দিকপাল

কোরবানির পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ সীমান্ত পাহারায় জিরো টলারেন্স



কোরবানির পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ সীমান্ত পাহারায় জিরো টলারেন্স

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার খামারগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ, সেই সঙ্গে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। পশুর যত্নে খামারিরা এখন দিনরাত পরিশ্রম করছেন যাতে বাজারে সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান পশু তোলা যায়। বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার উপজেলায় নিবন্ধিত ৪ হাজার ৪১২ জন খামারি কোরবানির জন্য প্রায় ২৯ হাজার ৬৩০টি গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে গরু, ছাগল ও ভেড়া অন্যতম। মজার ব্যাপার হলো, স্থানীয় বাজারে পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৫৩৩টি, যার ফলে প্রায় ৭ হাজার ৯৭টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত পশুগুলো দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কোরবানির চাহিদা মেটাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

তবে খামারিদের মনে আনন্দের পাশাপাশি কিছুটা দুশ্চিন্তার ভাজও লক্ষ্য করা গেছে। গো-খাদ্য ও ওষুধের আকাশচুম্বী দামের কারণে এবার পশু পালনের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। খামারি আলম ও রফিকুল ইসলামের মতো অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বাজারে যদি ন্যায্য দাম না পাওয়া যায় তবে তাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় পশুর অনুপ্রবেশ ঘটলে স্থানীয় বাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে এবং দেশি খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মারুফ হাসান জানিয়েছেন যে, বাজারে পশুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অস্বাভাবিক প্রভাব রোধে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে নজরদারি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো স্থানীয় খামারিরা যেন তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পান।

অন্যদিকে, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবু কায়েস বিন আজিজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনোভাবেই গবাদিপশু দ্রুত মোটা-তাজা করতে স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর হরমোন ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে খামারিদের সচেতন করতে নিয়মিত উঠান বৈঠক করা হচ্ছে এবং কোরবানির সময় প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম মোতায়েন থাকবে। সার্বিকভাবে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও খামারিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বোচাগঞ্জে কোরবানির পশুর বাজার এবার জমজমাট হবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


কোরবানির পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ সীমান্ত পাহারায় জিরো টলারেন্স

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার খামারগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ, সেই সঙ্গে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। পশুর যত্নে খামারিরা এখন দিনরাত পরিশ্রম করছেন যাতে বাজারে সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান পশু তোলা যায়। বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার উপজেলায় নিবন্ধিত ৪ হাজার ৪১২ জন খামারি কোরবানির জন্য প্রায় ২৯ হাজার ৬৩০টি গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে গরু, ছাগল ও ভেড়া অন্যতম। মজার ব্যাপার হলো, স্থানীয় বাজারে পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৫৩৩টি, যার ফলে প্রায় ৭ হাজার ৯৭টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত পশুগুলো দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কোরবানির চাহিদা মেটাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

তবে খামারিদের মনে আনন্দের পাশাপাশি কিছুটা দুশ্চিন্তার ভাজও লক্ষ্য করা গেছে। গো-খাদ্য ও ওষুধের আকাশচুম্বী দামের কারণে এবার পশু পালনের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। খামারি আলম ও রফিকুল ইসলামের মতো অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বাজারে যদি ন্যায্য দাম না পাওয়া যায় তবে তাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় পশুর অনুপ্রবেশ ঘটলে স্থানীয় বাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে এবং দেশি খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মারুফ হাসান জানিয়েছেন যে, বাজারে পশুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অস্বাভাবিক প্রভাব রোধে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে নজরদারি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো স্থানীয় খামারিরা যেন তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পান।

অন্যদিকে, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবু কায়েস বিন আজিজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনোভাবেই গবাদিপশু দ্রুত মোটা-তাজা করতে স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর হরমোন ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে খামারিদের সচেতন করতে নিয়মিত উঠান বৈঠক করা হচ্ছে এবং কোরবানির সময় প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম মোতায়েন থাকবে। সার্বিকভাবে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও খামারিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বোচাগঞ্জে কোরবানির পশুর বাজার এবার জমজমাট হবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল