মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইটুরি প্রদেশে নতুন করে মহামারি ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আফ্রিকার সর্বোচ্চ জনস্বাস্থ্য সংস্থা আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এই উদ্বেগের খবরটি নিশ্চিত করেছে। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আফ্রিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা আফ্রিকা সিডিসি একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, কঙ্গোর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে তারা ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসেছে। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো আক্রান্ত দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া এবং ভাইরাসের আঞ্চলিক বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আফ্রিকা সিডিসির দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৪৬ জন সন্দেহভাজন ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৬৫ জন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীরভাবে চিন্তিত করে তুলেছে। আক্রান্ত এবং মৃত্যুর এই ঘটনাগুলোর সিংহভাগই মূলত দেশটির মঙ্গওয়ালু এবং রুয়ামপারা নামক দুটি বিশেষ স্বাস্থ্য অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকদের বিশেষ পরীক্ষাগারে বা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া রোগীদের মধ্যে আরও চারজন নতুন করে মারা গেছেন। স্বাস্থ্য সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, আক্রান্তদের শরীর থেকে নেওয়া নমুনার প্রাথমিক পরীক্ষায় ইবোলা ভাইরাসের একটি ভিন্ন রূপ বা নন-জায়ার স্ট্রেইনের উপস্থিতির লক্ষণ দেখা গেছে। এই নতুন রূপটির প্রকৃত চরিত্র, আক্রমণের তীব্রতা এবং আচরণ আরও নিখুঁতভাবে বোঝার জন্য বর্তমানে বিজ্ঞানীদের তত্ত্বাবধানে জিন সিকোয়েন্সিং বা জিনগত বিন্যাস বিশ্লেষণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আফ্রিকা সিডিসি এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, বুনিয়া ও রুয়ামপারা শহরের অত্যধিক ঘনবসতি, সাধারণ মানুষের অবাধ ও ব্যাপক চলাচল এবং মঙ্গওয়ালু অঞ্চলের খনি এলাকাগুলোতে শ্রমিকদের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে এই মারাত্মক রোগটি খুব দ্রুত চারপাশের নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার এক বিশাল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ইবোলা একটি অত্যন্ত মারাত্মক এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি নিশ্চিত প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে পরিচিত। এই রোগটি সাধারণত আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন তরল পদার্থ, যেমন রক্ত, লালা বা ঘাম, ভাইরাস দ্বারা দূষিত কোনো বস্তু অথবা মৃতদেহের সরাসরি সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে সুস্থ মানুষের শরীরে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণে আক্রান্তদের সংস্পর্শে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইটুরি প্রদেশে নতুন করে মহামারি ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আফ্রিকার সর্বোচ্চ জনস্বাস্থ্য সংস্থা আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এই উদ্বেগের খবরটি নিশ্চিত করেছে। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আফ্রিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা আফ্রিকা সিডিসি একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, কঙ্গোর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে তারা ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসেছে। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো আক্রান্ত দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া এবং ভাইরাসের আঞ্চলিক বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আফ্রিকা সিডিসির দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৪৬ জন সন্দেহভাজন ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৬৫ জন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীরভাবে চিন্তিত করে তুলেছে। আক্রান্ত এবং মৃত্যুর এই ঘটনাগুলোর সিংহভাগই মূলত দেশটির মঙ্গওয়ালু এবং রুয়ামপারা নামক দুটি বিশেষ স্বাস্থ্য অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকদের বিশেষ পরীক্ষাগারে বা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া রোগীদের মধ্যে আরও চারজন নতুন করে মারা গেছেন। স্বাস্থ্য সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, আক্রান্তদের শরীর থেকে নেওয়া নমুনার প্রাথমিক পরীক্ষায় ইবোলা ভাইরাসের একটি ভিন্ন রূপ বা নন-জায়ার স্ট্রেইনের উপস্থিতির লক্ষণ দেখা গেছে। এই নতুন রূপটির প্রকৃত চরিত্র, আক্রমণের তীব্রতা এবং আচরণ আরও নিখুঁতভাবে বোঝার জন্য বর্তমানে বিজ্ঞানীদের তত্ত্বাবধানে জিন সিকোয়েন্সিং বা জিনগত বিন্যাস বিশ্লেষণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আফ্রিকা সিডিসি এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, বুনিয়া ও রুয়ামপারা শহরের অত্যধিক ঘনবসতি, সাধারণ মানুষের অবাধ ও ব্যাপক চলাচল এবং মঙ্গওয়ালু অঞ্চলের খনি এলাকাগুলোতে শ্রমিকদের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে এই মারাত্মক রোগটি খুব দ্রুত চারপাশের নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার এক বিশাল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ইবোলা একটি অত্যন্ত মারাত্মক এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি নিশ্চিত প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে পরিচিত। এই রোগটি সাধারণত আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন তরল পদার্থ, যেমন রক্ত, লালা বা ঘাম, ভাইরাস দ্বারা দূষিত কোনো বস্তু অথবা মৃতদেহের সরাসরি সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে সুস্থ মানুষের শরীরে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণে আক্রান্তদের সংস্পর্শে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন