ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর নিষ্ক্রিয়তা ও নীরবতার কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই নীরবতা আন্তর্জাতিক আইন এবং বিশ্বব্যাপী পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ (নন-প্রোলিফারেশন) ব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
গত বুধবার ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের টেলিফোন সংলাপে আরাঘচি এসব মন্তব্য করেন। দুই নেতা এ সময় মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের ফলে উদ্ভূত আইনি ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আরাঘচি সরাসরি ওয়াশিংটনের একতরফা সামরিক পদক্ষেপকে বর্তমান অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেন। তিনি বলেন, "একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি হামলা হরমুজ প্রণালীতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বদ্ধপরিকর।"
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার আগ্রাসী পক্ষগুলোকেই বহন করতে হবে।
ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মৌনতাকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেন আব্বাস আরাঘচি। তার মতে, ইউরোপের এই দ্বিমুখী নীতি আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নষ্ট করছে এবং বৈশ্বিক নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি প্রতিটি রাষ্ট্রকে জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
টেলিফোন আলাপে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সেখানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রোমের পক্ষ থেকে সব ধরনের কূটনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আরাঘচির এই কড়া বার্তা ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরির একটি কৌশল, যা মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করার প্রচেষ্টাকে নির্দেশ করে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর নিষ্ক্রিয়তা ও নীরবতার কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই নীরবতা আন্তর্জাতিক আইন এবং বিশ্বব্যাপী পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ (নন-প্রোলিফারেশন) ব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
গত বুধবার ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের টেলিফোন সংলাপে আরাঘচি এসব মন্তব্য করেন। দুই নেতা এ সময় মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের ফলে উদ্ভূত আইনি ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আরাঘচি সরাসরি ওয়াশিংটনের একতরফা সামরিক পদক্ষেপকে বর্তমান অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেন। তিনি বলেন, "একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি হামলা হরমুজ প্রণালীতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বদ্ধপরিকর।"
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার আগ্রাসী পক্ষগুলোকেই বহন করতে হবে।
ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মৌনতাকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেন আব্বাস আরাঘচি। তার মতে, ইউরোপের এই দ্বিমুখী নীতি আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নষ্ট করছে এবং বৈশ্বিক নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি প্রতিটি রাষ্ট্রকে জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
টেলিফোন আলাপে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সেখানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রোমের পক্ষ থেকে সব ধরনের কূটনৈতিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আরাঘচির এই কড়া বার্তা ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরির একটি কৌশল, যা মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করার প্রচেষ্টাকে নির্দেশ করে।

আপনার মতামত লিখুন