ইসরায়েলের দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী শাসনের অবসান ঘটাতে একাট্টা হয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী শক্তিগুলো। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক আদর্শের ভেদাভেদ ভুলে জোট বেঁধেছেন সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ। গত বৃহস্পতিবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা ‘টুগেদার’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
ইসরায়েলের রাজনীতিতে এই মেরুকরণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডানপন্থী বেনেট এবং মধ্যপন্থী লাপিদের এই হাত মেলানোর নেপথ্যে রয়েছে নেতানিয়াহুর একচ্ছত্র আধিপত্য ও বর্তমান প্রশাসনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো। সংবাদ সম্মেলনে ইয়ার লাপিদ বর্তমান সরকারকে ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইসরায়েলকে একটি গতিশীল ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব উপহার দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
২০২২ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টরপন্থী মন্ত্রিসভা গঠন করেন। তবে তার এই শাসনামলে গাজা ও লেবাননে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং ইরানের সাথে সরাসরি সামরিক উত্তেজনা জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার কারণে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় বড় ধস নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে বেনেট-লাপিদ জোটের এই নজিরবিহীন ঐক্য ঝানু রাজনীতিক নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধরণের অস্তিত্ব সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘টুগেদার’ জোট গঠনের মাধ্যমে ইসরায়েলে একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা হলো। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এই ঐক্যবদ্ধ বিরোধী শক্তি ভোটারদের মনে কতটা আস্থা জাগাতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ইসরায়েলের দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী শাসনের অবসান ঘটাতে একাট্টা হয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী শক্তিগুলো। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক আদর্শের ভেদাভেদ ভুলে জোট বেঁধেছেন সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ। গত বৃহস্পতিবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা ‘টুগেদার’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
ইসরায়েলের রাজনীতিতে এই মেরুকরণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডানপন্থী বেনেট এবং মধ্যপন্থী লাপিদের এই হাত মেলানোর নেপথ্যে রয়েছে নেতানিয়াহুর একচ্ছত্র আধিপত্য ও বর্তমান প্রশাসনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো। সংবাদ সম্মেলনে ইয়ার লাপিদ বর্তমান সরকারকে ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইসরায়েলকে একটি গতিশীল ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব উপহার দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
২০২২ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টরপন্থী মন্ত্রিসভা গঠন করেন। তবে তার এই শাসনামলে গাজা ও লেবাননে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং ইরানের সাথে সরাসরি সামরিক উত্তেজনা জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার কারণে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় বড় ধস নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে বেনেট-লাপিদ জোটের এই নজিরবিহীন ঐক্য ঝানু রাজনীতিক নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধরণের অস্তিত্ব সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘টুগেদার’ জোট গঠনের মাধ্যমে ইসরায়েলে একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা হলো। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এই ঐক্যবদ্ধ বিরোধী শক্তি ভোটারদের মনে কতটা আস্থা জাগাতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন