দিকপাল

চীনা উপহার প্রত্যাখ্যান, বিমানে ওঠার আগেই ফেলে দিল ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ | ০৫:০৩ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

চীনা উপহার প্রত্যাখ্যান, বিমানে ওঠার আগেই ফেলে দিল ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা

গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সফর শেষ করে স্বদেশে ফেরার প্রাক্কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরসঙ্গী ও বহরে থাকা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা চীনা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার বা সৌজন্যমূলকভাবে দেওয়া সমস্ত ধরনের সামগ্রী ও জিনিসপত্র সঙ্গে না নিয়ে সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন বলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। বেইজিংয়ের দেওয়া এসব সংবেদনশীল সামগ্রীর মধ্যে ছিল মার্কিন প্রতিনিধি দলের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা সাময়িক প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র, বিশেষ সুরক্ষাযুক্ত ও একবার ব্যবহারযোগ্য বার্নার ফোন এবং এক ধরনের বিশেষ পিন। বেইজিং ক্যাপিটাল বিমানবন্দরে পৌঁছে মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিশেষ বিমানে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দল ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সফরকারী দলের সবার কাছ থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সেই সমস্ত জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন এবং বিমানবন্দরের একটি বিনে বা ময়লা ফেলার পাত্রে অবলীলায় ফেলে দেন।

নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারির কড়া নিয়মের কারণে চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া বা স্পর্শ করা কোনো প্রকারের জিনিসপত্রই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই বিশেষ বিমানে তুলতে দেওয়া হয়নি। গত শুক্রবার চীনের বেইজিং ক্যাপিটাল বিমানবন্দর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে সপরিবারে ও দলবলে সশরীরে রওনা হন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই রাজকীয় বিদায়ের মুহূর্তে বিমানবন্দরে কূটনৈতিক প্রোটোকল মেনে উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রভাবশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এ সময় স্থানীয় স্কুলের একদল শিক্ষার্থী দুই দেশের মধ্যকার সুসম্পর্কের প্রতীক হিসেবে অত্যন্ত উৎসাহের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জাতীয় পতাকা নেড়ে ট্রাম্পকে আন্তরিকভাবে বিদায় জানান। বিমানে আরোহণের ঠিক আগে ট্রাম্প স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে তাঁর মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত সমর্থক ও সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ ইশারা ও অভিবাদন জানান।

বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক অত্যন্ত হাইভোল্টেজ ও দীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে দুই দেশের শীর্ষ নেতাই মধ্যপ্রাচ্যের পরমাণু সংকট নিয়ে একমত পোষণ করে স্পষ্ট জানান যে, বিশ্ব শান্তির স্বার্থে ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না। একই সাথে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সব সময়ের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও সচল রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা চীনা প্রেসিডেন্টের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরেন ট্রাম্প।

তবে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এমন রুদ্ধদ্বার ও দীর্ঘ বৈঠক শেষ হলেও অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে আশানুরূপ বড় কোনো বাণিজ্যিক অগ্রগতি বা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে সুনির্দিষ্ট কোনো সামরিক বা কূটনৈতিক সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি বলে আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের প্রতিবেদনে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছে। শুধু তাই নয়, কূটনৈতিক আলোচনার আড়ালে বহুল বিতর্কিত ও সংবেদনশীল তাইওয়ান ইস্যুতেও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এক ধরনের প্রচ্ছন্ন কিন্তু কঠোর সতর্ক বার্তা দিয়ে রেখেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এদিকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন উঠেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চীন সফর শেষ হতে না হতেই আগামী ২০ মে বেইজিং সফরে যেতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যদিও বেইজিং ও মস্কোর শীর্ষ কূটনৈতিক মহল থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ প্রেসিডেন্টের এই সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা সূচি নিশ্চিত করা হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


চীনা উপহার প্রত্যাখ্যান, বিমানে ওঠার আগেই ফেলে দিল ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সফর শেষ করে স্বদেশে ফেরার প্রাক্কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরসঙ্গী ও বহরে থাকা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা চীনা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার বা সৌজন্যমূলকভাবে দেওয়া সমস্ত ধরনের সামগ্রী ও জিনিসপত্র সঙ্গে না নিয়ে সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন বলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। বেইজিংয়ের দেওয়া এসব সংবেদনশীল সামগ্রীর মধ্যে ছিল মার্কিন প্রতিনিধি দলের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা সাময়িক প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র, বিশেষ সুরক্ষাযুক্ত ও একবার ব্যবহারযোগ্য বার্নার ফোন এবং এক ধরনের বিশেষ পিন। বেইজিং ক্যাপিটাল বিমানবন্দরে পৌঁছে মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিশেষ বিমানে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দল ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সফরকারী দলের সবার কাছ থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সেই সমস্ত জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন এবং বিমানবন্দরের একটি বিনে বা ময়লা ফেলার পাত্রে অবলীলায় ফেলে দেন।

নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারির কড়া নিয়মের কারণে চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া বা স্পর্শ করা কোনো প্রকারের জিনিসপত্রই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই বিশেষ বিমানে তুলতে দেওয়া হয়নি। গত শুক্রবার চীনের বেইজিং ক্যাপিটাল বিমানবন্দর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে সপরিবারে ও দলবলে সশরীরে রওনা হন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই রাজকীয় বিদায়ের মুহূর্তে বিমানবন্দরে কূটনৈতিক প্রোটোকল মেনে উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রভাবশালী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এ সময় স্থানীয় স্কুলের একদল শিক্ষার্থী দুই দেশের মধ্যকার সুসম্পর্কের প্রতীক হিসেবে অত্যন্ত উৎসাহের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জাতীয় পতাকা নেড়ে ট্রাম্পকে আন্তরিকভাবে বিদায় জানান। বিমানে আরোহণের ঠিক আগে ট্রাম্প স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে তাঁর মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত সমর্থক ও সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ ইশারা ও অভিবাদন জানান।

বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক অত্যন্ত হাইভোল্টেজ ও দীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে দুই দেশের শীর্ষ নেতাই মধ্যপ্রাচ্যের পরমাণু সংকট নিয়ে একমত পোষণ করে স্পষ্ট জানান যে, বিশ্ব শান্তির স্বার্থে ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না। একই সাথে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সব সময়ের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও সচল রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা চীনা প্রেসিডেন্টের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরেন ট্রাম্প।

তবে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এমন রুদ্ধদ্বার ও দীর্ঘ বৈঠক শেষ হলেও অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে আশানুরূপ বড় কোনো বাণিজ্যিক অগ্রগতি বা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে সুনির্দিষ্ট কোনো সামরিক বা কূটনৈতিক সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি বলে আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের প্রতিবেদনে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছে। শুধু তাই নয়, কূটনৈতিক আলোচনার আড়ালে বহুল বিতর্কিত ও সংবেদনশীল তাইওয়ান ইস্যুতেও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এক ধরনের প্রচ্ছন্ন কিন্তু কঠোর সতর্ক বার্তা দিয়ে রেখেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এদিকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন উঠেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চীন সফর শেষ হতে না হতেই আগামী ২০ মে বেইজিং সফরে যেতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যদিও বেইজিং ও মস্কোর শীর্ষ কূটনৈতিক মহল থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ প্রেসিডেন্টের এই সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা সূচি নিশ্চিত করা হয়নি।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল