দিকপাল

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ১২:৪৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখন থেকে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বা সোলার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। রাজধানীর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে ওমেরার সাথে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, সরকার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত প্রসারে কোনো ধরনের কার্পণ্য করবে না। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশজুড়ে অন্তত দুই হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সেই লক্ষ্য অর্জনে এক বিশাল ভূমিকা রাখবে।

সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি দেশের প্রচলিত পরীক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা জট নিরসনেও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা কার্যক্রম ঢেলে সাজানো হচ্ছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একজন শিক্ষার্থী যাতে ১০ বছরের মধ্যে মাধ্যমিক বা এসএসসি এবং ১২ বছরের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। অকারণে দীর্ঘ সময় অপচয় রোধ করে শিক্ষার এই ধাপগুলো নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দ্রুত উৎপাদনশীল কাজে সম্পৃক্ত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।

শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে এবং যথাযথ সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করার কৌশল নির্ধারণে আজই একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রী জানান, সেই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে কিভাবে পাঠ্যসূচি বা সিলেবাস সময়মতো শেষ করা যায় এবং কোনো ধরনের কালক্ষেপণ ছাড়াই সঠিক সময়ে পরীক্ষাগুলো গ্রহণ করা সম্ভব হয়। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে যে, একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর করতে হবে, আর তার একমাত্র চাবিকাঠি হলো মানসম্মত ও গতিশীল শিক্ষা ব্যবস্থা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার কেবল বিদ্যুৎ খরচই কমাবে না, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে সচেতনতা ও আগ্রহ তৈরি করবে। সরকারের এই দূরদর্শী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা অঙ্গনে এক নতুন এবং উজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখন থেকে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বা সোলার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। রাজধানীর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে ওমেরার সাথে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, সরকার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত প্রসারে কোনো ধরনের কার্পণ্য করবে না। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশজুড়ে অন্তত দুই হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সেই লক্ষ্য অর্জনে এক বিশাল ভূমিকা রাখবে।

সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি দেশের প্রচলিত পরীক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা জট নিরসনেও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা কার্যক্রম ঢেলে সাজানো হচ্ছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একজন শিক্ষার্থী যাতে ১০ বছরের মধ্যে মাধ্যমিক বা এসএসসি এবং ১২ বছরের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। অকারণে দীর্ঘ সময় অপচয় রোধ করে শিক্ষার এই ধাপগুলো নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দ্রুত উৎপাদনশীল কাজে সম্পৃক্ত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।

শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে এবং যথাযথ সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করার কৌশল নির্ধারণে আজই একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রী জানান, সেই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে কিভাবে পাঠ্যসূচি বা সিলেবাস সময়মতো শেষ করা যায় এবং কোনো ধরনের কালক্ষেপণ ছাড়াই সঠিক সময়ে পরীক্ষাগুলো গ্রহণ করা সম্ভব হয়। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে যে, একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর করতে হবে, আর তার একমাত্র চাবিকাঠি হলো মানসম্মত ও গতিশীল শিক্ষা ব্যবস্থা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার কেবল বিদ্যুৎ খরচই কমাবে না, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে সচেতনতা ও আগ্রহ তৈরি করবে। সরকারের এই দূরদর্শী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা অঙ্গনে এক নতুন এবং উজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল