দিকপাল

ক্রিকেট পাড়ায় নির্বাচনী হাওয়া, শুরু হচ্ছে প্যানেল যুদ্ধ!


স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ | ০১:৩৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ক্রিকেট পাড়ায় নির্বাচনী হাওয়া, শুরু হচ্ছে প্যানেল যুদ্ধ!

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রশাসনিক কাঠামোর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বর্তমান অ্যাডহক কমিটির তৃতীয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। এই কমিশনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একজন প্রতিনিধি থাকবেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অথবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে এবং বাকি দুজনকে বোর্ড নিজেই মনোনীত করবে।

নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিসিবি গঠনতন্ত্রের ১২.৭ ধারা অনুযায়ী সব ক্যাটাগরি থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাউন্সিলরদের নাম চাওয়া হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি, তবে বোর্ড আশা করছে আগামী সাত দিনের মধ্যেই কাউন্সিলরদের চূড়ান্ত তালিকা পাওয়া যাবে। বিশেষ এক সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো আগের কমিটিতে থাকলেও জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) এখন থেকে তাদের বিশেষ ক্ষমতাবলে সাবেক ক্রিকেটার, জাতীয় দলের অধিনায়ক কিংবা দক্ষ ক্রীড়া সংগঠকদের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য না হলেও কাউন্সিলর হতে পারবেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞদের অংশগ্রহণের পথ আরও সুগম করবে।

একই সভায় আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। চট্টগ্রাম, সিলেট এবং বরিশাল আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার পূর্বঘোষিত অ্যাডহক কমিটিগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। লক্ষ্যণীয় যে, বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটিতে থাকা মির্জা সালমান ইস্পাহানীরাই এই বিলুপ্তির প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন, যেখানে সালমান ইস্পাহানী নিজেই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কমিটিতে একসময় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। পাশাপাশি, বোর্ড তাদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে আগামী দুই বছরের জন্য ‘কোকা-কোলা বাংলাদেশ’কে বিসিবির অফিশিয়াল ড্রিংকিং ওয়াটার এবং বেভারেজ পার্টনার হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে।

মাঠের লড়াই আর প্রশাসনিক কাজের বাইরে সাবেক ক্রিকেটারদের যথাযথ সম্মান জানাতে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন বোর্ড প্রধান তামিম ইকবাল। ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডের আদলে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য একটি আধুনিক এবং প্রিমিয়াম লাউঞ্জ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সভার পর অ্যাডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহাকে নিয়ে স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন শেষে তামিম ইকবাল জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই লাউঞ্জটি প্রস্তুত হয়ে যাবে। এখানে সাবেক ক্রিকেটাররা বিশেষ কার্ড ব্যবহার করে প্রবেশ করতে পারবেন এবং আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি চা-কফি পানের সুবিধা পাবেন। এটি মূলত সাবেক খেলোয়াড়দের জন্য একটি স্থায়ী মিলনস্থল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখান থেকে তারা মাঠের খেলাও উপভোগ করতে পারবেন।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


ক্রিকেট পাড়ায় নির্বাচনী হাওয়া, শুরু হচ্ছে প্যানেল যুদ্ধ!

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রশাসনিক কাঠামোর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বর্তমান অ্যাডহক কমিটির তৃতীয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। এই কমিশনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একজন প্রতিনিধি থাকবেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অথবা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে এবং বাকি দুজনকে বোর্ড নিজেই মনোনীত করবে।

নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিসিবি গঠনতন্ত্রের ১২.৭ ধারা অনুযায়ী সব ক্যাটাগরি থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাউন্সিলরদের নাম চাওয়া হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি, তবে বোর্ড আশা করছে আগামী সাত দিনের মধ্যেই কাউন্সিলরদের চূড়ান্ত তালিকা পাওয়া যাবে। বিশেষ এক সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো আগের কমিটিতে থাকলেও জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) এখন থেকে তাদের বিশেষ ক্ষমতাবলে সাবেক ক্রিকেটার, জাতীয় দলের অধিনায়ক কিংবা দক্ষ ক্রীড়া সংগঠকদের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য না হলেও কাউন্সিলর হতে পারবেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞদের অংশগ্রহণের পথ আরও সুগম করবে।

একই সভায় আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। চট্টগ্রাম, সিলেট এবং বরিশাল আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার পূর্বঘোষিত অ্যাডহক কমিটিগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। লক্ষ্যণীয় যে, বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটিতে থাকা মির্জা সালমান ইস্পাহানীরাই এই বিলুপ্তির প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন, যেখানে সালমান ইস্পাহানী নিজেই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কমিটিতে একসময় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। পাশাপাশি, বোর্ড তাদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে আগামী দুই বছরের জন্য ‘কোকা-কোলা বাংলাদেশ’কে বিসিবির অফিশিয়াল ড্রিংকিং ওয়াটার এবং বেভারেজ পার্টনার হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে।

মাঠের লড়াই আর প্রশাসনিক কাজের বাইরে সাবেক ক্রিকেটারদের যথাযথ সম্মান জানাতে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন বোর্ড প্রধান তামিম ইকবাল। ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডের আদলে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য একটি আধুনিক এবং প্রিমিয়াম লাউঞ্জ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সভার পর অ্যাডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহাকে নিয়ে স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন শেষে তামিম ইকবাল জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই লাউঞ্জটি প্রস্তুত হয়ে যাবে। এখানে সাবেক ক্রিকেটাররা বিশেষ কার্ড ব্যবহার করে প্রবেশ করতে পারবেন এবং আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি চা-কফি পানের সুবিধা পাবেন। এটি মূলত সাবেক খেলোয়াড়দের জন্য একটি স্থায়ী মিলনস্থল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখান থেকে তারা মাঠের খেলাও উপভোগ করতে পারবেন।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল