বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও সুসংহত করতে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিজেদের মিত্র দেশগুলোর জন্য টোল বা মাশুল মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে নিশ্চিত করেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য তারা বিশেষ এই ছাড়ের ব্যবস্থা করেছেন। বর্তমানে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য এই সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করছে, যার প্রাথমিক তালিকায় রাশিয়ার নাম স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
মিত্রদের এই তালিকায় আর কোন কোন দেশ রয়েছে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বিস্তারিত না জানালেও ইরানের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে বেশ কিছু দেশের নাম উঠে এসেছে। গত মার্চ মাসে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, অনেক দেশ ও জাহাজ মালিক নিরাপদ যাতায়াতের জন্য তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। সে সময় তিনি বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতকে ইরানের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে এই তালিকায় কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যাদের তারা প্রকৃত বন্ধু মনে করে, তাদের জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপারে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরানের এই বাণিজ্যিক তৎপরতা বেশ জোরালো হচ্ছে। দেশটির সংসদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই জানিয়েছেন, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইরান এই প্রণালী দিয়ে ট্রানজিট ফি আদায় শুরু করেছে এবং অর্জিত অর্থ ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়েছে। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু প্রণালীটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি পথ। যুদ্ধের আগে এই রুট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো, যা সারা বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। ফলে বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে মিত্রদের জন্য মাশুল মওকুফের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও সুসংহত করতে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিজেদের মিত্র দেশগুলোর জন্য টোল বা মাশুল মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে নিশ্চিত করেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য তারা বিশেষ এই ছাড়ের ব্যবস্থা করেছেন। বর্তমানে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য এই সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করছে, যার প্রাথমিক তালিকায় রাশিয়ার নাম স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
মিত্রদের এই তালিকায় আর কোন কোন দেশ রয়েছে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বিস্তারিত না জানালেও ইরানের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে বেশ কিছু দেশের নাম উঠে এসেছে। গত মার্চ মাসে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, অনেক দেশ ও জাহাজ মালিক নিরাপদ যাতায়াতের জন্য তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। সে সময় তিনি বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতকে ইরানের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে এই তালিকায় কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যাদের তারা প্রকৃত বন্ধু মনে করে, তাদের জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপারে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরানের এই বাণিজ্যিক তৎপরতা বেশ জোরালো হচ্ছে। দেশটির সংসদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই জানিয়েছেন, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইরান এই প্রণালী দিয়ে ট্রানজিট ফি আদায় শুরু করেছে এবং অর্জিত অর্থ ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়েছে। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু প্রণালীটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি পথ। যুদ্ধের আগে এই রুট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো, যা সারা বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। ফলে বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে মিত্রদের জন্য মাশুল মওকুফের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন