দিকপাল

বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ: চালু হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬ | ০৭:৩০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ: চালু হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়াকে ঘিরে দেশের এভিয়েশন খাতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করে এই জেলাকে একটি আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বগুড়া বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের এই উচ্চাভিলাষী ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অধিবাসী এবং ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ দিকনির্দেশনায় তারা বগুড়ার এই সম্ভাবনা যাচাই করতে এসেছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, উত্তরাঞ্চলের বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে বগুড়াকে দেশের অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে পরিণত করা হবে। এই বৃহৎ প্রকল্পের যাত্রা বগুড়া থেকেই শুরু হচ্ছে বলে তিনি বগুড়াবাসীকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানান। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি কেবল একটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত হয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নেবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ সময় প্রকল্পের কারিগরি দিকগুলো তুলে ধরে জানান, এখানে কেবল নামমাত্র বিমানবন্দর নয়, বরং ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ একটি রানওয়ে নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এই দীর্ঘ রানওয়েটি এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে দেশীয় উড়োজাহাজের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটের বড় বড় উড়োজাহাজও অনায়াসে অবতরণ করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক কার্গো ফ্যাসিলিটি বা পণ্য পরিবহন সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত জেলাগুলো থেকে সরাসরি কৃষি ও শিল্পপণ্য বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

এভিয়েশন খাতের দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে এই বিমানবন্দরে একটি উচ্চমানের পাইলট ট্রেনিং একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়। এতে দেশের এভিয়েশন শিক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। পরিদর্শনে মন্ত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং পিছিয়ে পড়া জনপদকে আধুনিক বিশ্বের সাথে আকাশপথে যুক্ত করার এক দৃঢ় অঙ্গীকার।

উচ্চপর্যায়ের এই পরিদর্শন দলে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার এনডিসি। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত থেকে প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি ও কৌশলগত দিকগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। সরকারের এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে বগুড়া হবে দেশের এভিয়েশন সেক্টরের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ: চালু হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়াকে ঘিরে দেশের এভিয়েশন খাতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করে এই জেলাকে একটি আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বগুড়া বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের এই উচ্চাভিলাষী ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অধিবাসী এবং ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ দিকনির্দেশনায় তারা বগুড়ার এই সম্ভাবনা যাচাই করতে এসেছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, উত্তরাঞ্চলের বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে বগুড়াকে দেশের অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে পরিণত করা হবে। এই বৃহৎ প্রকল্পের যাত্রা বগুড়া থেকেই শুরু হচ্ছে বলে তিনি বগুড়াবাসীকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানান। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি কেবল একটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত হয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নেবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ সময় প্রকল্পের কারিগরি দিকগুলো তুলে ধরে জানান, এখানে কেবল নামমাত্র বিমানবন্দর নয়, বরং ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ একটি রানওয়ে নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এই দীর্ঘ রানওয়েটি এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে দেশীয় উড়োজাহাজের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটের বড় বড় উড়োজাহাজও অনায়াসে অবতরণ করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক কার্গো ফ্যাসিলিটি বা পণ্য পরিবহন সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত জেলাগুলো থেকে সরাসরি কৃষি ও শিল্পপণ্য বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

এভিয়েশন খাতের দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে এই বিমানবন্দরে একটি উচ্চমানের পাইলট ট্রেনিং একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়। এতে দেশের এভিয়েশন শিক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। পরিদর্শনে মন্ত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং পিছিয়ে পড়া জনপদকে আধুনিক বিশ্বের সাথে আকাশপথে যুক্ত করার এক দৃঢ় অঙ্গীকার।

উচ্চপর্যায়ের এই পরিদর্শন দলে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার এনডিসি। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত থেকে প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি ও কৌশলগত দিকগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। সরকারের এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে বগুড়া হবে দেশের এভিয়েশন সেক্টরের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখবে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল