আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের সবচেয়ে সংবেদনশীল সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানকে এক কঠোর ও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি সব সময়ের জন্যই সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও সচল রাখা হবে। কোনো অবস্থাতেই ইরানকে এই কৌশলগত জলপথটিকে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে 'অস্ত্র হিসেবে' ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া একটি বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনাকালে তিনি মার্কিন প্রশাসনের এই অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেন যে, হরমুজ প্রণালি অবাধ ও নিরাপদ রাখার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সবকিছুই করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের প্রশাসন কেবল এই জলপথ উন্মুক্ত রাখাই নিশ্চিত করবে না, বরং ইরান যেন কোনো দিনও পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে, সেটিও পুরোপুরি নিশ্চিত করা হবে। ট্রাম্পের মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র বিশ্বে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এই দুটি পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বৈশ্বিক তেলের বাজারের ওপর এই প্রণালির প্রভাব আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এশিয়ার পরাশক্তি চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্যও সামনে নিয়ে আসেন। তিনি জানান যে, চীনের মোট খনিজ তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশই এই একটিমাত্র জলপথের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। ফলে এই পথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলবে।
বিগত বছরগুলোর ইতিহাস টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেহরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনের তীব্র অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের সময় তেহরান নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মতো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান বরাবরই এই আন্তর্জাতিক রুটটিকে নিজেদের স্বার্থে এক ধরনের চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার বা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালিয়ে এসেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ও নিজের মেয়াদের কথা উল্লেখ করে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, তেহরান প্রশাসন তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালিকে বিন্দুমাত্র অস্ত্র বা রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না এবং মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক শক্তি যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ নস্যাৎ করে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের সবচেয়ে সংবেদনশীল সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানকে এক কঠোর ও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি সব সময়ের জন্যই সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও সচল রাখা হবে। কোনো অবস্থাতেই ইরানকে এই কৌশলগত জলপথটিকে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে 'অস্ত্র হিসেবে' ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া একটি বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনাকালে তিনি মার্কিন প্রশাসনের এই অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেন যে, হরমুজ প্রণালি অবাধ ও নিরাপদ রাখার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সবকিছুই করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের প্রশাসন কেবল এই জলপথ উন্মুক্ত রাখাই নিশ্চিত করবে না, বরং ইরান যেন কোনো দিনও পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে, সেটিও পুরোপুরি নিশ্চিত করা হবে। ট্রাম্পের মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র বিশ্বে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এই দুটি পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বৈশ্বিক তেলের বাজারের ওপর এই প্রণালির প্রভাব আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এশিয়ার পরাশক্তি চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্যও সামনে নিয়ে আসেন। তিনি জানান যে, চীনের মোট খনিজ তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশই এই একটিমাত্র জলপথের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। ফলে এই পথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলবে।
বিগত বছরগুলোর ইতিহাস টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেহরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনের তীব্র অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের সময় তেহরান নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মতো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান বরাবরই এই আন্তর্জাতিক রুটটিকে নিজেদের স্বার্থে এক ধরনের চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার বা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালিয়ে এসেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ও নিজের মেয়াদের কথা উল্লেখ করে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, তেহরান প্রশাসন তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালিকে বিন্দুমাত্র অস্ত্র বা রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না এবং মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক শক্তি যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ নস্যাৎ করে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন