বিগত দিনের শাসন আমলগুলোতে পূর্ববর্তী সরকারগুলো দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে এক চরম ধ্বংসাত্মক ও বিপর্যয়কর অবস্থায় রেখে বিদায় নিয়েছে। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সেই ভঙ্গুর, খতিগ্রস্ত ও নড়বড়ে অর্থনীতিকে পুরোপুরি টেনে তুলতে এবং তা পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে দেশের বর্তমান প্রশাসনের আরও অন্তত দুই বছর সময় লেগে যাবে বলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার সকালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত মা ও শিশু হাসপাতালের নবনির্মিত অত্যাধুনিক ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করে দেওয়া তাঁর বিশেষ বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগের কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।
দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেয়ার ঠিক সাথে সাথেই মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে শুরু হওয়া তীব্র যুদ্ধাবস্থার কারণে এক বিশাল ও নজিরবিহীন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই আকস্মিক আন্তর্জাতিক সংকটের ধাক্কায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেবল জ্বালানি খাতেই আগামী অর্থ বছরের বাজেট থেকে অতিরিক্ত প্রায় চল্লিশ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে খরচ হয়ে গেছে। এর বাইরেও দেশের বিদ্যুৎ খাত সচল রাখা এবং বিগত সরকারের আমলে নেওয়া বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের জন্য চড়া সুদে আনা বিদেশি ঋণের কিস্তি যথাসময়ে পরিশোধ করতে গিয়ে গত মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে আরও প্রায় পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি ও ঋণের কিস্তির এই বিশাল খরচের বোঝার কারণে দেশের জাতীয় অর্থনীতি এই মুহূর্তে কোনোভাবেই ভালো কিংবা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বিগত রাজনৈতিক সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, পতিত ও স্বৈরাচারী সরকারের আমলে দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল স্বাস্থ্যখাতের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের সিংহভাগ অর্থই নানামুখী দুর্নীতি, অনিয়ম ও হরিলুটের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অপচয় ও লুটপাট করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার কেবল স্বাস্থ্যখাতে বিপুল পরিমাণ অর্থের বরাদ্দ দিয়েই নিজেদের রাষ্ট্রীয় দায় ও দায়িত্ব শেষ করবে না। বরং জনগণের করের টাকায় দেওয়া সেই বাজেট ও বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ প্রতিটি হাসপাতালে যথাযথভাবে ও স্বচ্ছতার সাথে সঠিক খাতে ব্যবহার হচ্ছে কিনা, তাও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলো দেশের স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নানামুখী রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করত। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে কোনো ধরনের সেবামূলক বা শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে বিন্দুমাত্র সরকারি বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করে না। কারণ এই ধরনের জাতীয় ও সংবেদনশীল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যদি অনাকাঙ্ক্ষিত সরকারি হস্তক্ষেপ করা হয়, তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর চিরায়ত পেশাদারিত্ব, স্বাধীনতা এবং সেবার মান একবারে ধূলিসাৎ ও নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমান প্রশাসন কোনোভাবেই সেই ভুল করবে না, কারণ চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান যদি একবার ব্যাহত বা নষ্ট হয়, তবে তার কারণে শুধু কোনো সুনির্দিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা বর্তমান সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে এর বিষময় ফলের কারণে গোটা রাষ্ট্র এবং দেশের সাধারণ নাগরিকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
বিগত দিনের শাসন আমলগুলোতে পূর্ববর্তী সরকারগুলো দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে এক চরম ধ্বংসাত্মক ও বিপর্যয়কর অবস্থায় রেখে বিদায় নিয়েছে। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সেই ভঙ্গুর, খতিগ্রস্ত ও নড়বড়ে অর্থনীতিকে পুরোপুরি টেনে তুলতে এবং তা পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে দেশের বর্তমান প্রশাসনের আরও অন্তত দুই বছর সময় লেগে যাবে বলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার সকালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত মা ও শিশু হাসপাতালের নবনির্মিত অত্যাধুনিক ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করে দেওয়া তাঁর বিশেষ বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগের কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।
দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেয়ার ঠিক সাথে সাথেই মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে শুরু হওয়া তীব্র যুদ্ধাবস্থার কারণে এক বিশাল ও নজিরবিহীন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই আকস্মিক আন্তর্জাতিক সংকটের ধাক্কায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেবল জ্বালানি খাতেই আগামী অর্থ বছরের বাজেট থেকে অতিরিক্ত প্রায় চল্লিশ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে খরচ হয়ে গেছে। এর বাইরেও দেশের বিদ্যুৎ খাত সচল রাখা এবং বিগত সরকারের আমলে নেওয়া বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের জন্য চড়া সুদে আনা বিদেশি ঋণের কিস্তি যথাসময়ে পরিশোধ করতে গিয়ে গত মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে আরও প্রায় পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি ও ঋণের কিস্তির এই বিশাল খরচের বোঝার কারণে দেশের জাতীয় অর্থনীতি এই মুহূর্তে কোনোভাবেই ভালো কিংবা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বিগত রাজনৈতিক সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, পতিত ও স্বৈরাচারী সরকারের আমলে দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল স্বাস্থ্যখাতের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের সিংহভাগ অর্থই নানামুখী দুর্নীতি, অনিয়ম ও হরিলুটের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অপচয় ও লুটপাট করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার কেবল স্বাস্থ্যখাতে বিপুল পরিমাণ অর্থের বরাদ্দ দিয়েই নিজেদের রাষ্ট্রীয় দায় ও দায়িত্ব শেষ করবে না। বরং জনগণের করের টাকায় দেওয়া সেই বাজেট ও বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ প্রতিটি হাসপাতালে যথাযথভাবে ও স্বচ্ছতার সাথে সঠিক খাতে ব্যবহার হচ্ছে কিনা, তাও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলো দেশের স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নানামুখী রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করত। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে কোনো ধরনের সেবামূলক বা শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে বিন্দুমাত্র সরকারি বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করে না। কারণ এই ধরনের জাতীয় ও সংবেদনশীল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যদি অনাকাঙ্ক্ষিত সরকারি হস্তক্ষেপ করা হয়, তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর চিরায়ত পেশাদারিত্ব, স্বাধীনতা এবং সেবার মান একবারে ধূলিসাৎ ও নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমান প্রশাসন কোনোভাবেই সেই ভুল করবে না, কারণ চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান যদি একবার ব্যাহত বা নষ্ট হয়, তবে তার কারণে শুধু কোনো সুনির্দিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা বর্তমান সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে এর বিষময় ফলের কারণে গোটা রাষ্ট্র এবং দেশের সাধারণ নাগরিকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আপনার মতামত লিখুন