দিকপাল

ভিয়েতনাম যুদ্ধের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে ট্রাম্প বিতর্ক


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ | ০১:৫২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ভিয়েতনাম যুদ্ধের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে ট্রাম্প বিতর্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের বর্তমান রণকৌশল নিয়ে খোদ আমেরিকার ভেতরেই এবার তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বিশেষ দূত রব ম্যালি এক বিস্ফোরক মন্তব্যে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলে এক ঐতিহাসিক ভুলের পুনরাবৃত্তি করছেন এবং তিনি মূলত সেই পুরোনো ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিপজ্জনক ফাঁদেই জড়িয়ে পড়ছেন। মার্কিন প্রশাসনের সাবেক এই নীতি-নির্ধারকের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খ্যাতনামা উপস্থাপক স্টিভ ক্লেমনসকে দেওয়া একটি বিশেষ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে রব ম্যালি ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে কতজন ইরানি সামরিক বা রাজনৈতিক নেতাকে হত্যা করতে পেরেছে, কিংবা ইরানের কতগুলো যুদ্ধজাহাজ, সামরিক ঘাঁটি ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে—সেসব সংখ্যার হিসাব কষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন নিজের সফলতা বা জয় পরিমাপ করেন, তখন তিনি মূলত একটি চরম ‘ভুল পরিমাপক’ বা ভুল সূচক ব্যবহার করছেন। সাবেক এই বিশেষ দূতের মতে, কেবল ধ্বংসলীলা বা সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সংকটের সমাধান কখনই সম্ভব নয়, যা অতীতে ভিয়েতনামের মাটিতেও প্রমাণিত হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একটি কূটনৈতিক পথও বাতলে দিয়েছেন রব ম্যালি। তিনি মনে করেন, এই দীর্ঘমেয়াদি ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানো। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা চুক্তিপত্র তৈরি করতে হবে, যা একদিকে যেমন আমেরিকার নিজস্ব মূল স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, ঠিক তেমনি অন্যদিকে ইরানের মূল জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকেও যথাযথ সম্মান জানাবে। পারস্পরিক সম্মান ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা ছাড়া এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।

তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই ধরনের কোনো সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আসলে কতটা বাস্তবসম্মত—তা নিয়ে নিজের এক অভিনব ও কৌতূহলোদ্দীপক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন ম্যালি। তিনি মন্তব্য করেন, এই ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বা যুদ্ধ জয়ের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে প্রথাগত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক বা সামরিক বিশেষজ্ঞদের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিকরা অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। কারণ পুরো বিষয়টি এখন আর কেবল সামরিক কৌশলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিকের মতে, এই সংকটের ভবিষ্যৎ আসলে সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মানসিকতা, মেজাজ এবং তার মনস্তাত্ত্বিক সিদ্ধান্তের ওপর। ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তার একগুঁয়েমি পরিহার করে কূটনৈতিক পথে হাঁটেন তবেই কেবল শান্তি সম্ভব, অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্য আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের চোরাবালিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মূল সূত্র: আলজাজিরা

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২০ মে ২০২৬


ভিয়েতনাম যুদ্ধের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে ট্রাম্প বিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের বর্তমান রণকৌশল নিয়ে খোদ আমেরিকার ভেতরেই এবার তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বিশেষ দূত রব ম্যালি এক বিস্ফোরক মন্তব্যে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলে এক ঐতিহাসিক ভুলের পুনরাবৃত্তি করছেন এবং তিনি মূলত সেই পুরোনো ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিপজ্জনক ফাঁদেই জড়িয়ে পড়ছেন। মার্কিন প্রশাসনের সাবেক এই নীতি-নির্ধারকের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খ্যাতনামা উপস্থাপক স্টিভ ক্লেমনসকে দেওয়া একটি বিশেষ ও এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে রব ম্যালি ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে কতজন ইরানি সামরিক বা রাজনৈতিক নেতাকে হত্যা করতে পেরেছে, কিংবা ইরানের কতগুলো যুদ্ধজাহাজ, সামরিক ঘাঁটি ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে—সেসব সংখ্যার হিসাব কষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন নিজের সফলতা বা জয় পরিমাপ করেন, তখন তিনি মূলত একটি চরম ‘ভুল পরিমাপক’ বা ভুল সূচক ব্যবহার করছেন। সাবেক এই বিশেষ দূতের মতে, কেবল ধ্বংসলীলা বা সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সংকটের সমাধান কখনই সম্ভব নয়, যা অতীতে ভিয়েতনামের মাটিতেও প্রমাণিত হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একটি কূটনৈতিক পথও বাতলে দিয়েছেন রব ম্যালি। তিনি মনে করেন, এই দীর্ঘমেয়াদি ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানো। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা চুক্তিপত্র তৈরি করতে হবে, যা একদিকে যেমন আমেরিকার নিজস্ব মূল স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, ঠিক তেমনি অন্যদিকে ইরানের মূল জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকেও যথাযথ সম্মান জানাবে। পারস্পরিক সম্মান ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা ছাড়া এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।

তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই ধরনের কোনো সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আসলে কতটা বাস্তবসম্মত—তা নিয়ে নিজের এক অভিনব ও কৌতূহলোদ্দীপক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন ম্যালি। তিনি মন্তব্য করেন, এই ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বা যুদ্ধ জয়ের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে প্রথাগত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক বা সামরিক বিশেষজ্ঞদের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিকরা অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। কারণ পুরো বিষয়টি এখন আর কেবল সামরিক কৌশলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিকের মতে, এই সংকটের ভবিষ্যৎ আসলে সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মানসিকতা, মেজাজ এবং তার মনস্তাত্ত্বিক সিদ্ধান্তের ওপর। ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তার একগুঁয়েমি পরিহার করে কূটনৈতিক পথে হাঁটেন তবেই কেবল শান্তি সম্ভব, অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্য আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের চোরাবালিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মূল সূত্র: আলজাজিরা


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল