দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু ভয়াবহ আকার ধারণ করায় বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ (ডিপিপিএইচ)। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকেরা এই দাবি জানান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিশ্চিত হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৫ জনে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই মারা গেছে ৪ জন। বর্তমানে ৯৪২ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন হাম আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে, যা এই রোগের বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলছে।
সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, "কোনো রোগের বিস্তার যখন সময়, স্থান ও আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে এবং বিদ্যমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা তা সামাল দিতে হিমশিম খায়, তখনই সেটি জরুরি পরিস্থিতি। হামের বর্তমান সংক্রমণ সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে।"
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিপিপিএইচ-এর পক্ষ থেকে লিখিত সুপারিশ তুলে ধরা হয়: অবিলম্বে দেশব্যাপী বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এবং দুর্গম এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা। টিকার পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা এবং হাম-পরবর্তী জটিলতা (যেমন রাতকানা) রোধে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও প্রয়োজনীয় ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি হাসপাতালে সংক্রামক রোগের জন্য বিশেষ কর্নার চালু করা। টিকা নিয়ে গুজব দূর করতে ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বাড়ানো।
বক্তারা অভিযোগ করেন, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জনস্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলার কারণেই পরিস্থিতি আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমনকি আগে টিকা নেওয়া শিশু এবং ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগে এত শিশুর মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
দেশে হামের সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যু ভয়াবহ আকার ধারণ করায় বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ (ডিপিপিএইচ)। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকেরা এই দাবি জানান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিশ্চিত হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৫ জনে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই মারা গেছে ৪ জন। বর্তমানে ৯৪২ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন হাম আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে, যা এই রোগের বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলছে।
সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, "কোনো রোগের বিস্তার যখন সময়, স্থান ও আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে এবং বিদ্যমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা তা সামাল দিতে হিমশিম খায়, তখনই সেটি জরুরি পরিস্থিতি। হামের বর্তমান সংক্রমণ সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে।"
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিপিপিএইচ-এর পক্ষ থেকে লিখিত সুপারিশ তুলে ধরা হয়: অবিলম্বে দেশব্যাপী বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এবং দুর্গম এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা। টিকার পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা এবং হাম-পরবর্তী জটিলতা (যেমন রাতকানা) রোধে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও প্রয়োজনীয় ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি হাসপাতালে সংক্রামক রোগের জন্য বিশেষ কর্নার চালু করা। টিকা নিয়ে গুজব দূর করতে ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বাড়ানো।
বক্তারা অভিযোগ করেন, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জনস্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলার কারণেই পরিস্থিতি আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমনকি আগে টিকা নেওয়া শিশু এবং ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগে এত শিশুর মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন