকায় স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে; কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্যকে জাহাজ থেকে উপকূলে নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো এখন এই ভাইরাসের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। জাহাজটিতে কীভাবে এই ভাইরাস পৌঁছালো এবং আরও কতজন এর সংস্পর্শে এসেছেন, তা জানতে ‘কন্টাক্ট ট্রেসিং’ এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষা পুরোদমে চলছে। পর্যটকদের স্বপ্নীল সমুদ্রযাত্রা যে এভাবে এক সংক্রামক ব্যাধির কবলে পড়ে প্রাণঘাতী রূপ নেবে, তা ছিল সবার কল্পনার বাইরে। আপাতত কেপ ভার্দের উপকূলে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা জাহাজটির ভেতরে চলছে বাঁচার লড়াই, আর বাইরে চলছে ভাইরাসের বিস্তার রোধে কঠোর নজরদারি।
সূত্র: এপি (AP)

আপনার মতামত লিখুন