দিকপাল

এক টিকিটে ২৪ কোটি! আকাশচুম্বী দামকে ‘যুক্তিসঙ্গত’ দাবি করলেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো


স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ | ১১:৫৮ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

এক টিকিটে ২৪ কোটি! আকাশচুম্বী দামকে ‘যুক্তিসঙ্গত’ দাবি করলেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সম্প্রতি জানা গেছে, ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম অবিশ্বাস্যভাবে ২৪ কোটি টাকা পর্যন্ত উঠেছে। সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের মাঝে এই নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ থাকলেও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো এই উচ্চমূল্যের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। গত মঙ্গলবার বেভার্লি হিলসে আয়োজিত মিলকেন ইনস্টিটিউট গ্লোবাল কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি জানান, আমেরিকার বাজার ব্যবস্থায় চড়া দামে টিকিট বিক্রির যে বৈধ সুযোগ রয়েছে, ফিফার জন্য তা কাজে লাগানো জরুরি ছিল।

ইনফান্তিনো দাবি করেন, রিসেল মার্কেটে বা পুনরায় বিক্রির বাজারে কেউ যদি একটি টিকিট ২০ লাখ ডলারে (প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি টাকা) বিক্রির প্রস্তাব দেয়, তার মানে এই নয় যে টিকিটের প্রকৃত দাম তত। তিনি কিছুটা রসিকতা করে বলেন, যদি কেউ সত্যিই ২০ লাখ ডলারে ফাইনালের টিকিট কেনে, তবে তিনি নিজে সেই দর্শকের কাছে ‘হট ডগ’ এবং ‘কোক’ নিয়ে যাবেন, যাতে তার অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হয়। তবে ফিফার নিজস্ব রিসেল প্ল্যাটফর্ম ‘ফিফা মার্কেটপ্লেস’-এই গত সপ্তাহে ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের ফাইনালের জন্য চারটি টিকিট প্রতিটি ২০ লাখ ডলারেরও বেশি দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হতে দেখা গেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল মূল্য ছিল প্রায় ১,৬০০ ডলার। অথচ ২০২৬ বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে সেই প্রাথমিক দামই ধরা হয়েছে প্রায় ১১,০০০ ডলার। দামের এই বিশাল ব্যবধানকে ফুটবল ভক্তদের প্রতি ‘বিশাল বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ফ্যান সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ (এফএসই)। সংগঠনটি ইতিমধ্যে এই চড়া মূল্যের প্রতিবাদে ইউরোপিয়ান কমিশনে ফিফার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নিয়েছে।

ফিফা সভাপতির মতে, আমেরিকার বিনোদন বাজার অত্যন্ত উন্নত এবং সেখানে টিকিটের পুনর্বিক্রয় বা রিসেল করা সম্পূর্ণ বৈধ। তিনি যুক্তি দেন যে, ফিফা যদি কম দামে টিকিট ছাড়ে, তবে কালোবাজারিরা তা কিনে নিয়ে আরও বহুগুণ বেশি দামে বিক্রি করবে। তাই বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করাকে তিনি ‘যুক্তিসঙ্গত’ বলে মনে করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এখন পর্যন্ত ৫০ কোটিরও বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে, যা গত দুটি বিশ্বকাপের মোট আবেদনের তুলনায় ১০ গুণ বেশি। সাধারণ দর্শকদের কথা ভেবে গ্রুপ পর্বের ২৫ শতাংশ টিকিটের দাম ৩০০ ডলারের নিচে রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমেরিকায় সাধারণ কলেজের একটি খেলা দেখতেও এর চেয়ে বেশি খরচ করতে হয়, আর এটি তো বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়া আসর।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


এক টিকিটে ২৪ কোটি! আকাশচুম্বী দামকে ‘যুক্তিসঙ্গত’ দাবি করলেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সম্প্রতি জানা গেছে, ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম অবিশ্বাস্যভাবে ২৪ কোটি টাকা পর্যন্ত উঠেছে। সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের মাঝে এই নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ থাকলেও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো এই উচ্চমূল্যের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। গত মঙ্গলবার বেভার্লি হিলসে আয়োজিত মিলকেন ইনস্টিটিউট গ্লোবাল কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি জানান, আমেরিকার বাজার ব্যবস্থায় চড়া দামে টিকিট বিক্রির যে বৈধ সুযোগ রয়েছে, ফিফার জন্য তা কাজে লাগানো জরুরি ছিল।

ইনফান্তিনো দাবি করেন, রিসেল মার্কেটে বা পুনরায় বিক্রির বাজারে কেউ যদি একটি টিকিট ২০ লাখ ডলারে (প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি টাকা) বিক্রির প্রস্তাব দেয়, তার মানে এই নয় যে টিকিটের প্রকৃত দাম তত। তিনি কিছুটা রসিকতা করে বলেন, যদি কেউ সত্যিই ২০ লাখ ডলারে ফাইনালের টিকিট কেনে, তবে তিনি নিজে সেই দর্শকের কাছে ‘হট ডগ’ এবং ‘কোক’ নিয়ে যাবেন, যাতে তার অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হয়। তবে ফিফার নিজস্ব রিসেল প্ল্যাটফর্ম ‘ফিফা মার্কেটপ্লেস’-এই গত সপ্তাহে ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের ফাইনালের জন্য চারটি টিকিট প্রতিটি ২০ লাখ ডলারেরও বেশি দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হতে দেখা গেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল মূল্য ছিল প্রায় ১,৬০০ ডলার। অথচ ২০২৬ বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে সেই প্রাথমিক দামই ধরা হয়েছে প্রায় ১১,০০০ ডলার। দামের এই বিশাল ব্যবধানকে ফুটবল ভক্তদের প্রতি ‘বিশাল বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ফ্যান সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ (এফএসই)। সংগঠনটি ইতিমধ্যে এই চড়া মূল্যের প্রতিবাদে ইউরোপিয়ান কমিশনে ফিফার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নিয়েছে।

ফিফা সভাপতির মতে, আমেরিকার বিনোদন বাজার অত্যন্ত উন্নত এবং সেখানে টিকিটের পুনর্বিক্রয় বা রিসেল করা সম্পূর্ণ বৈধ। তিনি যুক্তি দেন যে, ফিফা যদি কম দামে টিকিট ছাড়ে, তবে কালোবাজারিরা তা কিনে নিয়ে আরও বহুগুণ বেশি দামে বিক্রি করবে। তাই বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করাকে তিনি ‘যুক্তিসঙ্গত’ বলে মনে করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এখন পর্যন্ত ৫০ কোটিরও বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে, যা গত দুটি বিশ্বকাপের মোট আবেদনের তুলনায় ১০ গুণ বেশি। সাধারণ দর্শকদের কথা ভেবে গ্রুপ পর্বের ২৫ শতাংশ টিকিটের দাম ৩০০ ডলারের নিচে রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমেরিকায় সাধারণ কলেজের একটি খেলা দেখতেও এর চেয়ে বেশি খরচ করতে হয়, আর এটি তো বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়া আসর।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল