দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের ওপর দিয়ে বড় ধরনের এক অস্থিরতার ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। গত বছর শেষে শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে না পারায় গতকাল রোববার এক দিনেই নতুন করে ১০টি ব্যাংককে দুর্বল মানের ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে অর্ধেকের বেশি বা প্রায় ৫৫ শতাংশই এখন দুর্বল ব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। হঠাৎ করে এতগুলো ব্যাংকের মানাবনতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো বাজার সূচকের ওপর।
নতুন করে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইউসিবি, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং এনআরবিসি ব্যাংক। এর আগে থেকেই আইসিবি ইসলামিক, ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংকসহ আরও ৫টি ব্যাংক এই তালিকায় ছিল। এ ছাড়া লেনদেন বন্ধ থাকা আরও ৫টি ব্যাংকসহ বর্তমানে শেয়ারবাজারে দুর্বল ব্যাংকের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০টিতে।
পুঁজিবাজারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি টানা দুই বছর লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হলে সেটিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের ফলে এসব শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা আর কোনো ঋণসুবিধা পাবেন না এবং লেনদেন নিষ্পত্তিতেও আগের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। মূলত বিগত সরকারের সময় সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঋণ কেলেঙ্কারির প্রকৃত চিত্র এখন সামনে আসতে শুরু করেছে। অনেক ব্যাংক খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশনিং রাখতে গিয়ে মুনাফা করতে পারছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শেয়ারহোল্ডারদের ওপর। তবে পুরো খাতের চিত্রটি একেবারেই নেতিবাচক নয়; বরং এখানে এক ধরনের দ্বিমুখী গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে যখন ১০টি ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, অন্যদিকে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো হাজার কোটি টাকার ওপর রেকর্ড মুনাফা করে বিনিয়োগকারীদের চমকে দিয়েছে। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা মুনাফা করে দেশি মালিকানার ব্যাংকগুলোর মধ্যে অনন্য এক নজির স্থাপন করেছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাবে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ৭০ শতাংশেরই দরপতন ঘটেছে, যার ফলে ডিএসইএক্স সূচক কমেছে প্রায় ২১ পয়েন্ট। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সুশাসনের অভাব, তারল্য সংকট এবং খেলাপি ঋণের উচ্চ হারই কিছু ব্যাংককে এই খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতির পূর্বাভাস পেলেও সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা এই ধাক্কায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ব্যাংকগুলোর ওপর আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। অন্যথায় তারল্য সংকট ও দরপতনের এই ধারা বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদী দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের ওপর দিয়ে বড় ধরনের এক অস্থিরতার ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। গত বছর শেষে শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে না পারায় গতকাল রোববার এক দিনেই নতুন করে ১০টি ব্যাংককে দুর্বল মানের ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে অর্ধেকের বেশি বা প্রায় ৫৫ শতাংশই এখন দুর্বল ব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। হঠাৎ করে এতগুলো ব্যাংকের মানাবনতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো বাজার সূচকের ওপর।
নতুন করে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ইউসিবি, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং এনআরবিসি ব্যাংক। এর আগে থেকেই আইসিবি ইসলামিক, ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংকসহ আরও ৫টি ব্যাংক এই তালিকায় ছিল। এ ছাড়া লেনদেন বন্ধ থাকা আরও ৫টি ব্যাংকসহ বর্তমানে শেয়ারবাজারে দুর্বল ব্যাংকের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০টিতে।
পুঁজিবাজারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি টানা দুই বছর লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হলে সেটিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের ফলে এসব শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা আর কোনো ঋণসুবিধা পাবেন না এবং লেনদেন নিষ্পত্তিতেও আগের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। মূলত বিগত সরকারের সময় সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঋণ কেলেঙ্কারির প্রকৃত চিত্র এখন সামনে আসতে শুরু করেছে। অনেক ব্যাংক খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশনিং রাখতে গিয়ে মুনাফা করতে পারছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শেয়ারহোল্ডারদের ওপর। তবে পুরো খাতের চিত্রটি একেবারেই নেতিবাচক নয়; বরং এখানে এক ধরনের দ্বিমুখী গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে যখন ১০টি ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, অন্যদিকে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো হাজার কোটি টাকার ওপর রেকর্ড মুনাফা করে বিনিয়োগকারীদের চমকে দিয়েছে। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা মুনাফা করে দেশি মালিকানার ব্যাংকগুলোর মধ্যে অনন্য এক নজির স্থাপন করেছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাবে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ৭০ শতাংশেরই দরপতন ঘটেছে, যার ফলে ডিএসইএক্স সূচক কমেছে প্রায় ২১ পয়েন্ট। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সুশাসনের অভাব, তারল্য সংকট এবং খেলাপি ঋণের উচ্চ হারই কিছু ব্যাংককে এই খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতির পূর্বাভাস পেলেও সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা এই ধাক্কায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ব্যাংকগুলোর ওপর আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। অন্যথায় তারল্য সংকট ও দরপতনের এই ধারা বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদী দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

আপনার মতামত লিখুন