দিকপাল

পদ্মার বুকে ৩৫ হাজার কোটির মহাপ্রকল্প! বদলে যাবে ২৪ জেলার ভাগ্য


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ | ১০:০৬ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মার বুকে ৩৫ হাজার কোটির মহাপ্রকল্প! বদলে যাবে ২৪ জেলার ভাগ্য

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৃতপ্রায় নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং বিশাল জনপদকে পানিসংকট থেকে রক্ষা করতে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ নামের একটি ঐতিহাসিক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেকের সভায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিশালাকার প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি আগামী সাত বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

একনেক সভা শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলে যে তীব্র খরা ও লবণাক্ততা দেখা দেয়, তা নিরসন করতেই এই ‘মাস্টারমাইন্ড’ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এটি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের একটি অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগেই রাজশাহীর জনসভায় দেশবাসীকে দিয়েছিলেন। প্রকল্পের মূল অবকাঠামোটি নির্মিত হবে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায়। প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারাজে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য ৭৮টি বিশেষ ফটক বা স্পিলওয়ে এবং পলি ব্যবস্থাপনার জন্য ১৮টি বিশেষ নালা বা আন্ডার স্লুইস রাখা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে কৃষি জমিতে সেচ ও নদীগুলোর নাব্যতা রক্ষায় ব্যবহৃত হবে।

ব্যারাজ মূলত একটি বিশেষ অবকাঠামো যা নদীর পানি প্রবাহকে সম্পূর্ণ বন্ধ না করে সেটির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে। এই প্রকল্পের আওতায় গড়াই, মধুমতী, হিসনা, মাথাভাঙ্গা এবং বড়ালের মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোকে পুনরায় খনন ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সেগুলোতে প্রাণ ফিরিয়ে আনা হবে। এতে করে যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও পাবনাসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে বার্ষিক ধান উৎপাদন প্রায় ২৪ লাখ টন এবং মাছের উৎপাদন সোয়া দুই লাখ টন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৩ সালের মধ্যে এই ব্যারাজকে কেন্দ্র করে তিনটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সাতটি আধুনিক উপশহর বা স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার নীল নকশা তৈরি করেছে সরকার। যদিও বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে যথাযথ পরিবেশগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নির্মাণ-পরবর্তী সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন। বুয়েটের অধ্যাপক ড. আনিসুল হকের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল এই বিশাল বিনিয়োগের সুফল পাওয়া সম্ভব। সরকার আশা করছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর দেশের অর্থনীতিতে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ আর্থ-সামাজিক সুবিধা যোগ হবে। আগামী অর্থবছর থেকেই এই মহাযজ্ঞের প্রথম ধাপের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


পদ্মার বুকে ৩৫ হাজার কোটির মহাপ্রকল্প! বদলে যাবে ২৪ জেলার ভাগ্য

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৃতপ্রায় নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং বিশাল জনপদকে পানিসংকট থেকে রক্ষা করতে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ নামের একটি ঐতিহাসিক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেকের সভায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই বিশালাকার প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি আগামী সাত বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

একনেক সভা শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলে যে তীব্র খরা ও লবণাক্ততা দেখা দেয়, তা নিরসন করতেই এই ‘মাস্টারমাইন্ড’ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এটি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের একটি অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগেই রাজশাহীর জনসভায় দেশবাসীকে দিয়েছিলেন। প্রকল্পের মূল অবকাঠামোটি নির্মিত হবে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায়। প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারাজে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য ৭৮টি বিশেষ ফটক বা স্পিলওয়ে এবং পলি ব্যবস্থাপনার জন্য ১৮টি বিশেষ নালা বা আন্ডার স্লুইস রাখা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে কৃষি জমিতে সেচ ও নদীগুলোর নাব্যতা রক্ষায় ব্যবহৃত হবে।

ব্যারাজ মূলত একটি বিশেষ অবকাঠামো যা নদীর পানি প্রবাহকে সম্পূর্ণ বন্ধ না করে সেটির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে। এই প্রকল্পের আওতায় গড়াই, মধুমতী, হিসনা, মাথাভাঙ্গা এবং বড়ালের মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোকে পুনরায় খনন ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সেগুলোতে প্রাণ ফিরিয়ে আনা হবে। এতে করে যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও পাবনাসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে বার্ষিক ধান উৎপাদন প্রায় ২৪ লাখ টন এবং মাছের উৎপাদন সোয়া দুই লাখ টন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৩ সালের মধ্যে এই ব্যারাজকে কেন্দ্র করে তিনটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সাতটি আধুনিক উপশহর বা স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার নীল নকশা তৈরি করেছে সরকার। যদিও বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে যথাযথ পরিবেশগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নির্মাণ-পরবর্তী সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন। বুয়েটের অধ্যাপক ড. আনিসুল হকের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল এই বিশাল বিনিয়োগের সুফল পাওয়া সম্ভব। সরকার আশা করছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর দেশের অর্থনীতিতে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ আর্থ-সামাজিক সুবিধা যোগ হবে। আগামী অর্থবছর থেকেই এই মহাযজ্ঞের প্রথম ধাপের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল