দিকপাল

কবে কমবে তীব্র লোডশেডিং? সুখবর দিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২৪ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কবে কমবে তীব্র লোডশেডিং? সুখবর দিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

তীব্র গরমে বিপর্যস্ত দেশবাসীর জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে আসছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে যে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে। মূলত বড় কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কারিগরি সমস্যা এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোডশেডিংয়ের এই ভয়াবহতা তৈরি হয়েছে, যা নিরসনে কাজ করছে সরকার।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে আদানি পাওয়ার থেকে পুনরায় বিদ্যুৎ আমদানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ২৮ এপ্রিল থেকে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ারের আইপিপি প্ল্যান্ট থেকে আরও ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা জানান, এই কেন্দ্রগুলো চালু হলে এবং জ্বালানি সংকটে বন্ধ থাকা আরএনপিএন-এর ইউনিটটি সচল করা গেলে মে মাসের শুরুতেই প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, আদানি এবং বাঁশখালীর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একেকটি ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বর্তমানে সেখান থেকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনার পর তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে লোডশেডিং পুরোপুরি নির্মূল করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লোডশেডিং কমাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সচল করা জরুরি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেনের মতে, দেশে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মেগাওয়াটের তেলভিত্তিক কেন্দ্র রয়েছে, যা দিয়ে বর্তমান সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে ফার্নেস অয়েলের উচ্চমূল্য এবং ক্রমবর্ধমান ভর্তুকির চাপ বর্তমান অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত উৎপাদন ও আমদানির ক্ষেত্রে এক ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে। সব মিলিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে নতুন কেন্দ্রগুলো চালু হওয়াই এখন দ্রুত স্বস্তি পাওয়ার একমাত্র উপায়।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


কবে কমবে তীব্র লোডশেডিং? সুখবর দিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

তীব্র গরমে বিপর্যস্ত দেশবাসীর জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে আসছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে যে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে। মূলত বড় কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কারিগরি সমস্যা এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোডশেডিংয়ের এই ভয়াবহতা তৈরি হয়েছে, যা নিরসনে কাজ করছে সরকার।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে আদানি পাওয়ার থেকে পুনরায় বিদ্যুৎ আমদানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ২৮ এপ্রিল থেকে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ারের আইপিপি প্ল্যান্ট থেকে আরও ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা জানান, এই কেন্দ্রগুলো চালু হলে এবং জ্বালানি সংকটে বন্ধ থাকা আরএনপিএন-এর ইউনিটটি সচল করা গেলে মে মাসের শুরুতেই প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, আদানি এবং বাঁশখালীর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একেকটি ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বর্তমানে সেখান থেকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনার পর তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে লোডশেডিং পুরোপুরি নির্মূল করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লোডশেডিং কমাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সচল করা জরুরি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেনের মতে, দেশে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মেগাওয়াটের তেলভিত্তিক কেন্দ্র রয়েছে, যা দিয়ে বর্তমান সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে ফার্নেস অয়েলের উচ্চমূল্য এবং ক্রমবর্ধমান ভর্তুকির চাপ বর্তমান অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত উৎপাদন ও আমদানির ক্ষেত্রে এক ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে। সব মিলিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে নতুন কেন্দ্রগুলো চালু হওয়াই এখন দ্রুত স্বস্তি পাওয়ার একমাত্র উপায়।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল