তীব্র
দাবদাহ আর লাগামহীন লোডশেডিংয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার যশোরে জনজীবন
বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিল্প শহর নওয়াপাড়া থেকে শুরু করে গদখালীর ফুলের মাঠ—সর্বত্রই
এখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার। দিনে ও রাতে সমানতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে একদিকে
যেমন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, অন্যদিকে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কাজ ও শিল্প উৎপাদন
মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
যশোরের
উপশহর এলাকার বাসিন্দা এবং একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সায়েম মাহমুদ বলেন,
"অফিস থেকে ফিরে একটু বিশ্রাম নেব তার উপায় নেই। গত রাত থেকে অন্তত আটবার বিদ্যুৎ
গেছে। আমাদের মতো চাকরিজীবীদের জন্য রাতের ঘুমটা খুব জরুরি, কিন্তু গরমে আর মশার অত্যাচারে
জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে।" একই ভোগান্তির কথা জানালেন যশোরের একটি কলেজের প্রভাষক
নুসরাত জাহান। তিনি বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বাসায় ফ্রিজের খাবার নষ্ট
হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাই।"
যশোরের
ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলা দেশের সবজি ও ধান উৎপাদনের অন্যতম ভাণ্ডার। গদখালী এলাকার
কৃষক আবদুল ওহাব আক্ষেপ করে বলেন, "এই সময় জমিতে পানি না থাকলে
সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু পাম্প ছাড়ার আধা ঘণ্টার মাথায় কারেন্ট চলে যায়। আবার আসার
ঠিক নেই। ডিজেলের যে দাম, তাতে মেশিন চালানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।"
যশোরের
অভয়নগরের নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চল ও বিসিক শিল্পনগরীতে লোডশেডিংয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি
পড়েছে। একটি জুট মিলের ফোরম্যান মো. রফিকুল ইসলাম জানান, "ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে
কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে। মেশিনের সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ৮ ঘণ্টার কাজ শেষ
করতে ১২ ঘণ্টা সময় লাগছে, যার ফলে শ্রমিকদের ওভারটাইম দিতে গিয়ে কারখানার মালিকরা লোকসানের
মুখে পড়ছেন।"
যশোর
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায়
৪২% ঘাটতি রয়েছে। যশোর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান,
তীব্র গরমে চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ
না পাওয়ায় এই রেশনিং করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক
কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ
পরিস্থিতির এই চরম অবনতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই বাণিজ্যিক
ও কৃষিপ্রধান জেলার অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
তীব্র
দাবদাহ আর লাগামহীন লোডশেডিংয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার যশোরে জনজীবন
বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিল্প শহর নওয়াপাড়া থেকে শুরু করে গদখালীর ফুলের মাঠ—সর্বত্রই
এখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার। দিনে ও রাতে সমানতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে একদিকে
যেমন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, অন্যদিকে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কাজ ও শিল্প উৎপাদন
মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
যশোরের
উপশহর এলাকার বাসিন্দা এবং একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সায়েম মাহমুদ বলেন,
"অফিস থেকে ফিরে একটু বিশ্রাম নেব তার উপায় নেই। গত রাত থেকে অন্তত আটবার বিদ্যুৎ
গেছে। আমাদের মতো চাকরিজীবীদের জন্য রাতের ঘুমটা খুব জরুরি, কিন্তু গরমে আর মশার অত্যাচারে
জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে।" একই ভোগান্তির কথা জানালেন যশোরের একটি কলেজের প্রভাষক
নুসরাত জাহান। তিনি বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বাসায় ফ্রিজের খাবার নষ্ট
হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাই।"
যশোরের
ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলা দেশের সবজি ও ধান উৎপাদনের অন্যতম ভাণ্ডার। গদখালী এলাকার
কৃষক আবদুল ওহাব আক্ষেপ করে বলেন, "এই সময় জমিতে পানি না থাকলে
সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু পাম্প ছাড়ার আধা ঘণ্টার মাথায় কারেন্ট চলে যায়। আবার আসার
ঠিক নেই। ডিজেলের যে দাম, তাতে মেশিন চালানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।"
যশোরের
অভয়নগরের নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চল ও বিসিক শিল্পনগরীতে লোডশেডিংয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি
পড়েছে। একটি জুট মিলের ফোরম্যান মো. রফিকুল ইসলাম জানান, "ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে
কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে। মেশিনের সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ৮ ঘণ্টার কাজ শেষ
করতে ১২ ঘণ্টা সময় লাগছে, যার ফলে শ্রমিকদের ওভারটাইম দিতে গিয়ে কারখানার মালিকরা লোকসানের
মুখে পড়ছেন।"
যশোর
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায়
৪২% ঘাটতি রয়েছে। যশোর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান,
তীব্র গরমে চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ
না পাওয়ায় এই রেশনিং করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক
কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ
পরিস্থিতির এই চরম অবনতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই বাণিজ্যিক
ও কৃষিপ্রধান জেলার অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন