দিকপাল

তীব্র হচ্ছে বন্যার প্রকোপ, ৭টি পয়েন্টে বিপৎসীমা পার, বিপাকে লাখো মানুষ!



তীব্র হচ্ছে বন্যার প্রকোপ, ৭টি পয়েন্টে বিপৎসীমা পার, বিপাকে লাখো মানুষ!

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টা জুড়ে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা হাওর অঞ্চলের সাধারণ জনজীবনকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দেখছেন নদীর পানি চোখের সামনেই ফুসলে উঠছে। বিশেষ করে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ এবং হবিগঞ্জের মতো নিচু এলাকাগুলোতে পানি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাড়ছে। সরকারি তথ্যমতে, নেত্রকোনার জারিয়াঝাঞ্জাইলে ও হবিগঞ্জে গত একদিনেই ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা এই আকস্মিক পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ। ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয় অঞ্চলেও বৃষ্টির প্রকোপ থাকায় পাহাড়ি ঢল আসার প্রক্রিয়া থামছে না, যার ফলে সীমান্তের এপারের নদীগুলো ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায় নদীর পানি পরিমাপের স্তর থেকে। সোমবার সকালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাওর বেসিনের অন্তত সাতটি প্রধান নদীর পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার বেশ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে নেত্রকোনার মগরা নদী বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জের সুতাং নদী ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এলাকাগুলোকে প্লাবিত করছে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পয়েন্টে নলজুর নদীর পানি ৪০ সেন্টিমিটার এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদী বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। যদিও সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংশ নদে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, কিন্তু ধনু-বাউলাই ও মগরা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়ে গেছে। হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জে কালনি নদীও বর্তমানে বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে, যা সেখানকার ফসলি জমি এবং বসতবাড়ির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভয়াবহ ব্যাপার হলো, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলগুলোতে পানি বাড়ার গতি অত্যন্ত ধীর হলেও তা থিতু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যা দীর্ঘস্থায়ী বন্যার ইঙ্গিত দেয়। আবহাওয়া অফিস ও ভারতীয় বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি এলাকায় এখনো বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। চেরাপুঞ্জির বৃষ্টিপাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের হাওরগুলোতে পড়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। পাউবোর পূর্বাভাস বলছে, যদি বৃষ্টিপাতের এই ধারা আগামী কয়েকদিন বজায় থাকে, তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিচু এলাকার মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হলেও ফসলি জমি ও গবাদি পশু নিয়ে সাধারণ কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


তীব্র হচ্ছে বন্যার প্রকোপ, ৭টি পয়েন্টে বিপৎসীমা পার, বিপাকে লাখো মানুষ!

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টা জুড়ে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা হাওর অঞ্চলের সাধারণ জনজীবনকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দেখছেন নদীর পানি চোখের সামনেই ফুসলে উঠছে। বিশেষ করে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ এবং হবিগঞ্জের মতো নিচু এলাকাগুলোতে পানি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাড়ছে। সরকারি তথ্যমতে, নেত্রকোনার জারিয়াঝাঞ্জাইলে ও হবিগঞ্জে গত একদিনেই ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা এই আকস্মিক পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ। ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয় অঞ্চলেও বৃষ্টির প্রকোপ থাকায় পাহাড়ি ঢল আসার প্রক্রিয়া থামছে না, যার ফলে সীমান্তের এপারের নদীগুলো ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায় নদীর পানি পরিমাপের স্তর থেকে। সোমবার সকালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাওর বেসিনের অন্তত সাতটি প্রধান নদীর পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার বেশ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে নেত্রকোনার মগরা নদী বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জের সুতাং নদী ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এলাকাগুলোকে প্লাবিত করছে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পয়েন্টে নলজুর নদীর পানি ৪০ সেন্টিমিটার এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদী বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। যদিও সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংশ নদে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, কিন্তু ধনু-বাউলাই ও মগরা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়ে গেছে। হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জে কালনি নদীও বর্তমানে বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে, যা সেখানকার ফসলি জমি এবং বসতবাড়ির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভয়াবহ ব্যাপার হলো, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলগুলোতে পানি বাড়ার গতি অত্যন্ত ধীর হলেও তা থিতু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যা দীর্ঘস্থায়ী বন্যার ইঙ্গিত দেয়। আবহাওয়া অফিস ও ভারতীয় বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি এলাকায় এখনো বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। চেরাপুঞ্জির বৃষ্টিপাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের হাওরগুলোতে পড়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। পাউবোর পূর্বাভাস বলছে, যদি বৃষ্টিপাতের এই ধারা আগামী কয়েকদিন বজায় থাকে, তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিচু এলাকার মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হলেও ফসলি জমি ও গবাদি পশু নিয়ে সাধারণ কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল