দিকপাল

প্রকৃতির ওপর মহাবিপর্যয়! টানা ১১ দিনের লড়াই শেষে হার মানলো জাপানের ভয়াবহ দাবানল।



প্রকৃতির ওপর মহাবিপর্যয়! টানা ১১ দিনের লড়াই শেষে হার মানলো জাপানের ভয়াবহ দাবানল।

জাপানের পার্বত্য ইওয়াতে অঞ্চলের বনাঞ্চলে গত ১১ দিন ধরে চলা বিধ্বংসী দাবানল অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গত ৩০ বছরের মধ্যে জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিসেবে চিহ্নিত এই দাবানলটি নেভাতে কয়েক শ দমকলকর্মী ও সহস্রাধিক সামরিক সদস্য দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করেছেন। গত এপ্রিলের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই অগ্নিকাণ্ড ইওয়াতে অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর বনভূমি গ্রাস করেছে, যা আয়তনের দিক থেকে নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কের প্রায় পাঁচ গুণ।

ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অন্তত আটটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুইজন সামান্য আহত হয়েছেন। আগুন দ্রুত লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় হাজার হাজার বাসিন্দাকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শনিবার ওৎসুচি শহরের মেয়র কোজো হিরানো সাংবাদিকদের জানান, আকাশপথ ও স্থলপথের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সেই সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বনের কোথাও কোথাও এখনো ধিকিধিকি আগুন জ্বলার আশঙ্কা থাকায় নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

কিয়োদো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানের আবহাওয়া ক্রমে শুষ্ক হয়ে ওঠায় দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। গত বছরও ইওয়াতে অঞ্চলে একটি ভয়াবহ দাবানলে প্রায় ২ হাজার ৬০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল, যা ছিল ১৯৭৫ সালের পর দেশটির বৃহত্তম অগ্নিকাণ্ড। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ দিন ধরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন যে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন খরাকে আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী করছে, যা বনাঞ্চলে এমন বিধ্বংসী দাবানল সৃষ্টির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে। ১১ দিনের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় আপাতত স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় জনপদে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


প্রকৃতির ওপর মহাবিপর্যয়! টানা ১১ দিনের লড়াই শেষে হার মানলো জাপানের ভয়াবহ দাবানল।

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

জাপানের পার্বত্য ইওয়াতে অঞ্চলের বনাঞ্চলে গত ১১ দিন ধরে চলা বিধ্বংসী দাবানল অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গত ৩০ বছরের মধ্যে জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিসেবে চিহ্নিত এই দাবানলটি নেভাতে কয়েক শ দমকলকর্মী ও সহস্রাধিক সামরিক সদস্য দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করেছেন। গত এপ্রিলের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই অগ্নিকাণ্ড ইওয়াতে অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর বনভূমি গ্রাস করেছে, যা আয়তনের দিক থেকে নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কের প্রায় পাঁচ গুণ।

ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অন্তত আটটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুইজন সামান্য আহত হয়েছেন। আগুন দ্রুত লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় হাজার হাজার বাসিন্দাকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শনিবার ওৎসুচি শহরের মেয়র কোজো হিরানো সাংবাদিকদের জানান, আকাশপথ ও স্থলপথের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সেই সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বনের কোথাও কোথাও এখনো ধিকিধিকি আগুন জ্বলার আশঙ্কা থাকায় নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

কিয়োদো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানের আবহাওয়া ক্রমে শুষ্ক হয়ে ওঠায় দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। গত বছরও ইওয়াতে অঞ্চলে একটি ভয়াবহ দাবানলে প্রায় ২ হাজার ৬০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল, যা ছিল ১৯৭৫ সালের পর দেশটির বৃহত্তম অগ্নিকাণ্ড। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ দিন ধরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন যে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন খরাকে আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী করছে, যা বনাঞ্চলে এমন বিধ্বংসী দাবানল সৃষ্টির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে। ১১ দিনের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় আপাতত স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় জনপদে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল