ফক্স নিউজের সাম্প্রতিক এক জরিপে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষতা নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে গভীর সংশয় ও অসন্তোষের চিত্র ফুটে উঠেছে। গত বুধবার প্রকাশিত এই জরিপ অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশেরও বেশি আমেরিকান মনে করেন ট্রাম্প প্রশাসন সরকার পরিচালনায় কার্যকর দক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ এই জরিপে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে; যেখানে প্রতি ১০ জন ডেমোক্র্যাটের মধ্যে ৯ জন এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৭ জনই প্রশাসনের অদক্ষতার কথা উল্লেখ করেছেন। এমনকি রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও ফাটল দেখা দিয়েছে; প্রতি ১০ জন রিপাবলিকানের মধ্যে ২ জন এবং অ-ম্যাগা (Non-MAGA) রিপাবলিকানদের মধ্যে ৪ জনই সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন।
বর্তমানে মাত্র ৪৩ শতাংশ মানুষ হোয়াইট হাউসের কর্মদক্ষতাকে সমর্থন করছেন, যা মার্কিন রাজনীতির প্রেক্ষাপটে খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে ২০১৫ সালে বারাক ওবামা এবং ২০২২ সালে জো বাইডেন প্রশাসনের জনপ্রিয়তার হ্রাসের অনেকটা মিল পাওয়া যায়। রিপাবলিকান জরিপকারী ড্যারন এই ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, ভোটারদের মধ্যে সব প্রেসিডেন্টের প্রতিই কঠোর হওয়ার একটি সহজাত প্রবণতা কাজ করে। তবে একজন রাষ্ট্রপতির জন্য নিজ দলের বাইরে স্বতন্ত্র ভোটারদের আস্থা ধরে রাখা যে কতটা কঠিন, তা এই জরিপের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে।
নীতিগত ইস্যুগুলোতে ট্রাম্পের পারফরম্যান্স রেটিং তুলনামূলকভাবে বেশ নিম্নমুখী। বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি রোধে ৭২ শতাংশ এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ৬৭ শতাংশ মানুষ তাঁকে নেতিবাচক রেটিং দিয়েছেন। এছাড়া অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, ইরান ইস্যু এবং চীন নীতিতেও তিনি বড় ধরনের জনসমর্থন পাননি। তাঁর প্রশাসনের জন্য একমাত্র আশাব্যঞ্জক জায়গা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সীমান্ত সুরক্ষা, যেখানে ৫৩ শতাংশ ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে তাঁর কর্মক্ষমতার প্রতি ৫৮ শতাংশ ভোটারই সরাসরি অসমর্থন জানিয়েছেন, যা গত মাসের তুলনায় পরিস্থিতির বিশেষ কোনো উন্নতি ঘটেনি বলেই ইঙ্গিত দেয়। শুধু প্রেসিডেন্টই নন, নেতিবাচক রেটিংয়ের কবলে পড়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও; যাদের সবারই জনসমর্থনের গ্রাফ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
জরিপটির সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা হলো প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত গুণাবলি ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি। অর্ধেকেরও বেশি ভোটার মনে করেন, দেশের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ট্রাম্পের প্রয়োজনীয় বিচারবুদ্ধি, মানসিক সুস্থতা ও পরিমিত মেজাজের অভাব রয়েছে। প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের মতে তাঁর মেজাজ খিটখিটে এবং ৫৭ শতাংশ মনে করেন তাঁর সঠিক বিচারবুদ্ধির অভাব রয়েছে। এমনকি সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর সহমর্মিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে; ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই বিশ্বাস করেন না যে ট্রাম্প সাধারণ মানুষের স্বার্থ নিয়ে ভাবেন। ২০২৪ সালের তুলনায় তাঁর মানসিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান মানুষের হার আরও ৭ শতাংশ বেড়েছে। মূলত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা এমএজিএ সমর্থকদের বাইরে রিপাবলিকানদের একটি অংশ এবং অধিকাংশ স্বতন্ত্র ভোটারের অনাস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ফক্স নিউজের সাম্প্রতিক এক জরিপে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষতা নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে গভীর সংশয় ও অসন্তোষের চিত্র ফুটে উঠেছে। গত বুধবার প্রকাশিত এই জরিপ অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশেরও বেশি আমেরিকান মনে করেন ট্রাম্প প্রশাসন সরকার পরিচালনায় কার্যকর দক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ এই জরিপে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে; যেখানে প্রতি ১০ জন ডেমোক্র্যাটের মধ্যে ৯ জন এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৭ জনই প্রশাসনের অদক্ষতার কথা উল্লেখ করেছেন। এমনকি রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও ফাটল দেখা দিয়েছে; প্রতি ১০ জন রিপাবলিকানের মধ্যে ২ জন এবং অ-ম্যাগা (Non-MAGA) রিপাবলিকানদের মধ্যে ৪ জনই সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন।
বর্তমানে মাত্র ৪৩ শতাংশ মানুষ হোয়াইট হাউসের কর্মদক্ষতাকে সমর্থন করছেন, যা মার্কিন রাজনীতির প্রেক্ষাপটে খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে ২০১৫ সালে বারাক ওবামা এবং ২০২২ সালে জো বাইডেন প্রশাসনের জনপ্রিয়তার হ্রাসের অনেকটা মিল পাওয়া যায়। রিপাবলিকান জরিপকারী ড্যারন এই ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, ভোটারদের মধ্যে সব প্রেসিডেন্টের প্রতিই কঠোর হওয়ার একটি সহজাত প্রবণতা কাজ করে। তবে একজন রাষ্ট্রপতির জন্য নিজ দলের বাইরে স্বতন্ত্র ভোটারদের আস্থা ধরে রাখা যে কতটা কঠিন, তা এই জরিপের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে।
নীতিগত ইস্যুগুলোতে ট্রাম্পের পারফরম্যান্স রেটিং তুলনামূলকভাবে বেশ নিম্নমুখী। বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি রোধে ৭২ শতাংশ এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ৬৭ শতাংশ মানুষ তাঁকে নেতিবাচক রেটিং দিয়েছেন। এছাড়া অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, ইরান ইস্যু এবং চীন নীতিতেও তিনি বড় ধরনের জনসমর্থন পাননি। তাঁর প্রশাসনের জন্য একমাত্র আশাব্যঞ্জক জায়গা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সীমান্ত সুরক্ষা, যেখানে ৫৩ শতাংশ ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে তাঁর কর্মক্ষমতার প্রতি ৫৮ শতাংশ ভোটারই সরাসরি অসমর্থন জানিয়েছেন, যা গত মাসের তুলনায় পরিস্থিতির বিশেষ কোনো উন্নতি ঘটেনি বলেই ইঙ্গিত দেয়। শুধু প্রেসিডেন্টই নন, নেতিবাচক রেটিংয়ের কবলে পড়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও; যাদের সবারই জনসমর্থনের গ্রাফ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
জরিপটির সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা হলো প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত গুণাবলি ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি। অর্ধেকেরও বেশি ভোটার মনে করেন, দেশের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ট্রাম্পের প্রয়োজনীয় বিচারবুদ্ধি, মানসিক সুস্থতা ও পরিমিত মেজাজের অভাব রয়েছে। প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের মতে তাঁর মেজাজ খিটখিটে এবং ৫৭ শতাংশ মনে করেন তাঁর সঠিক বিচারবুদ্ধির অভাব রয়েছে। এমনকি সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর সহমর্মিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে; ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই বিশ্বাস করেন না যে ট্রাম্প সাধারণ মানুষের স্বার্থ নিয়ে ভাবেন। ২০২৪ সালের তুলনায় তাঁর মানসিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান মানুষের হার আরও ৭ শতাংশ বেড়েছে। মূলত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা এমএজিএ সমর্থকদের বাইরে রিপাবলিকানদের একটি অংশ এবং অধিকাংশ স্বতন্ত্র ভোটারের অনাস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন