নিজেদের ন্যায্য পাওনা আর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ নিয়ে রাজধানী ঢাকার মিরপুর-২ এলাকায় অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আজ এক ব্যতিক্রমী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কয়েক শ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ‘গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি শুরু হয়। জীবনের সোনালি সময়গুলো যে প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধির পেছনে ব্যয় করেছেন, বার্ধক্যের এই পর্যায়ে এসে সেই প্রতিষ্ঠানের দুয়ারেই আজ তাদের দাঁড়াতে হয়েছে মৌলিক কিছু অধিকার আদায়ের দাবিতে।
আন্দোলনরত সাবেক কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ১৮ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস। তারা মূলত তিনটি প্রধান দাবি নিয়ে এখানে সমবেত হয়েছেন। প্রথমত, যারা শতভাগ পেনশন সমর্পণ করেছেন, তাদের জন্য দ্রুত চিকিৎসা ও উৎসব ভাতার ব্যবস্থা করা। দ্বিতীয়ত, অবসরের ১৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী পেনশন পুনঃস্থাপন এবং মাসিক পেনশন সুবিধা চালু করা। তৃতীয়ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবিটি হলো—অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০০৪ এবং ২০১৬ সালে জারি করা প্রজ্ঞাপনগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এই নিয়মগুলো যথাযথভাবে মানা হলেও গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে তা বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রেখেছে।
বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেক প্রবীণ কর্মকর্তা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংকের নীতি অনুযায়ী চাকরি ছাড়ার ১৫ বছর পূর্ণ হলে পেনশন সুবিধা পুনরায় চালু হওয়ার কথা থাকলেও আমরা আজ ১৮ বছর ধরে এর কোনো সুফল পাচ্ছি না। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছি, কিন্তু বারবারই আমাদের শুধু আশ্বাসের বাণী শোনানো হয়েছে, বাস্তবে কিছুই মেলেনি।” তাদের দাবি, একজন কর্মী অবসরে যাওয়ার পর থেকেই উৎসব ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার হকদার, যা অন্য সব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান। অথচ গ্রামীণ ব্যাংকের মতো একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে এই বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না।
কর্মসূচি চলাকালীন তারা বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, অনেক যোগ্য ও দক্ষ কর্মীকে চাকরির বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই পরিকল্পিতভাবে এবং অনেকটা জোরপূর্বক বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধরণের সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন কর্মীরা তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অন্যদিকে সামাজিকভাবেও হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন। আজকের এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যতোদিন পর্যন্ত তাদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হবে, ততোদিন তারা রাজপথ ছাড়বেন না। প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে থাকা এসব সাবেক কর্মীদের চোখে-মুখে ছিল হারানো অধিকার ফিরে পাওয়ার দৃঢ় সংকল্প।

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
নিজেদের ন্যায্য পাওনা আর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ নিয়ে রাজধানী ঢাকার মিরপুর-২ এলাকায় অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আজ এক ব্যতিক্রমী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কয়েক শ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ‘গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি শুরু হয়। জীবনের সোনালি সময়গুলো যে প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধির পেছনে ব্যয় করেছেন, বার্ধক্যের এই পর্যায়ে এসে সেই প্রতিষ্ঠানের দুয়ারেই আজ তাদের দাঁড়াতে হয়েছে মৌলিক কিছু অধিকার আদায়ের দাবিতে।
আন্দোলনরত সাবেক কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ১৮ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস। তারা মূলত তিনটি প্রধান দাবি নিয়ে এখানে সমবেত হয়েছেন। প্রথমত, যারা শতভাগ পেনশন সমর্পণ করেছেন, তাদের জন্য দ্রুত চিকিৎসা ও উৎসব ভাতার ব্যবস্থা করা। দ্বিতীয়ত, অবসরের ১৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী পেনশন পুনঃস্থাপন এবং মাসিক পেনশন সুবিধা চালু করা। তৃতীয়ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবিটি হলো—অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০০৪ এবং ২০১৬ সালে জারি করা প্রজ্ঞাপনগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এই নিয়মগুলো যথাযথভাবে মানা হলেও গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে তা বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রেখেছে।
বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেক প্রবীণ কর্মকর্তা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংকের নীতি অনুযায়ী চাকরি ছাড়ার ১৫ বছর পূর্ণ হলে পেনশন সুবিধা পুনরায় চালু হওয়ার কথা থাকলেও আমরা আজ ১৮ বছর ধরে এর কোনো সুফল পাচ্ছি না। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছি, কিন্তু বারবারই আমাদের শুধু আশ্বাসের বাণী শোনানো হয়েছে, বাস্তবে কিছুই মেলেনি।” তাদের দাবি, একজন কর্মী অবসরে যাওয়ার পর থেকেই উৎসব ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার হকদার, যা অন্য সব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান। অথচ গ্রামীণ ব্যাংকের মতো একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে এই বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না।
কর্মসূচি চলাকালীন তারা বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, অনেক যোগ্য ও দক্ষ কর্মীকে চাকরির বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই পরিকল্পিতভাবে এবং অনেকটা জোরপূর্বক বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধরণের সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন কর্মীরা তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অন্যদিকে সামাজিকভাবেও হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন। আজকের এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যতোদিন পর্যন্ত তাদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হবে, ততোদিন তারা রাজপথ ছাড়বেন না। প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে থাকা এসব সাবেক কর্মীদের চোখে-মুখে ছিল হারানো অধিকার ফিরে পাওয়ার দৃঢ় সংকল্প।

আপনার মতামত লিখুন