টানা চার দিনের ভারি বর্ষণ আর সীমান্ত পেরিয়ে আসা উজানের পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উজান থেকে ধেয়ে আসা এই পানির চাপে সীমান্তবর্তী এই জনপদে এখন আকস্মিক বন্যার আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের আধাপাকা বোরো ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। সোনালী স্বপ্ন চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেক কৃষক তড়িঘড়ি করে কাঁচা-পাকা ধানই কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।
উপজেলার প্রধান নদী উব্দাখালীসহ মহাদেও, গণেশ্বরী ও মঙ্গলেশ্বরীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত উব্দাখালী নদীর ডাকবাংলো পয়েন্টে পানি বিপদসীমার কিছুটা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও স্থানীয়রা বলছেন, ভারতের চেরাপুঞ্জি ও সুনামগঞ্জ এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। পরিস্থিতি ইতিমধ্যে এতটাই বেগতিক যে, মেদী ও তেলেঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি বিলের পাকা ধান তলিয়ে গেছে। মাঠের নিচু এলাকার ফসল রক্ষায় কৃষকেরা এখন প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। সোনডুবি হাওড়পারের মন্তলা গ্রামের কৃষক আবুল মিয়া আক্ষেপ করে বলছিলেন, একদিকে বজ্রপাতের ভয় আর অন্যদিকে পানির তোড়—দুইয়ের মাঝেই ঝুঁকি নিয়ে তারা ধান কাটছেন।
সরকারি হিসাব মতে, এ বছর উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। কৃষি বিভাগ ৪৫ শতাংশ ধান কাটার দাবি করলেও কৃষকদের দাবি, ২৫ শতাংশের বেশি ধান এখনো কাটা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় আধুনিক যন্ত্র ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ চালানো যাচ্ছে না, আবার শ্রমিকের সংকট ও জ্বালানি স্বল্পতায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকানোও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, তারা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কৃষি অফিস। নেত্রকোণা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাঁধগুলো রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং জরুরি প্রয়োজনে জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি না থামলে কলমাকান্দার এই বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
টানা চার দিনের ভারি বর্ষণ আর সীমান্ত পেরিয়ে আসা উজানের পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উজান থেকে ধেয়ে আসা এই পানির চাপে সীমান্তবর্তী এই জনপদে এখন আকস্মিক বন্যার আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের আধাপাকা বোরো ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। সোনালী স্বপ্ন চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেক কৃষক তড়িঘড়ি করে কাঁচা-পাকা ধানই কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।
উপজেলার প্রধান নদী উব্দাখালীসহ মহাদেও, গণেশ্বরী ও মঙ্গলেশ্বরীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত উব্দাখালী নদীর ডাকবাংলো পয়েন্টে পানি বিপদসীমার কিছুটা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও স্থানীয়রা বলছেন, ভারতের চেরাপুঞ্জি ও সুনামগঞ্জ এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। পরিস্থিতি ইতিমধ্যে এতটাই বেগতিক যে, মেদী ও তেলেঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি বিলের পাকা ধান তলিয়ে গেছে। মাঠের নিচু এলাকার ফসল রক্ষায় কৃষকেরা এখন প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। সোনডুবি হাওড়পারের মন্তলা গ্রামের কৃষক আবুল মিয়া আক্ষেপ করে বলছিলেন, একদিকে বজ্রপাতের ভয় আর অন্যদিকে পানির তোড়—দুইয়ের মাঝেই ঝুঁকি নিয়ে তারা ধান কাটছেন।
সরকারি হিসাব মতে, এ বছর উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। কৃষি বিভাগ ৪৫ শতাংশ ধান কাটার দাবি করলেও কৃষকদের দাবি, ২৫ শতাংশের বেশি ধান এখনো কাটা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় আধুনিক যন্ত্র ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ চালানো যাচ্ছে না, আবার শ্রমিকের সংকট ও জ্বালানি স্বল্পতায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকানোও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, তারা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কৃষি অফিস। নেত্রকোণা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাঁধগুলো রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং জরুরি প্রয়োজনে জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি না থামলে কলমাকান্দার এই বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন