আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, এমনকি এই বাহিনীর প্রচলিত নামও পরিবর্তন হতে পারে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তথ্য অধিদফতরে সরকারের বিভিন্ন মেয়াদি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নীতিগত সিদ্ধান্ত তুলে ধরতে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
তথ্য উপদেষ্টা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বিশেষ করে দেশের পানি সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে এক নতুন নির্দেশনার কথা জানান। তিনি বলেন, সরকারের বর্তমান মহাপরিকল্পনাটি মূলত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীভাঙন রোধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল। তবে দেশের দীর্ঘমেয়াদি পানির সংকট ও সেচ ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে এতে পানি সংরক্ষণের মূল বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী নিজে এই মহাপরিকল্পনায় পানি সংরক্ষণের বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে যুক্ত করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। উপদেষ্টার তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর এই দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চলমান প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন এনে খুব দ্রুতই তা চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, তথা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, দেশের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বিষয়ে বর্তমান সরকার দেশের প্রচলিত আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্তভাবে কার্যকর করবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দেবেন, সরকার তা বাস্তবায়নে কোনো আপস করবে না।
এই প্রসঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারত সরকার যদি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার জন্য আমাদের হাতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করে, তবে তাকে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সমস্ত রকমের আইনি সুরক্ষা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। বর্তমান সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী, তাই চূড়ান্ত রায়ে আদালত যে সিদ্ধান্ত বা শাস্তির কথা ঘোষণা করবে, সরকার কেবল সেটিই মাঠপর্যায়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করবে। উপদেষ্টার এই মন্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলার আমূল সংস্কারের পাশাপাশি সাবেক সরকারপ্রধানের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কঠোর আইনি পথে হাঁটছে।

বুধবার, ২০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, এমনকি এই বাহিনীর প্রচলিত নামও পরিবর্তন হতে পারে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তথ্য অধিদফতরে সরকারের বিভিন্ন মেয়াদি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নীতিগত সিদ্ধান্ত তুলে ধরতে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
তথ্য উপদেষ্টা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বিশেষ করে দেশের পানি সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে এক নতুন নির্দেশনার কথা জানান। তিনি বলেন, সরকারের বর্তমান মহাপরিকল্পনাটি মূলত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীভাঙন রোধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল। তবে দেশের দীর্ঘমেয়াদি পানির সংকট ও সেচ ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে এতে পানি সংরক্ষণের মূল বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী নিজে এই মহাপরিকল্পনায় পানি সংরক্ষণের বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে যুক্ত করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। উপদেষ্টার তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর এই দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চলমান প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন এনে খুব দ্রুতই তা চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপটের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, তথা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, দেশের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বিষয়ে বর্তমান সরকার দেশের প্রচলিত আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্তভাবে কার্যকর করবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দেবেন, সরকার তা বাস্তবায়নে কোনো আপস করবে না।
এই প্রসঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারত সরকার যদি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার জন্য আমাদের হাতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করে, তবে তাকে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সমস্ত রকমের আইনি সুরক্ষা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। বর্তমান সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী, তাই চূড়ান্ত রায়ে আদালত যে সিদ্ধান্ত বা শাস্তির কথা ঘোষণা করবে, সরকার কেবল সেটিই মাঠপর্যায়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করবে। উপদেষ্টার এই মন্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলার আমূল সংস্কারের পাশাপাশি সাবেক সরকারপ্রধানের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কঠোর আইনি পথে হাঁটছে।

আপনার মতামত লিখুন