দিকপাল

আইএসডব্লিউর দাবি, পুনরায় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ইরান


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ০৫:৫১ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

আইএসডব্লিউর দাবি, পুনরায় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে এক নতুন উত্তেজনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির আড়ালে ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে পুনরায় পূর্ণোদ্যমে যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার বা আইএসডব্লিউ তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান কেবল যুদ্ধের প্রস্তুতিই নিচ্ছে না, বরং কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও তারা অত্যন্ত কঠোর অবস্থান বেছে নিয়েছে।

আইএসডব্লিউ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান ভবিষ্যতে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের হামলা বন্ধের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা চাচ্ছে। তারা ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের সার্বভৌমত্ব এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের কর্তৃত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। ভবিষ্যতে ইরান সীমান্তে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না—এমন নির্ভরযোগ্য প্রতিশ্রুতি ছাড়া তারা কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে রাজি নয়। তেহরানের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ যেকোনো অস্থিরতা কঠোর হাতে দমন করতে হলে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের জন্য অপরিহার্য।

এদিকে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি দেশটির রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে। আহমদ ভাহিদি ও তার ঘনিষ্ঠ বলয় এখন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের কৌশলগত সামরিক সরঞ্জামগুলো অত্যন্ত গোপনে এমন সব জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে যেখানে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করবে না। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরপরই ইরান তাদের বেশ কিছু সামরিক ও বেসামরিক বিমান প্রতিবেশী পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের নিরাপদ ঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়েছে। তারা মূলত মার্কিন হামলা থেকে তাদের আকাশপথের শক্তিকে রক্ষা করার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, কূটনৈতিক ময়দানেও পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের একটি আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সেই প্রতিক্রিয়াকে কোনো গুরুত্বই দেননি। তিনি ইরানের দেওয়া জবাবকে সরাসরি ‘আবর্জনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে চলা এই যুদ্ধবিরতি কার্যত মৃত্যুশয্যায় রয়েছে বা এটি নামমাত্র টিকে আছে।

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা যাচ্ছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা তাকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরামর্শ দিচ্ছেন। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টও এখন তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যাপকভিত্তিক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। কূটনৈতিক সমাধান এখন সুদূর পরাহত বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা, কারণ উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর আস্থা হারিয়ে চরম সংঘাতের পথে পা বাড়াচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


আইএসডব্লিউর দাবি, পুনরায় যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ইরান

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে এক নতুন উত্তেজনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির আড়ালে ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে পুনরায় পূর্ণোদ্যমে যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার বা আইএসডব্লিউ তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান কেবল যুদ্ধের প্রস্তুতিই নিচ্ছে না, বরং কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও তারা অত্যন্ত কঠোর অবস্থান বেছে নিয়েছে।

আইএসডব্লিউ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান ভবিষ্যতে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের হামলা বন্ধের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা চাচ্ছে। তারা ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের সার্বভৌমত্ব এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের কর্তৃত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। ভবিষ্যতে ইরান সীমান্তে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না—এমন নির্ভরযোগ্য প্রতিশ্রুতি ছাড়া তারা কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে রাজি নয়। তেহরানের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ যেকোনো অস্থিরতা কঠোর হাতে দমন করতে হলে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের জন্য অপরিহার্য।

এদিকে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি দেশটির রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে। আহমদ ভাহিদি ও তার ঘনিষ্ঠ বলয় এখন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের কৌশলগত সামরিক সরঞ্জামগুলো অত্যন্ত গোপনে এমন সব জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে যেখানে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করবে না। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরপরই ইরান তাদের বেশ কিছু সামরিক ও বেসামরিক বিমান প্রতিবেশী পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের নিরাপদ ঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়েছে। তারা মূলত মার্কিন হামলা থেকে তাদের আকাশপথের শক্তিকে রক্ষা করার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, কূটনৈতিক ময়দানেও পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের একটি আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সেই প্রতিক্রিয়াকে কোনো গুরুত্বই দেননি। তিনি ইরানের দেওয়া জবাবকে সরাসরি ‘আবর্জনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে চলা এই যুদ্ধবিরতি কার্যত মৃত্যুশয্যায় রয়েছে বা এটি নামমাত্র টিকে আছে।

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা যাচ্ছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা তাকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরামর্শ দিচ্ছেন। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টও এখন তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যাপকভিত্তিক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। কূটনৈতিক সমাধান এখন সুদূর পরাহত বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা, কারণ উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর আস্থা হারিয়ে চরম সংঘাতের পথে পা বাড়াচ্ছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল