দিকপাল

রাশিয়ার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় নতুন উত্তেজনা


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ১১:০১ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

রাশিয়ার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় নতুন উত্তেজনা

বিশ্বের সামরিক ইতিহাসে নিজেদের আধিপত্য নতুন করে জানান দিয়ে রাশিয়া এবার সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করল তাদের সবথেকে বিধ্বংসী ও শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সারমাত’। গত মঙ্গলবার, ১২ মে ক্রেমলিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই অত্যাধুনিক ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এই দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে বলে দাবি করছে মস্কো। বর্তমানের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাশিয়ার এই শক্তি প্রদর্শন সামরিক কৌশলবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষার পর অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বিবৃতি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি সারমাতকে বর্তমান পৃথিবীর অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও সবথেকে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন। পুতিনের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে থাকা যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এই ক্ষেপণাস্ত্রকে ঠেকানো প্রায় অসম্ভব। তিনি আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই মারণাস্ত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ সেনাবাহিনীর সক্রিয় বহরে যুক্ত হবে। পুতিনের মতে, রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যারা মস্কোকে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের দ্বিতীয়বার ভাবানোর জন্য এই প্রযুক্তির বিকল্প নেই।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সারমাতের এই অভাবনীয় পাল্লা আন্তর্জাতিক সামরিক ভারসাম্যে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিধর দেশগুলোর কাছে থাকা সেরা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা সাধারণত ১২ হাজার কিলোমিটারের আশেপাশে থাকে, সেখানে রাশিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সক্ষমতা যদি প্রমাণিত হয়, তবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই রাশিয়ার আঘাত হানার ক্ষমতা তৈরি হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত যে চুক্তিগুলো ছিল, সেগুলোর মেয়াদ ফুরিয়ে আসার এই সন্ধিক্ষণে এমন শক্তি প্রদর্শন বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘ বছরের নিবিড় গবেষণা ও ধাপে ধাপে সফল পরীক্ষার পর রাশিয়া এই সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রটিকে তাদের সামরিক শক্তির প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তুলেছে। এটি কেবল একটি অস্ত্র নয়, বরং রাশিয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এক বিশাল মাইলফলক। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এই ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার অবস্থানকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার দর কষাকষির ক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি হবে। রাশিয়ার এই অভাবনীয় সামরিক উন্নয়নকে অনেকেই পশ্চিমা বিশ্বের জন্য একটি কঠোর ও প্রকাশ্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।

সূত্র: রয়টার্স।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


রাশিয়ার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় নতুন উত্তেজনা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

বিশ্বের সামরিক ইতিহাসে নিজেদের আধিপত্য নতুন করে জানান দিয়ে রাশিয়া এবার সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করল তাদের সবথেকে বিধ্বংসী ও শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সারমাত’। গত মঙ্গলবার, ১২ মে ক্রেমলিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই অত্যাধুনিক ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এই দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে বলে দাবি করছে মস্কো। বর্তমানের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাশিয়ার এই শক্তি প্রদর্শন সামরিক কৌশলবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষার পর অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বিবৃতি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি সারমাতকে বর্তমান পৃথিবীর অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও সবথেকে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন। পুতিনের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে থাকা যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এই ক্ষেপণাস্ত্রকে ঠেকানো প্রায় অসম্ভব। তিনি আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই মারণাস্ত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ সেনাবাহিনীর সক্রিয় বহরে যুক্ত হবে। পুতিনের মতে, রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যারা মস্কোকে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের দ্বিতীয়বার ভাবানোর জন্য এই প্রযুক্তির বিকল্প নেই।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সারমাতের এই অভাবনীয় পাল্লা আন্তর্জাতিক সামরিক ভারসাম্যে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিধর দেশগুলোর কাছে থাকা সেরা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা সাধারণত ১২ হাজার কিলোমিটারের আশেপাশে থাকে, সেখানে রাশিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সক্ষমতা যদি প্রমাণিত হয়, তবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই রাশিয়ার আঘাত হানার ক্ষমতা তৈরি হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত যে চুক্তিগুলো ছিল, সেগুলোর মেয়াদ ফুরিয়ে আসার এই সন্ধিক্ষণে এমন শক্তি প্রদর্শন বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘ বছরের নিবিড় গবেষণা ও ধাপে ধাপে সফল পরীক্ষার পর রাশিয়া এই সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রটিকে তাদের সামরিক শক্তির প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তুলেছে। এটি কেবল একটি অস্ত্র নয়, বরং রাশিয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এক বিশাল মাইলফলক। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এই ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার অবস্থানকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার দর কষাকষির ক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি হবে। রাশিয়ার এই অভাবনীয় সামরিক উন্নয়নকে অনেকেই পশ্চিমা বিশ্বের জন্য একটি কঠোর ও প্রকাশ্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।

সূত্র: রয়টার্স।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল