উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আসন্ন ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এবারও ২৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি অস্থায়ী হাট বসানো হবে। ইতিমধ্যে দুই সিটির পক্ষ থেকেই অধিকাংশ হাটের ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। উত্তর সিটির ১৫টি হাটের মধ্যে সাতটির ইজারা সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং, কালশী বালুর মাঠ, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, পূর্ব হাজীপাড়ার ইকরা মাদ্রাসা এলাকা, উত্তরার দিয়াবাড়ী, কীচকুড়া বাজারের রহমাননগর আবাসিক এলাকা এবং খিলক্ষেতের খালপাড়ার মতো জনবহুল স্থানগুলো রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটির ১১টি হাটের মধ্যে আটটির ইজারা চূড়ান্ত হয়েছে, যার মধ্যে পোস্তগোলা, উত্তর শাহজাহানপুর, আমুলিয়া, শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন এলাকা, কাজলা ব্রিজ, বনশ্রী, ব্রাদার্স ইউনিয়ন মাঠ এবং গোলাপবাগ উল্লেখযোগ্য। বাকি হাটগুলোর ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও এবার উত্তর সিটি করপোরেশন সম্পূর্ণ নতুন চারটি স্থানে হাটের অনুমতি দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মৌখিকভাবে স্বীকার করেছেন যে, এই নতুন হাটগুলো মূলত রাজনৈতিক চাহিদা ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের পক্ষ থেকে এমন কিছু আবদার বা চাহিদা থাকা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ইজারার শর্তাবলীতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই আবাসিক এলাকা, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের রাস্তা কিংবা তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে পারে এমন কোনো জায়গায় পশুর হাট বসানো যাবে না। নিয়ম অনুযায়ী কেবল শহরের বাইরের উন্মুক্ত ও বিশাল খালি জায়গায় এই হাটগুলো বসার কথা।
এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে বিগত বছরগুলোতেও বনশ্রী এবং আফতাবনগরের মতো সুপরিকল্পিত আবাসিক এলাকার ভেতরে পশুর হাট বসাত সিটি করপোরেশন। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এবং আবাসিক এলাকার পরিবেশ রক্ষা করতে স্থানীয় বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত বছরের কোরবানির ঈদের আগেই আবাসিক এলাকায় পশুর হাট বসানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। যদিও গত বছর আদালতের সেই আদেশকে একপ্রকার উপেক্ষা করেই হাট বসানো হয়েছিল, তবে তীব্র আইনি ও সামাজিক চাপের মুখে এবার আফতাবনগর ও বনশ্রীর মূল আবাসিক এলাকার ভেতরে হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় নাগরিকদের মনে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
বনশ্রী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা অত্যন্ত স্বস্তির সঙ্গে জানিয়েছেন যে, বছরের পর বছর ধরে কোরবানির সময় পশুর হাট নিয়ে তাদের যে অবর্ণনীয় যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হতো, এবার হয়তো তা থেকে তারা মুক্তি পাবেন। প্রতি বছর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র হইচই, পশুর মলমূত্র ও বর্জ্যের দুর্গন্ধ এবং যত্রতত্র গরু-ছাগল বেঁধে রাখার কারণে সাধারণ মানুষের ঘরের বাইরে বের হওয়াই দায় হয়ে পড়ত। এবার সিটি করপোরেশন তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় হাজার হাজার পরিবার কর্দমাক্ত পরিবেশ ও বায়ু দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এই বিষয়ে দেশের প্রখ্যাত নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন যে, অনেক দেরিতে হলেও আবাসিক এলাকায় হাট বন্ধের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়। তবে তারা একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, নতুন যেসব স্থানে হাট বসানো হচ্ছে, সেখানে যেন কোনোভাবেই প্রধান সড়ক বন্ধ না হয় এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকে সিটি করপোরেশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আসন্ন ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এবারও ২৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি অস্থায়ী হাট বসানো হবে। ইতিমধ্যে দুই সিটির পক্ষ থেকেই অধিকাংশ হাটের ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। উত্তর সিটির ১৫টি হাটের মধ্যে সাতটির ইজারা সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং, কালশী বালুর মাঠ, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, পূর্ব হাজীপাড়ার ইকরা মাদ্রাসা এলাকা, উত্তরার দিয়াবাড়ী, কীচকুড়া বাজারের রহমাননগর আবাসিক এলাকা এবং খিলক্ষেতের খালপাড়ার মতো জনবহুল স্থানগুলো রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটির ১১টি হাটের মধ্যে আটটির ইজারা চূড়ান্ত হয়েছে, যার মধ্যে পোস্তগোলা, উত্তর শাহজাহানপুর, আমুলিয়া, শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন এলাকা, কাজলা ব্রিজ, বনশ্রী, ব্রাদার্স ইউনিয়ন মাঠ এবং গোলাপবাগ উল্লেখযোগ্য। বাকি হাটগুলোর ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও এবার উত্তর সিটি করপোরেশন সম্পূর্ণ নতুন চারটি স্থানে হাটের অনুমতি দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মৌখিকভাবে স্বীকার করেছেন যে, এই নতুন হাটগুলো মূলত রাজনৈতিক চাহিদা ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের পক্ষ থেকে এমন কিছু আবদার বা চাহিদা থাকা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ইজারার শর্তাবলীতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই আবাসিক এলাকা, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের রাস্তা কিংবা তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে পারে এমন কোনো জায়গায় পশুর হাট বসানো যাবে না। নিয়ম অনুযায়ী কেবল শহরের বাইরের উন্মুক্ত ও বিশাল খালি জায়গায় এই হাটগুলো বসার কথা।
এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে বিগত বছরগুলোতেও বনশ্রী এবং আফতাবনগরের মতো সুপরিকল্পিত আবাসিক এলাকার ভেতরে পশুর হাট বসাত সিটি করপোরেশন। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এবং আবাসিক এলাকার পরিবেশ রক্ষা করতে স্থানীয় বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত বছরের কোরবানির ঈদের আগেই আবাসিক এলাকায় পশুর হাট বসানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। যদিও গত বছর আদালতের সেই আদেশকে একপ্রকার উপেক্ষা করেই হাট বসানো হয়েছিল, তবে তীব্র আইনি ও সামাজিক চাপের মুখে এবার আফতাবনগর ও বনশ্রীর মূল আবাসিক এলাকার ভেতরে হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় নাগরিকদের মনে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
বনশ্রী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা অত্যন্ত স্বস্তির সঙ্গে জানিয়েছেন যে, বছরের পর বছর ধরে কোরবানির সময় পশুর হাট নিয়ে তাদের যে অবর্ণনীয় যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হতো, এবার হয়তো তা থেকে তারা মুক্তি পাবেন। প্রতি বছর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র হইচই, পশুর মলমূত্র ও বর্জ্যের দুর্গন্ধ এবং যত্রতত্র গরু-ছাগল বেঁধে রাখার কারণে সাধারণ মানুষের ঘরের বাইরে বের হওয়াই দায় হয়ে পড়ত। এবার সিটি করপোরেশন তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় হাজার হাজার পরিবার কর্দমাক্ত পরিবেশ ও বায়ু দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এই বিষয়ে দেশের প্রখ্যাত নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন যে, অনেক দেরিতে হলেও আবাসিক এলাকায় হাট বন্ধের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়। তবে তারা একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, নতুন যেসব স্থানে হাট বসানো হচ্ছে, সেখানে যেন কোনোভাবেই প্রধান সড়ক বন্ধ না হয় এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকে সিটি করপোরেশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন