বিশ্ব রাজনীতিতে যখন একপক্ষের যুদ্ধবিরতি আর অন্যপক্ষের টানটান উত্তেজনা নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নজরকাড়া দৃশ্যের সাক্ষী হলো ইরানের রাজধানী তেহরান। চারদিকের যুদ্ধংদেহী আবহাওয়ার মাঝেই এক পিসেমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে দেশটির সরকার এক অভিনব গণবিবাহের আয়োজন করেছে। যেখানে একসাথে গাঁটছড়া বেঁধেছেন এক হাজার তরুণ-তরুণী। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই চোখ ধাঁধানো এবং ব্যতিক্রমী বিয়ের খবরটি জানা গেছে।
সাধারণত রাজকীয় বা জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে বলতে আমাদের চোখে ভেসে ওঠে সারিবদ্ধ বিলাসবহুল লিমুজিন গাড়ি, চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা আর রাজকীয় সাজসজ্জা। কিন্তু তেহরানের এই গণবিবাহে সেই চেনা বৃত্ত থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসা হয়েছে। এখানে আভিজাত্যের প্রতীক লিমুজিনের জায়গা দখল করে নিয়েছিল সামরিক যুদ্ধযান। সাঁজোয়া যান আর সামরিক গাড়িগুলোকে ফুল এবং রঙিন বেলুন দিয়ে চমৎকারভাবে সাজিয়ে বর-কনের গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানস্থলের ঠিক পেছনেই ব্যাকড্রপ বা পটভূমি হিসেবে প্রদর্শন করা হচ্ছিল ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিশাল আকৃতির সব মিসাইল ও ক্ষেপণাস্ত্র। আর এই যুদ্ধাস্ত্রকে পেছনে রেখেই হাসিমুখে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন নবদম্পতিরা।
ঐতিহ্যবাহী বিয়ের সব নিয়মকানুন মেনে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলেও পুরো আয়োজনেই ছিল দেশাত্মবোধক নানা প্রতীকের ছড়াছড়ি। জাতীয় পতাকা ও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়েছিল বিয়ের মূল ভেন্যুগুলো। এই বিশাল উৎসবের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল তেহরানের ঐতিহাসিক ইমাম হোসেন স্কয়ার। শুধুমাত্র এই একটি ভেন্যুতেই একসাথে ১১০টি দম্পতির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। যুদ্ধাস্ত্রের কঠোরতার মাঝে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করার এই অদ্ভুত কিন্তু রোমাঞ্চকর আয়োজনটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে দেশের সামরিক শক্তির জানান দেওয়া, অন্যদিকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও নাগরিকদের জীবনে আনন্দের জোয়ার ফুটিয়ে তোলা— সরকারের এমন দ্বিমুখী কৌশলকে অনেকেই বেশ চতুর ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
তথ্যের মূল উৎস: আল জাজিরা।

বুধবার, ২০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
বিশ্ব রাজনীতিতে যখন একপক্ষের যুদ্ধবিরতি আর অন্যপক্ষের টানটান উত্তেজনা নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নজরকাড়া দৃশ্যের সাক্ষী হলো ইরানের রাজধানী তেহরান। চারদিকের যুদ্ধংদেহী আবহাওয়ার মাঝেই এক পিসেমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে দেশটির সরকার এক অভিনব গণবিবাহের আয়োজন করেছে। যেখানে একসাথে গাঁটছড়া বেঁধেছেন এক হাজার তরুণ-তরুণী। কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই চোখ ধাঁধানো এবং ব্যতিক্রমী বিয়ের খবরটি জানা গেছে।
সাধারণত রাজকীয় বা জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে বলতে আমাদের চোখে ভেসে ওঠে সারিবদ্ধ বিলাসবহুল লিমুজিন গাড়ি, চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা আর রাজকীয় সাজসজ্জা। কিন্তু তেহরানের এই গণবিবাহে সেই চেনা বৃত্ত থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসা হয়েছে। এখানে আভিজাত্যের প্রতীক লিমুজিনের জায়গা দখল করে নিয়েছিল সামরিক যুদ্ধযান। সাঁজোয়া যান আর সামরিক গাড়িগুলোকে ফুল এবং রঙিন বেলুন দিয়ে চমৎকারভাবে সাজিয়ে বর-কনের গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানস্থলের ঠিক পেছনেই ব্যাকড্রপ বা পটভূমি হিসেবে প্রদর্শন করা হচ্ছিল ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিশাল আকৃতির সব মিসাইল ও ক্ষেপণাস্ত্র। আর এই যুদ্ধাস্ত্রকে পেছনে রেখেই হাসিমুখে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন নবদম্পতিরা।
ঐতিহ্যবাহী বিয়ের সব নিয়মকানুন মেনে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলেও পুরো আয়োজনেই ছিল দেশাত্মবোধক নানা প্রতীকের ছড়াছড়ি। জাতীয় পতাকা ও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়েছিল বিয়ের মূল ভেন্যুগুলো। এই বিশাল উৎসবের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল তেহরানের ঐতিহাসিক ইমাম হোসেন স্কয়ার। শুধুমাত্র এই একটি ভেন্যুতেই একসাথে ১১০টি দম্পতির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। যুদ্ধাস্ত্রের কঠোরতার মাঝে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করার এই অদ্ভুত কিন্তু রোমাঞ্চকর আয়োজনটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে দেশের সামরিক শক্তির জানান দেওয়া, অন্যদিকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও নাগরিকদের জীবনে আনন্দের জোয়ার ফুটিয়ে তোলা— সরকারের এমন দ্বিমুখী কৌশলকে অনেকেই বেশ চতুর ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
তথ্যের মূল উৎস: আল জাজিরা।

আপনার মতামত লিখুন