২০২৬
সালে এসে বিশ্ব অর্থনীতির
আকাশ যখন যুদ্ধের কালো
মেঘে ঢাকা, ঠিক তখনই কিছু
সুনির্দিষ্ট খাতে দেখা যাচ্ছে
বিস্ময়কর প্রবৃদ্ধি। ইরান যুদ্ধ এবং
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার
ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ৩.১ শতাংশে
নামিয়ে আনলেও, ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংক,
অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
(AI) খাতের জন্য এই সংকট
যেন আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আল
জাজিরার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে
উঠে এসেছে যুদ্ধের এই ভিন্ন পিঠের
চিত্র। যেখানে সাধারণ মানুষ জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতিতে
জর্জরিত, সেখানে মুনাফার পাহাড় গড়ছে এই পাঁচটি
শিল্প খাত।
ওয়াল
স্ট্রিটের বাজিমাত
মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার অনিশ্চিত সিদ্ধান্ত
গ্রহণের ধারাকে বিনিয়োগকারীরা মজা করে বলছেন
‘টাকো ট্রেড’ (TACO - Trump Always
Chickens Out)। তবে এই অস্থিরতা
বিনিয়োগকারীদের জন্য দুশ্চিন্তার হলেও
বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর জন্য পৌষ মাস।
২০২৬
সালের প্রথম প্রান্তিকের ফলাফলে দেখা গেছে:
প্রেডিকশন
মার্কেট
প্রথাগত
ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ক্রিপ্টো-ভিত্তিক প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম যেমন ‘পলিমার্কেট’ এখন প্রতিদিন ১০
লাখ ডলারেরও বেশি আয় করছে।
ব্যবহারকারীরা এখানে ইরান যুদ্ধের ফলাফল
বা পরবর্তী হামলার তারিখ নিয়ে বাজি ধরছেন।
এপ্রিল মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই প্ল্যাটফর্মটি
২১ মিলিয়ন ডলার ফি সংগ্রহ
করেছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক
করেছেন যে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের
চেয়ে মাত্র ১ শতাংশ বড়
বিনিয়োগকারীই এই আয়ের ৮৪
শতাংশ লুফে নিচ্ছেন।
অস্ত্র
ও প্রতিরক্ষা খাত
ইউক্রেন,
ইরান, সুদান ও গাজার সংঘাতের
ফলে বিশ্বজুড়ে অস্ত্রের চাহিদা আকাশচুম্বী। আইএমএফের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক দেশ তাদের প্রতিরক্ষা
বাজেট বাড়িয়েছে। ন্যাটো দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে
তাদের জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা
খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক
প্রতিরক্ষা সূচক (MSCI World Aerospace
and Defence Index) গত বছরের তুলনায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি
পেয়েছে।
কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা
(AI)
যুদ্ধ
সত্ত্বেও প্রযুক্তি বিশ্বে এআই-এর জয়যাত্রা
অব্যাহত রয়েছে। তাইওয়ানের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান
টিএসএমসি (TSMC) ২০২৬ সালের প্রথম
তিন মাসে ১৮.১
বিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা
করেছে। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে
উন্নত সেমিকন্ডাক্টর চিপের রপ্তানি ১২৪ শতাংশ বেড়ে
যাওয়ায় এই রেকর্ড মুনাফা
সম্ভব হয়েছে। এমনকি ওপেনএআই (OpenAI) এবং অ্যানথ্রোপিক-এর
মতো প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি বছরেই শেয়ার
বাজারে নামার (IPO) প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নবায়নযোগ্য
জ্বালানি
ইরান
যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী
দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়
এশীয় দেশগুলো মারাত্মক সংকটে পড়েছে। এর ফলে বাধ্য
হয়েই দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও থাইল্যান্ডের
মতো দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে সৌর ও পারমাণবিক
বিদ্যুতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ক্লিন এনার্জি ট্রানজিশন ইনডেক্স গত এক বছরে
প্রায় ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি
পেয়েছে, যা প্রমাণ করে
যে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন কেবল পরিবেশ
নয়, বরং টিকে থাকার
লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্লেষক নিক মারো বলেন, "ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সত্ত্বেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের এই স্থিতিস্থাপকতা আমাদের অবাক করেছে। যুদ্ধের অনিশ্চয়তাই এখন বিশ্ববাজারের নতুন চালিকাশক্তি।"

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
২০২৬
সালে এসে বিশ্ব অর্থনীতির
আকাশ যখন যুদ্ধের কালো
মেঘে ঢাকা, ঠিক তখনই কিছু
সুনির্দিষ্ট খাতে দেখা যাচ্ছে
বিস্ময়কর প্রবৃদ্ধি। ইরান যুদ্ধ এবং
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার
ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ৩.১ শতাংশে
নামিয়ে আনলেও, ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংক,
অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
(AI) খাতের জন্য এই সংকট
যেন আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আল
জাজিরার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে
উঠে এসেছে যুদ্ধের এই ভিন্ন পিঠের
চিত্র। যেখানে সাধারণ মানুষ জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতিতে
জর্জরিত, সেখানে মুনাফার পাহাড় গড়ছে এই পাঁচটি
শিল্প খাত।
ওয়াল
স্ট্রিটের বাজিমাত
মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার অনিশ্চিত সিদ্ধান্ত
গ্রহণের ধারাকে বিনিয়োগকারীরা মজা করে বলছেন
‘টাকো ট্রেড’ (TACO - Trump Always
Chickens Out)। তবে এই অস্থিরতা
বিনিয়োগকারীদের জন্য দুশ্চিন্তার হলেও
বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর জন্য পৌষ মাস।
২০২৬
সালের প্রথম প্রান্তিকের ফলাফলে দেখা গেছে:
প্রেডিকশন
মার্কেট
প্রথাগত
ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ক্রিপ্টো-ভিত্তিক প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম যেমন ‘পলিমার্কেট’ এখন প্রতিদিন ১০
লাখ ডলারেরও বেশি আয় করছে।
ব্যবহারকারীরা এখানে ইরান যুদ্ধের ফলাফল
বা পরবর্তী হামলার তারিখ নিয়ে বাজি ধরছেন।
এপ্রিল মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই প্ল্যাটফর্মটি
২১ মিলিয়ন ডলার ফি সংগ্রহ
করেছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক
করেছেন যে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের
চেয়ে মাত্র ১ শতাংশ বড়
বিনিয়োগকারীই এই আয়ের ৮৪
শতাংশ লুফে নিচ্ছেন।
অস্ত্র
ও প্রতিরক্ষা খাত
ইউক্রেন,
ইরান, সুদান ও গাজার সংঘাতের
ফলে বিশ্বজুড়ে অস্ত্রের চাহিদা আকাশচুম্বী। আইএমএফের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক দেশ তাদের প্রতিরক্ষা
বাজেট বাড়িয়েছে। ন্যাটো দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে
তাদের জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা
খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক
প্রতিরক্ষা সূচক (MSCI World Aerospace
and Defence Index) গত বছরের তুলনায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি
পেয়েছে।
কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা
(AI)
যুদ্ধ
সত্ত্বেও প্রযুক্তি বিশ্বে এআই-এর জয়যাত্রা
অব্যাহত রয়েছে। তাইওয়ানের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান
টিএসএমসি (TSMC) ২০২৬ সালের প্রথম
তিন মাসে ১৮.১
বিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা
করেছে। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে
উন্নত সেমিকন্ডাক্টর চিপের রপ্তানি ১২৪ শতাংশ বেড়ে
যাওয়ায় এই রেকর্ড মুনাফা
সম্ভব হয়েছে। এমনকি ওপেনএআই (OpenAI) এবং অ্যানথ্রোপিক-এর
মতো প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি বছরেই শেয়ার
বাজারে নামার (IPO) প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নবায়নযোগ্য
জ্বালানি
ইরান
যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী
দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়
এশীয় দেশগুলো মারাত্মক সংকটে পড়েছে। এর ফলে বাধ্য
হয়েই দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও থাইল্যান্ডের
মতো দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে সৌর ও পারমাণবিক
বিদ্যুতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ক্লিন এনার্জি ট্রানজিশন ইনডেক্স গত এক বছরে
প্রায় ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি
পেয়েছে, যা প্রমাণ করে
যে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন কেবল পরিবেশ
নয়, বরং টিকে থাকার
লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্লেষক নিক মারো বলেন, "ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সত্ত্বেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের এই স্থিতিস্থাপকতা আমাদের অবাক করেছে। যুদ্ধের অনিশ্চয়তাই এখন বিশ্ববাজারের নতুন চালিকাশক্তি।"

আপনার মতামত লিখুন