দিকপাল

তিন শ্রেণির বইয়ে আসছে নতুন তিন বিষয়, বদলাচ্ছে পাঠক্রম


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ১২:২৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

তিন শ্রেণির বইয়ে আসছে নতুন তিন বিষয়, বদলাচ্ছে পাঠক্রম

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে। ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের সংস্কার এবং নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং জাতীয় ইতিহাসের একটি ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র তুলে ধরা।

শিক্ষার নতুন এই পরিকল্পনায় চতুর্থ শ্রেণিতে ‘ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি’, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং সপ্তম শ্রেণিতে ‘জীবন ও কর্মমুখী শিক্ষা’ নামে তিনটি সম্পূর্ণ নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান পাঠ্যবইগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো সমসাময়িক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের পুরোনো বিষয়বস্তু সরিয়ে সেখানে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ যুক্ত করা হবে।

ইতিহাসের পাতায় সত্যনিষ্ঠ ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি। মাধ্যমিক পর্যায়ের ইতিহাস ও বিশ্বপরিচয় বইগুলোতে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ফোর্সের বিস্তারিত বিবরণ যুক্ত করা হবে। পাঠ্যবইয়ে স্থান পাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা এবং জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোও নতুন আঙ্গিকে সংযোজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন জাতীয় ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে পারে, সেই প্রচেষ্টাই চালানো হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের কেবল পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন পাঠ্যক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস এবং দাবার মতো খেলার পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতিকে পাঠের অবিচ্ছেদ্য অংশ করা হয়েছে। এসব বিষয়ের ক্ষেত্রে গতানুগতিক পরীক্ষার বদলে শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণ ও ব্যবহারিক দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। বইয়ের মানোন্নয়নে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। তারা বইয়ের ভাষা সহজবোধ্য করার পাশাপাশি বানান সংশোধন এবং দৃষ্টিনন্দন ছবি ও মানচিত্র ব্যবহারের ওপর কাজ করছেন।

আগামী দুই মাসের মধ্যে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরের মোট ১৩৫টি বই পরিমার্জনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনসিটিবি। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সাল থেকে নতুন এই শিক্ষাক্রম পুরোদমে বাস্তবায়ন শুরু হবে। এই সংস্কার প্রক্রিয়ার ফলে দেশের সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


তিন শ্রেণির বইয়ে আসছে নতুন তিন বিষয়, বদলাচ্ছে পাঠক্রম

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে। ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের সংস্কার এবং নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং জাতীয় ইতিহাসের একটি ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র তুলে ধরা।

শিক্ষার নতুন এই পরিকল্পনায় চতুর্থ শ্রেণিতে ‘ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি’, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং সপ্তম শ্রেণিতে ‘জীবন ও কর্মমুখী শিক্ষা’ নামে তিনটি সম্পূর্ণ নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান পাঠ্যবইগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো সমসাময়িক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের পুরোনো বিষয়বস্তু সরিয়ে সেখানে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ যুক্ত করা হবে।

ইতিহাসের পাতায় সত্যনিষ্ঠ ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি। মাধ্যমিক পর্যায়ের ইতিহাস ও বিশ্বপরিচয় বইগুলোতে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ফোর্সের বিস্তারিত বিবরণ যুক্ত করা হবে। পাঠ্যবইয়ে স্থান পাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা এবং জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোও নতুন আঙ্গিকে সংযোজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন জাতীয় ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করতে পারে, সেই প্রচেষ্টাই চালানো হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের কেবল পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন পাঠ্যক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস এবং দাবার মতো খেলার পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতিকে পাঠের অবিচ্ছেদ্য অংশ করা হয়েছে। এসব বিষয়ের ক্ষেত্রে গতানুগতিক পরীক্ষার বদলে শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণ ও ব্যবহারিক দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। বইয়ের মানোন্নয়নে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। তারা বইয়ের ভাষা সহজবোধ্য করার পাশাপাশি বানান সংশোধন এবং দৃষ্টিনন্দন ছবি ও মানচিত্র ব্যবহারের ওপর কাজ করছেন।

আগামী দুই মাসের মধ্যে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরের মোট ১৩৫টি বই পরিমার্জনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনসিটিবি। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সাল থেকে নতুন এই শিক্ষাক্রম পুরোদমে বাস্তবায়ন শুরু হবে। এই সংস্কার প্রক্রিয়ার ফলে দেশের সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল