সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ, কিন্তু কৃষকের মনে নেই সেই প্রত্যাশিত আনন্দ। সদর উপজেলার বাওন হাওরে বৈশাখের তপ্ত দুপুরে যখন ধান কাটার ধুম পড়ার কথা, তখন কৃষক আলী আকবরকে দেখা গেল চরম দুশ্চিন্তার মাঝে। শ্রমিকের উচ্চ মজুরি আর সংকটের কারণে নিজের ১৩ বছর বয়সী ছেলে রেদোয়ানকে নিয়েই মাঠে নেমেছেন তিনি। অভাবের তাড়নায় সপ্তম শ্রেণির পর বড় ছেলের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয়েছে তাকে। আলী আকবরের সোজাসাপ্টা কথা—এখন কৃষিকাজ কেবল টিকে থাকার লড়াই, লাভের কোনো ছিটেফোঁটাও এখানে নেই।
একজন বর্গাচাষি হিসেবে আলী আকবরের হিসাব বলছে, এক বিঘা জমিতে সার, বীজ আর কীটনাশক মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। এর ওপর ধান কাটা ও মাড়াইয়ের চড়া খরচ তো আছেই। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এখন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, যা মেটানো সাধারণ কৃষকের সাধ্যাতীত। এক বিঘা জমিতে ১২ থেকে ১৪ মণ ধান হলেও সব খরচ বাদ দিলে হাতে যা থাকে, তা দিয়ে ছয় সদস্যের সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। একদিকে ডিজেলের অস্বাভাবিক দাম আর অন্যদিকে বাজারে নিত্যপণ্যের আগুনদামে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরের এই মানুষগুলো।
বাজারে সবজি থেকে শুরু করে তেল-আলু সবকিছুর দাম বাড়লেও ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ার ক্ষোভ প্রতিটি কৃষকের কণ্ঠে। আলী আকবর আক্ষেপ করে বলছিলেন, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কম দামে। বিশেষ করে যারা জমি আবাদের সময় ধারদেনা করেছিলেন, পাওনাদারের তাগাদায় তাদের এখন মণপ্রতি মাত্র ৮০০ টাকায় ধান ছেড়ে দিতে হচ্ছে। অথচ বৈশাখের শেষে এই দাম বাড়বে জেনেও বর্তমানের সংকট সামাল দিতে তারা সস্তায় ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডিজেল সংকটের কারণে ধান মাড়াইয়ের কাজেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। মাড়াই মেশিনের চালক শাহীন মিয়া জানালেন, পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে এবং বকশিশ দিয়ে তবেই সামান্য তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং আর জ্বালানির অভাবে মেশিন চালানো এখন লোকসানি কাজে পরিণত হয়েছে। আলী আকবরের প্রতিবেশী কৃষক আবদুল মছব্বির ও নূর আহমদের কণ্ঠেও ঝরে পড়ল একই হাহাকার। দূরের কোনো যুদ্ধের দোহাই দিয়ে সবকিছুর দাম বাড়লেও প্রান্তিক কৃষকের এই নীরব হাহাকার দেখার যেন কেউ নেই। সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে—এমনই এক অজানা আশঙ্কায় কাটছে তাদের সোনালি বৈশাখ।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ, কিন্তু কৃষকের মনে নেই সেই প্রত্যাশিত আনন্দ। সদর উপজেলার বাওন হাওরে বৈশাখের তপ্ত দুপুরে যখন ধান কাটার ধুম পড়ার কথা, তখন কৃষক আলী আকবরকে দেখা গেল চরম দুশ্চিন্তার মাঝে। শ্রমিকের উচ্চ মজুরি আর সংকটের কারণে নিজের ১৩ বছর বয়সী ছেলে রেদোয়ানকে নিয়েই মাঠে নেমেছেন তিনি। অভাবের তাড়নায় সপ্তম শ্রেণির পর বড় ছেলের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয়েছে তাকে। আলী আকবরের সোজাসাপ্টা কথা—এখন কৃষিকাজ কেবল টিকে থাকার লড়াই, লাভের কোনো ছিটেফোঁটাও এখানে নেই।
একজন বর্গাচাষি হিসেবে আলী আকবরের হিসাব বলছে, এক বিঘা জমিতে সার, বীজ আর কীটনাশক মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। এর ওপর ধান কাটা ও মাড়াইয়ের চড়া খরচ তো আছেই। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি এখন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, যা মেটানো সাধারণ কৃষকের সাধ্যাতীত। এক বিঘা জমিতে ১২ থেকে ১৪ মণ ধান হলেও সব খরচ বাদ দিলে হাতে যা থাকে, তা দিয়ে ছয় সদস্যের সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। একদিকে ডিজেলের অস্বাভাবিক দাম আর অন্যদিকে বাজারে নিত্যপণ্যের আগুনদামে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরের এই মানুষগুলো।
বাজারে সবজি থেকে শুরু করে তেল-আলু সবকিছুর দাম বাড়লেও ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ার ক্ষোভ প্রতিটি কৃষকের কণ্ঠে। আলী আকবর আক্ষেপ করে বলছিলেন, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কম দামে। বিশেষ করে যারা জমি আবাদের সময় ধারদেনা করেছিলেন, পাওনাদারের তাগাদায় তাদের এখন মণপ্রতি মাত্র ৮০০ টাকায় ধান ছেড়ে দিতে হচ্ছে। অথচ বৈশাখের শেষে এই দাম বাড়বে জেনেও বর্তমানের সংকট সামাল দিতে তারা সস্তায় ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডিজেল সংকটের কারণে ধান মাড়াইয়ের কাজেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। মাড়াই মেশিনের চালক শাহীন মিয়া জানালেন, পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে এবং বকশিশ দিয়ে তবেই সামান্য তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং আর জ্বালানির অভাবে মেশিন চালানো এখন লোকসানি কাজে পরিণত হয়েছে। আলী আকবরের প্রতিবেশী কৃষক আবদুল মছব্বির ও নূর আহমদের কণ্ঠেও ঝরে পড়ল একই হাহাকার। দূরের কোনো যুদ্ধের দোহাই দিয়ে সবকিছুর দাম বাড়লেও প্রান্তিক কৃষকের এই নীরব হাহাকার দেখার যেন কেউ নেই। সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে—এমনই এক অজানা আশঙ্কায় কাটছে তাদের সোনালি বৈশাখ।

আপনার মতামত লিখুন