মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরের প্রাক্কালে তিনি ইরান ইস্যুতে নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে বেইজিংকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস থেকে যাত্রার আগে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ইরান সংকট মোকাবিলায় বেইজিংয়ের কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন বোধ করছে না ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, ইরান পরিস্থিতি তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো মূল্যে এই দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত।
তবে এই সফরে ইরান ইস্যু ছাপিয়ে অন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাধান্য পেতে যাচ্ছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাণিজ্য, তাইওয়ান পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গভীর পর্যালোচনার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। উল্লেখ্য যে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই ট্রাম্পের প্রথম বেইজিং সফর। এর আগে সর্বশেষ বুসানে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন সম্মেলনে এই দুই বিশ্ব নেতার সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছিল।
বর্তমানে ইরান যুদ্ধ এবং অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতির কারণে নিজ দেশে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথে পরিবাহিত হতো, যা এখন পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এই টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে নতুন কোনো বাণিজ্যিক সমীকরণ মেলাতে ট্রাম্পের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক এবং অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুকসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। ট্রাম্প প্রশাসন বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনের পরিকল্পনা করছে, যার মূল লক্ষ্য হবে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক তিক্ততা কমিয়ে আনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশেষভাবে চাইছেন চীন যেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে কৃষিপণ্য এবং উড়োজাহাজ আমদানিতে সম্মত হয়।
বাণিজ্যের পাশাপাশি এই সফরে আলোচনার টেবিলে উত্তাপ ছড়াতে পারে তাইওয়ান ইস্যু। বিশেষ করে তাইওয়ানের কাছে ১১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির মার্কিন পরিকল্পনা নিয়ে চীন আগে থেকেই তাদের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করবেন। যদিও গত বছর দুই দেশের মধ্যে শুল্ক এবং খনিজ সম্পদ রপ্তানি নিয়ে এক প্রকার বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তবে গত অক্টোবর থেকে তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে।
ট্রাম্পের সময়সূচি অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি বেইজিংয়ে পৌঁছাবেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন এবং শুক্রবার দুই নেতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্ব রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।
তথ্যের মূল উৎস: আলজাজিরা।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরের প্রাক্কালে তিনি ইরান ইস্যুতে নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে বেইজিংকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস থেকে যাত্রার আগে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ইরান সংকট মোকাবিলায় বেইজিংয়ের কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন বোধ করছে না ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, ইরান পরিস্থিতি তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো মূল্যে এই দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত।
তবে এই সফরে ইরান ইস্যু ছাপিয়ে অন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাধান্য পেতে যাচ্ছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাণিজ্য, তাইওয়ান পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গভীর পর্যালোচনার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। উল্লেখ্য যে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই ট্রাম্পের প্রথম বেইজিং সফর। এর আগে সর্বশেষ বুসানে অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন সম্মেলনে এই দুই বিশ্ব নেতার সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছিল।
বর্তমানে ইরান যুদ্ধ এবং অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতির কারণে নিজ দেশে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথে পরিবাহিত হতো, যা এখন পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এই টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে নতুন কোনো বাণিজ্যিক সমীকরণ মেলাতে ট্রাম্পের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক এবং অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুকসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। ট্রাম্প প্রশাসন বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনের পরিকল্পনা করছে, যার মূল লক্ষ্য হবে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক তিক্ততা কমিয়ে আনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশেষভাবে চাইছেন চীন যেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে কৃষিপণ্য এবং উড়োজাহাজ আমদানিতে সম্মত হয়।
বাণিজ্যের পাশাপাশি এই সফরে আলোচনার টেবিলে উত্তাপ ছড়াতে পারে তাইওয়ান ইস্যু। বিশেষ করে তাইওয়ানের কাছে ১১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির মার্কিন পরিকল্পনা নিয়ে চীন আগে থেকেই তাদের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করবেন। যদিও গত বছর দুই দেশের মধ্যে শুল্ক এবং খনিজ সম্পদ রপ্তানি নিয়ে এক প্রকার বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তবে গত অক্টোবর থেকে তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে।
ট্রাম্পের সময়সূচি অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি বেইজিংয়ে পৌঁছাবেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন এবং শুক্রবার দুই নেতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্ব রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।
তথ্যের মূল উৎস: আলজাজিরা।

আপনার মতামত লিখুন