শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে গত এক মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে, তা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। গত ২৬ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৩০ দিনের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৮টি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে আড়াইহাজার, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকায় ডাকাত দলগুলো এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আড়াইহাজারের বিশনন্দী ইউনিয়নে এক রাতেই তিনটি বাড়িতে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। শুধু বসতবাড়ি নয়, মহাসড়কগুলোও এখন সাধারণ মানুষের কাছে এক একটি ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রবাসফেরত এক নারীর ওপর হামলা ও লুটপাটের ঘটনা আইনশৃঙ্খলার নাজুক অবস্থাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও ভুক্তভোগীদের মধ্যে মামলা করার ব্যাপারে এক ধরনের চরম অনীহা ও অনাস্থা দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবারই অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশের কাছে গিয়ে আইনি সহায়তা পাওয়ার চেয়ে তদন্তের নামে হয়রানির শিকার হওয়ার ভয়ই তাদের বেশি। একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ার আশা তো দূরের কথা, মামলার তদন্তের পেছনে সময় ও অর্থ ব্যয় করাকে তারা নিরর্থক মনে করছেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, মানুষ যখন বিচার পাওয়ার চেয়ে হয়রানিকে বেশি ভয় পায়, তখন বুঝতে হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খাদের কিনারে এসে ঠেকেছে। যদিও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা কাজ করছেন এবং গত এক মাসে ১৭ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেলায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কতটা চরমে পৌঁছেছে, তা বোঝা যায় খোদ পুলিশের সম্পদ ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো থেকে। যে থানা সাধারণ মানুষের নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভেতর ও সংলগ্ন এলাকা থেকেই গত দুই বছরে পুলিশের পাঁচটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি পুলিশ সদস্যরাও নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পদ রক্ষা করতে পারছেন না দেখে সাধারণ মানুষের মনে ভীতি আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও অন্ধকারে চোর শনাক্ত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত থমকে আছে। জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনেক সময় এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে সঠিক তথ্য জানেন না বলে যে মন্তব্য করছেন, তা প্রশাসনের সমন্বয়হীনতাকেই নির্দেশ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির সাক্ষী হয়ে আছে পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনতাইয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো। গত ৩০ এপ্রিল বন্দর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হন পুলিশ সদস্যরা, যেখানে দুর্বৃত্তরা পুলিশের একটি শর্টগান ছিনিয়ে নেয় এবং কর্মকর্তাদের কুপিয়ে জখম করে। এর আগে মার্চ মাসেও এক এএসআইয়ের পিস্তল লুটের ঘটনা ঘটেছিল। যদিও পরবর্তীতে এই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এমন আক্রমণ সাধারণ মানুষের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। নাগরিক কমিটির মতে, মাদক, বেকারত্ব এবং কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া আচরণই এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রধান কারণ। দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে শিল্পনগরীর এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে গত এক মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে, তা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। গত ২৬ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৩০ দিনের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৮টি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে আড়াইহাজার, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও ফতুল্লা এলাকায় ডাকাত দলগুলো এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আড়াইহাজারের বিশনন্দী ইউনিয়নে এক রাতেই তিনটি বাড়িতে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। শুধু বসতবাড়ি নয়, মহাসড়কগুলোও এখন সাধারণ মানুষের কাছে এক একটি ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রবাসফেরত এক নারীর ওপর হামলা ও লুটপাটের ঘটনা আইনশৃঙ্খলার নাজুক অবস্থাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও ভুক্তভোগীদের মধ্যে মামলা করার ব্যাপারে এক ধরনের চরম অনীহা ও অনাস্থা দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবারই অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশের কাছে গিয়ে আইনি সহায়তা পাওয়ার চেয়ে তদন্তের নামে হয়রানির শিকার হওয়ার ভয়ই তাদের বেশি। একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ার আশা তো দূরের কথা, মামলার তদন্তের পেছনে সময় ও অর্থ ব্যয় করাকে তারা নিরর্থক মনে করছেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, মানুষ যখন বিচার পাওয়ার চেয়ে হয়রানিকে বেশি ভয় পায়, তখন বুঝতে হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খাদের কিনারে এসে ঠেকেছে। যদিও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা কাজ করছেন এবং গত এক মাসে ১৭ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেলায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কতটা চরমে পৌঁছেছে, তা বোঝা যায় খোদ পুলিশের সম্পদ ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো থেকে। যে থানা সাধারণ মানুষের নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভেতর ও সংলগ্ন এলাকা থেকেই গত দুই বছরে পুলিশের পাঁচটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি পুলিশ সদস্যরাও নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পদ রক্ষা করতে পারছেন না দেখে সাধারণ মানুষের মনে ভীতি আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও অন্ধকারে চোর শনাক্ত না হওয়ার কারণ দেখিয়ে অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত থমকে আছে। জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনেক সময় এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে সঠিক তথ্য জানেন না বলে যে মন্তব্য করছেন, তা প্রশাসনের সমন্বয়হীনতাকেই নির্দেশ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির সাক্ষী হয়ে আছে পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনতাইয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো। গত ৩০ এপ্রিল বন্দর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হন পুলিশ সদস্যরা, যেখানে দুর্বৃত্তরা পুলিশের একটি শর্টগান ছিনিয়ে নেয় এবং কর্মকর্তাদের কুপিয়ে জখম করে। এর আগে মার্চ মাসেও এক এএসআইয়ের পিস্তল লুটের ঘটনা ঘটেছিল। যদিও পরবর্তীতে এই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এমন আক্রমণ সাধারণ মানুষের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। নাগরিক কমিটির মতে, মাদক, বেকারত্ব এবং কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া আচরণই এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রধান কারণ। দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে শিল্পনগরীর এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন