মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা এখন এক বিশাল মানবিক ও বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিয়েছে। জ্বালানি তেল পরিবহণের এই প্রধান রুটটি স্থবির হয়ে পড়ায় বর্তমানে পারস্য উপসাগরে প্রায় দুই হাজার বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন। নিরাপত্তা ঝুঁকির তীব্রতায় কোনো জাহাজই এই জলপথ পাড়ি দেওয়ার সাহস পাচ্ছে না, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
মূলত গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘যুদ্ধ ঝুঁকি বীমা’ বাতিল করার পর থেকেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। বীমা সুবিধা না থাকায় এবং ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী জলপথে নৌ-মাইন পেতে রাখায় এই রুটটি কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই মাইনগুলো পুরোপুরি পরিষ্কার করে নৌপথটি নিরাপদ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশেরও বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা সামগ্রিক বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি বিশাল ধাক্কা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন যে, ভবিষ্যতে মাইন সরানো হলেও বীমা খরচ আকাশচুম্বী থাকবে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামকে দীর্ঘসময় উচ্চমূল্যে ধরে রাখবে।
অন্যদিকে, ওমান উপসাগরে ইরানি কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’ আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে। ইরান এই ঘটনাকে ‘সমুদ্র দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও নাবিকদের প্রাণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ জন ইরানি নাবিকের মধ্যে ২২ জন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। তেহরান জানিয়েছে, তারা আইনি পথেই বাকি নাবিকদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা এখন এক বিশাল মানবিক ও বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিয়েছে। জ্বালানি তেল পরিবহণের এই প্রধান রুটটি স্থবির হয়ে পড়ায় বর্তমানে পারস্য উপসাগরে প্রায় দুই হাজার বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন। নিরাপত্তা ঝুঁকির তীব্রতায় কোনো জাহাজই এই জলপথ পাড়ি দেওয়ার সাহস পাচ্ছে না, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
মূলত গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘যুদ্ধ ঝুঁকি বীমা’ বাতিল করার পর থেকেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। বীমা সুবিধা না থাকায় এবং ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী জলপথে নৌ-মাইন পেতে রাখায় এই রুটটি কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই মাইনগুলো পুরোপুরি পরিষ্কার করে নৌপথটি নিরাপদ করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশেরও বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা সামগ্রিক বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি বিশাল ধাক্কা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন যে, ভবিষ্যতে মাইন সরানো হলেও বীমা খরচ আকাশচুম্বী থাকবে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামকে দীর্ঘসময় উচ্চমূল্যে ধরে রাখবে।
অন্যদিকে, ওমান উপসাগরে ইরানি কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’ আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে। ইরান এই ঘটনাকে ‘সমুদ্র দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও নাবিকদের প্রাণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ জন ইরানি নাবিকের মধ্যে ২২ জন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। তেহরান জানিয়েছে, তারা আইনি পথেই বাকি নাবিকদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি

আপনার মতামত লিখুন