দিকপাল

স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর সময় জানালেন প্রতিমন্ত্রী


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ | ০১:৪৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর সময় জানালেন প্রতিমন্ত্রী

দেশের রাজনীতি ও স্থানীয় প্রশাসনে বড় ধরনের নড়াচড়া শুরু হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে এবং ধাপে ধাপে দেশের সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে স্পষ্ট আভাস পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সরকারের এই মহাপরিকল্পনার কথা জানান। নতুন গঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীনের আনুষ্ঠানিক যোগদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সরকারের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রধান স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই পাঁচ ধরনের নির্বাচনের মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন। অর্থাৎ আগামী ১২ মাস দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে নির্বাচনী আমেজ বজায় থাকবে।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানতে চাওয়া হলে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে সিটি কর্পোরেশন সংশোধন আইন পাস হয়েছে। এই নতুন আইনের ফলে এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের আমূল পরিবর্তন আসছে। এবার আর কোনো রাজনৈতিক দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। সম্পূর্ণ অদলীয় বা সাধারণ প্রতীকে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নতুন গঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এই সিটির নির্বাচনী তফসিল আলাদা করে নয়, বরং দেশের অন্য ১২টি সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গেই একযোগে ঘোষণা করা হবে।

নতুন গঠিত সিটি কর্পোরেশনগুলোর নাগরিক সেবা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সরকারের আর্থিক সহায়তার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সিটি কর্পোরেশনগুলোর প্রাথমিক কাজ শুরু করার জন্য চলতি অর্থ বছরেই ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এই বিশেষ বরাদ্দের একটি অংশ নবগঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের জন্যও খুব দ্রুত ছাড় করা হবে, যাতে নাগরিকরা শুরু থেকেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং জুলাইয়ের পর থেকেই ভোটের হাওয়া বইবে কি না, এমন একটি প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কিছুটা রাজনৈতিক কৌশলগত ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দল হয়তো নিজেদের মতো করে দলীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু যেহেতু এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই যে যার মতো করে স্বাধীনভাবে ও নিরপেক্ষভাবে অংশ নিতে পারবে। আমাদের দলের মানুষজনও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এই নির্বাচনে লড়বে।

একই সাথে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থান ও প্রস্তুতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। তিনি বলেন, বিএনপি একটি অত্যন্ত বড় রাজনৈতিক দল। আমাদের যেকোনো সময়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি যেমন থাকে, ঠিক তেমনি নির্বাচনের বা ভোটের প্রস্তুতিও সবসময় থাকে। আমাদের নতুন করে মাঠ গোছানোর বা প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের দলের সাংগঠনিক কাঠামো এতটাই বিস্তৃত এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সবসময় এতটাই সজাগ ও প্রস্তুত থাকেন যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো নির্বাচনের জন্য বিএনপি সবসময় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, আসন্ন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকেই দেশের রাজনীতিতে এক বিশাল নির্বাচনী উৎসবের আমেজ শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে দলমতনির্বিশেষে সবাই সাধারণ প্রতীকে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করবেন।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২০ মে ২০২৬


স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর সময় জানালেন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

দেশের রাজনীতি ও স্থানীয় প্রশাসনে বড় ধরনের নড়াচড়া শুরু হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে এবং ধাপে ধাপে দেশের সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে স্পষ্ট আভাস পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সরকারের এই মহাপরিকল্পনার কথা জানান। নতুন গঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীনের আনুষ্ঠানিক যোগদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সরকারের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রধান স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই পাঁচ ধরনের নির্বাচনের মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন। অর্থাৎ আগামী ১২ মাস দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে নির্বাচনী আমেজ বজায় থাকবে।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানতে চাওয়া হলে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে সিটি কর্পোরেশন সংশোধন আইন পাস হয়েছে। এই নতুন আইনের ফলে এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের আমূল পরিবর্তন আসছে। এবার আর কোনো রাজনৈতিক দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। সম্পূর্ণ অদলীয় বা সাধারণ প্রতীকে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নতুন গঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এই সিটির নির্বাচনী তফসিল আলাদা করে নয়, বরং দেশের অন্য ১২টি সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গেই একযোগে ঘোষণা করা হবে।

নতুন গঠিত সিটি কর্পোরেশনগুলোর নাগরিক সেবা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সরকারের আর্থিক সহায়তার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সিটি কর্পোরেশনগুলোর প্রাথমিক কাজ শুরু করার জন্য চলতি অর্থ বছরেই ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এই বিশেষ বরাদ্দের একটি অংশ নবগঠিত বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের জন্যও খুব দ্রুত ছাড় করা হবে, যাতে নাগরিকরা শুরু থেকেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং জুলাইয়ের পর থেকেই ভোটের হাওয়া বইবে কি না, এমন একটি প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কিছুটা রাজনৈতিক কৌশলগত ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দল হয়তো নিজেদের মতো করে দলীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু যেহেতু এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই যে যার মতো করে স্বাধীনভাবে ও নিরপেক্ষভাবে অংশ নিতে পারবে। আমাদের দলের মানুষজনও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এই নির্বাচনে লড়বে।

একই সাথে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থান ও প্রস্তুতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। তিনি বলেন, বিএনপি একটি অত্যন্ত বড় রাজনৈতিক দল। আমাদের যেকোনো সময়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি যেমন থাকে, ঠিক তেমনি নির্বাচনের বা ভোটের প্রস্তুতিও সবসময় থাকে। আমাদের নতুন করে মাঠ গোছানোর বা প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের দলের সাংগঠনিক কাঠামো এতটাই বিস্তৃত এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সবসময় এতটাই সজাগ ও প্রস্তুত থাকেন যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো নির্বাচনের জন্য বিএনপি সবসময় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, আসন্ন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকেই দেশের রাজনীতিতে এক বিশাল নির্বাচনী উৎসবের আমেজ শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে দলমতনির্বিশেষে সবাই সাধারণ প্রতীকে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করবেন।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল