দিকপাল

গ্যাস পাইপলাইনে হাত মিলালো চীন-রাশিয়া, বদলাতে পারে জ্বালানি ভূরাজনীতি


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ২০ মে ২০২৬ | ০৩:৩৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্যাস পাইপলাইনে হাত মিলালো চীন-রাশিয়া, বদলাতে পারে জ্বালানি ভূরাজনীতি

বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে রাশিয়া ও চীন তাদের বহু প্রতীক্ষিত ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ নামক বিশাল গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি দৃঢ় সাধারণ সমঝোতায় উপনীত হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও শীর্ষস্থানীয় এক সহযোগী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এই বড় ধরনের অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিনের আলাপ-আলোচনা ও ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের পর দুই পরাশক্তি দেশের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুদূরপ্রসারী বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

এই ভূরাজনৈতিক মেগা প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার বিশাল জ্বালানি ভাণ্ডারকে সরাসরি চীনের ক্রমবর্ধমান শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের সাথে যুক্ত করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পাইপলাইনটি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে সাইবেরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরাসরি চীনে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের বাজারের ওপর রাশিয়ার একক নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি চীনও তাদের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বস্ত অংশীদার খুঁজে পাবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ সংবাদমাধ্যমকে এই ঐতিহাসিক অগ্রগতির বিশদ বিবরণ দিয়ে জানিয়েছেন যে, যদিও বাণিজ্যিক ও কারিগরি খাতের কিছু সূক্ষ্ম বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা বাকি রয়েছে, তবে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রকল্পের মূল কাঠামোর ওপর একটি নিরেট ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা তৈরি হয়ে গেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আরআইএ নভস্তির বরাতে জানা যায়, বেইজিং এবং মস্কোর মধ্যে হওয়া এই যুগান্তকারী সমঝোতার মধ্যে পাইপলাইনের সুনির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ, ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রমের কৌশল এবং এর জটিল নির্মাণ পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কৌশলগত কারণে এই চুক্তির আরও গভীর আর্থিক বিবরণ বা কাজ শুরুর চূড়ান্ত সময়সূচি এখনই প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষ। পশ্চিমের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে দাঁড়িয়ে চীন ও রাশিয়ার এই জ্বালানি চুক্তি বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন করে পুনর্নির্ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


মূল সূত্র: বিবিসি বাংলা ।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


গ্যাস পাইপলাইনে হাত মিলালো চীন-রাশিয়া, বদলাতে পারে জ্বালানি ভূরাজনীতি

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে রাশিয়া ও চীন তাদের বহু প্রতীক্ষিত ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ নামক বিশাল গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি দৃঢ় সাধারণ সমঝোতায় উপনীত হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও শীর্ষস্থানীয় এক সহযোগী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এই বড় ধরনের অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিনের আলাপ-আলোচনা ও ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের পর দুই পরাশক্তি দেশের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুদূরপ্রসারী বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

এই ভূরাজনৈতিক মেগা প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার বিশাল জ্বালানি ভাণ্ডারকে সরাসরি চীনের ক্রমবর্ধমান শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের সাথে যুক্ত করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পাইপলাইনটি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে সাইবেরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরাসরি চীনে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের বাজারের ওপর রাশিয়ার একক নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি চীনও তাদের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিশ্বস্ত অংশীদার খুঁজে পাবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ সংবাদমাধ্যমকে এই ঐতিহাসিক অগ্রগতির বিশদ বিবরণ দিয়ে জানিয়েছেন যে, যদিও বাণিজ্যিক ও কারিগরি খাতের কিছু সূক্ষ্ম বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা বাকি রয়েছে, তবে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রকল্পের মূল কাঠামোর ওপর একটি নিরেট ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা তৈরি হয়ে গেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আরআইএ নভস্তির বরাতে জানা যায়, বেইজিং এবং মস্কোর মধ্যে হওয়া এই যুগান্তকারী সমঝোতার মধ্যে পাইপলাইনের সুনির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ, ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রমের কৌশল এবং এর জটিল নির্মাণ পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কৌশলগত কারণে এই চুক্তির আরও গভীর আর্থিক বিবরণ বা কাজ শুরুর চূড়ান্ত সময়সূচি এখনই প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষ। পশ্চিমের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে দাঁড়িয়ে চীন ও রাশিয়ার এই জ্বালানি চুক্তি বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন করে পুনর্নির্ধারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


মূল সূত্র: বিবিসি বাংলা ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল