বিশ্বজুড়ে মেগাসিটিগুলোর ক্রমবর্ধমান সমস্যার মধ্যে বায়ুদূষণ এখন সবচেয়ে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এই দূষণের কবলে থাকলেও, সাধারণত প্রত্যাশা করা হয় যে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত বাতাসের বিষাক্ত কণাগুলোকে কমিয়ে আনবে। কিন্তু সাম্প্রতিক চিত্রটি অত্যন্ত হতাশাজনক; টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি সত্ত্বেও ঢাকার বায়ুমানে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় আবারো শীর্ষস্থান দখল করেছে ঢাকা। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা বায়ুমান সূচক (AQI) রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৭। এই সূচকটি মূলত ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরি হিসেবে চিহ্নিত, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকার ঠিক পরেই ১৫৬ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের চেংদু শহর। তালিকায় তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে যথাক্রমে কুয়েত সিটি (১৫৪ স্কোর) এবং ভারতের দিল্লি (১৪৪ স্কোর) অবস্থান করছে।
বায়ুমান সূচকের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে ‘ভালো’ বলা হয় এবং ৫১ থেকে ১০০-কে ‘মাঝারি’ ধরা হয়। তবে স্কোর যখন ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে পৌঁছায়, তখন তা সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমান ঢাকার পরিস্থিতি অর্থাৎ ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যবর্তী স্কোর সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ুকে নির্দেশ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন এই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে চলে যায়, তখন তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে বাড়ির বাইরে বের হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অন্যদেরও বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার কথা বলা হয়। এমনকি স্কোর ৩০১ থেকে ৪০০ অতিক্রম করলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা শহরের প্রতিটি বাসিন্দার জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বৃষ্টির মৌসুমেও ঢাকার বাতাসের এমন নাজুক পরিস্থিতি পরিবেশবিদদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
বিশ্বজুড়ে মেগাসিটিগুলোর ক্রমবর্ধমান সমস্যার মধ্যে বায়ুদূষণ এখন সবচেয়ে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এই দূষণের কবলে থাকলেও, সাধারণত প্রত্যাশা করা হয় যে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত বাতাসের বিষাক্ত কণাগুলোকে কমিয়ে আনবে। কিন্তু সাম্প্রতিক চিত্রটি অত্যন্ত হতাশাজনক; টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি সত্ত্বেও ঢাকার বায়ুমানে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় আবারো শীর্ষস্থান দখল করেছে ঢাকা। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা বায়ুমান সূচক (AQI) রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৭। এই সূচকটি মূলত ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরি হিসেবে চিহ্নিত, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকার ঠিক পরেই ১৫৬ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের চেংদু শহর। তালিকায় তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে যথাক্রমে কুয়েত সিটি (১৫৪ স্কোর) এবং ভারতের দিল্লি (১৪৪ স্কোর) অবস্থান করছে।
বায়ুমান সূচকের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে ‘ভালো’ বলা হয় এবং ৫১ থেকে ১০০-কে ‘মাঝারি’ ধরা হয়। তবে স্কোর যখন ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে পৌঁছায়, তখন তা সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমান ঢাকার পরিস্থিতি অর্থাৎ ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যবর্তী স্কোর সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ুকে নির্দেশ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন এই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে চলে যায়, তখন তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে বাড়ির বাইরে বের হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অন্যদেরও বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার কথা বলা হয়। এমনকি স্কোর ৩০১ থেকে ৪০০ অতিক্রম করলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা শহরের প্রতিটি বাসিন্দার জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বৃষ্টির মৌসুমেও ঢাকার বাতাসের এমন নাজুক পরিস্থিতি পরিবেশবিদদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।

আপনার মতামত লিখুন