দিকপাল

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন ধাপ বাংলাদেশের কৌশলে ইতিবাচক বার্তা ভারতের


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ | ১২:৩১ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন ধাপ বাংলাদেশের কৌশলে ইতিবাচক বার্তা ভারতের

ভারতের শীর্ষ শিল্প সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কৌশলের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। সংগঠনটি মনে করছে, বাংলাদেশের এই বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের নিজস্ব উন্নয়ন অভিজ্ঞতার সঙ্গে দারুণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা দুই দেশের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। গত সোমবার নয়াদিল্লিতে সিআইআই সদর দপ্তরে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভারতের শিল্প খাতের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব পঙ্কজ ট্যান্ডন এসব ইতিবাচক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

পঙ্কজ ট্যান্ডন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান পর্যায়টি এখন আর কেবল বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি এখন বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতাকে আরও এগিয়ে নিতে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তার মতে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দৃষ্টিভঙ্গি মূলত দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীল খাতের উন্নয়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কৌশলটি কোনো অন্তর্মুখী বা সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা নয়; বরং এটি সুপরিকল্পিত আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতাকে বিশ্বমানের করে তোলার একটি দূরদর্শী উদ্যোগ।

বাণিজ্যিক পরিসংখ্যানে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। অন্যদিকে, সমগ্র এশিয়ায় ভারত হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ট্যান্ডন বিশ্বাস করেন, এই অর্থনৈতিক সহযোগিতাই মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল ভিত্তি। বাজারে একে অপরের প্রবেশাধিকার আরও সহজ করা, অশুল্ক বাধাগুলো কমিয়ে আনা এবং সীমান্ত অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করা গেলে এই বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা এবং ভারতের উৎপাদন ও সেবা খাত একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে, যা একটি সমন্বিত আঞ্চলিক ‘ভ্যালু চেইন’ গঠনের বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে সিআইআই প্রতিনিধিরা জানান, প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) শুধু পণ্য বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি সেবা খাত, বিনিয়োগ সহায়তা, প্রযুক্তিগত কো-অপারেশন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করবে। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি চিকিৎসা পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির মতো নতুন নতুন খাতেও দুই দেশের কাজ করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে, তা মোকাবিলায় ভারতের উৎপাদন দক্ষতা ও ডিজিটাল অবকাঠামোর অভিজ্ঞতা সহায়ক হতে পারে। পরিশেষে, দুই প্রতিবেশীর অর্থনৈতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে বাংলাদেশের অংশীদার সংগঠনগুলোর সঙ্গে বিটুবি (B2B) সম্পর্ক গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে সিআইআই।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন ধাপ বাংলাদেশের কৌশলে ইতিবাচক বার্তা ভারতের

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের শীর্ষ শিল্প সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কৌশলের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। সংগঠনটি মনে করছে, বাংলাদেশের এই বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের নিজস্ব উন্নয়ন অভিজ্ঞতার সঙ্গে দারুণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা দুই দেশের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। গত সোমবার নয়াদিল্লিতে সিআইআই সদর দপ্তরে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভারতের শিল্প খাতের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব পঙ্কজ ট্যান্ডন এসব ইতিবাচক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

পঙ্কজ ট্যান্ডন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান পর্যায়টি এখন আর কেবল বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি এখন বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতাকে আরও এগিয়ে নিতে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তার মতে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দৃষ্টিভঙ্গি মূলত দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীল খাতের উন্নয়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কৌশলটি কোনো অন্তর্মুখী বা সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা নয়; বরং এটি সুপরিকল্পিত আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতাকে বিশ্বমানের করে তোলার একটি দূরদর্শী উদ্যোগ।

বাণিজ্যিক পরিসংখ্যানে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। অন্যদিকে, সমগ্র এশিয়ায় ভারত হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ট্যান্ডন বিশ্বাস করেন, এই অর্থনৈতিক সহযোগিতাই মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল ভিত্তি। বাজারে একে অপরের প্রবেশাধিকার আরও সহজ করা, অশুল্ক বাধাগুলো কমিয়ে আনা এবং সীমান্ত অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করা গেলে এই বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা এবং ভারতের উৎপাদন ও সেবা খাত একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে, যা একটি সমন্বিত আঞ্চলিক ‘ভ্যালু চেইন’ গঠনের বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে সিআইআই প্রতিনিধিরা জানান, প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) শুধু পণ্য বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি সেবা খাত, বিনিয়োগ সহায়তা, প্রযুক্তিগত কো-অপারেশন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করবে। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি চিকিৎসা পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির মতো নতুন নতুন খাতেও দুই দেশের কাজ করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে, তা মোকাবিলায় ভারতের উৎপাদন দক্ষতা ও ডিজিটাল অবকাঠামোর অভিজ্ঞতা সহায়ক হতে পারে। পরিশেষে, দুই প্রতিবেশীর অর্থনৈতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে বাংলাদেশের অংশীদার সংগঠনগুলোর সঙ্গে বিটুবি (B2B) সম্পর্ক গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে সিআইআই।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল