দিকপাল

হরমুজ প্রণালীতে টানটান উত্তেজনা—জাহাজ জব্দ আর পাল্টা অবরোধে বাড়ছে বৈশ্বিক শঙ্কা


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৫:১৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

হরমুজ প্রণালীতে টানটান উত্তেজনা—জাহাজ জব্দ আর পাল্টা অবরোধে বাড়ছে বৈশ্বিক শঙ্কা

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামুদ্রিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার নিয়েছে। ইউরোপীয় মালিকানাধীন দুটি জাহাজ জব্দের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে গুরুত্বহীন হিসেবে দেখালেও বাস্তবে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পাল্টাপাল্টি অবরোধ জোরদার করছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরান হরমুজ এলাকায় তিনটি জাহাজে হামলা চালায় এবং এর মধ্যে দুটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর নতুন করে সম্ভাব্য সংঘাত ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান প্রমাণ করে যে, দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা চললেও ইরানের ছোট আক্রমণাত্মক নৌযানগুলো এখনো এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কার্যকর উপস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আগে দাবি করেছিল ইরানের নৌক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা ২৯টি জাহাজকে প্রতিহত করেছে।

রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের বন্দর ও জাহাজের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বয়কট উদ্যোগ দ্রুতই বৈশ্বিক পর্যায়ে বিস্তৃত হতে পারে।

তবে এই অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সামুদ্রিক বিশ্লেষণমাধ্যম লয়েড’স লিস্ট। তাদের তথ্যমতে, ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কিছু ট্যাঙ্কারসহ দুই ডজনের বেশি জাহাজ ওমান উপসাগরে মার্কিন নজরদারি এড়িয়ে চলাচল করতে সক্ষম হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জাহাজ জব্দ ও পাল্টা অবরোধের এই পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালীতে সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে। এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


হরমুজ প্রণালীতে টানটান উত্তেজনা—জাহাজ জব্দ আর পাল্টা অবরোধে বাড়ছে বৈশ্বিক শঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামুদ্রিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার নিয়েছে। ইউরোপীয় মালিকানাধীন দুটি জাহাজ জব্দের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে গুরুত্বহীন হিসেবে দেখালেও বাস্তবে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পাল্টাপাল্টি অবরোধ জোরদার করছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরান হরমুজ এলাকায় তিনটি জাহাজে হামলা চালায় এবং এর মধ্যে দুটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর নতুন করে সম্ভাব্য সংঘাত ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান প্রমাণ করে যে, দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা চললেও ইরানের ছোট আক্রমণাত্মক নৌযানগুলো এখনো এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কার্যকর উপস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আগে দাবি করেছিল ইরানের নৌক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা ২৯টি জাহাজকে প্রতিহত করেছে।

রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের বন্দর ও জাহাজের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বয়কট উদ্যোগ দ্রুতই বৈশ্বিক পর্যায়ে বিস্তৃত হতে পারে।

তবে এই অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সামুদ্রিক বিশ্লেষণমাধ্যম লয়েড’স লিস্ট। তাদের তথ্যমতে, ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কিছু ট্যাঙ্কারসহ দুই ডজনের বেশি জাহাজ ওমান উপসাগরে মার্কিন নজরদারি এড়িয়ে চলাচল করতে সক্ষম হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জাহাজ জব্দ ও পাল্টা অবরোধের এই পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালীতে সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে। এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল