দিকপাল

একতরফা আধিপত্য ঠেকাতে চীন-রাশিয়ার ঐকমত্য


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ২০ মে ২০২৬ | ০৪:৫৩ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

একতরফা আধিপত্য ঠেকাতে চীন-রাশিয়ার ঐকমত্য

বিশ্ব রাজনীতি এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের এক নতুন বার্তা দিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি বেইজিং ও মস্কোর মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় আরো জোরদার করার লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। দুই দেশের মধ্যে সুপ্রতিবেশী সুলভ সম্পর্ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গভীরতর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে দাঁড়িয়ে চীন ও রাশিয়ার এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিচ্ছে।

এই ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের শীর্ষ নেতারা বাণিজ্য, আধুনিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, মেধাস্বত্ব এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন অতি সংবেদনশীল ক্ষেত্রে একাধিক যুগান্তকারী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এখানেই শেষ নয়, আগামী দিনগুলোতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যেতে উভয় দেশের কর্মকর্তারা আরও অন্তত ২০টি বিশেষ কৌশলগত নথিতে স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে দুই পরাশক্তি দেশ নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতাকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে গড়ে তোলার এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

যৌথ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছেন যে, সময়ের সাথে সাথে চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক ক্রমশ উন্নত ও পরিপক্ব হয়েছে এবং তা এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বে পৌঁছেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশ সম্পূর্ণ সমান মর্যাদার ভিত্তিতে এবং পারস্পরিক সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে একে অপরের সাথে আন্তর্জাতিক আচরণ পরিচালনা করছে। তার দাবি, এই যুগান্তকারী চুক্তির মাধ্যমে বেইজিং ও মস্কোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন একটি সম্পূর্ণ নতুন সূচনা বিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতের বিশ্বকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।

ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তির বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে শি জিনপিং আরও ঘোষণা করেন যে, চীন ও রাশিয়া আগামী দিনগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উচ্চমানের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা বহুগুণ বৃদ্ধি করবে। একই সাথে তিনি বিশ্বমঞ্চে পশ্চিমা আধিপত্যের দিকে ইঙ্গিত করে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, আন্তর্জাতিক সমতা ও ন্যায়বিচার রক্ষা করতে এবং বিশ্বজুড়ে সব ধরনের একতরফা দাদাগিরি ও ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে উল্টে দেওয়ার অপচেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে রুখে দিতে চীন ও রাশিয়াকে এখন দায়িত্বশীল বৃহৎ শক্তি হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।


মূল সূত্র: বিবিসি বাংলা ।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


একতরফা আধিপত্য ঠেকাতে চীন-রাশিয়ার ঐকমত্য

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

বিশ্ব রাজনীতি এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের এক নতুন বার্তা দিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি বেইজিং ও মস্কোর মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় আরো জোরদার করার লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। দুই দেশের মধ্যে সুপ্রতিবেশী সুলভ সম্পর্ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গভীরতর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে দাঁড়িয়ে চীন ও রাশিয়ার এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিচ্ছে।

এই ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের শীর্ষ নেতারা বাণিজ্য, আধুনিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, মেধাস্বত্ব এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন অতি সংবেদনশীল ক্ষেত্রে একাধিক যুগান্তকারী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এখানেই শেষ নয়, আগামী দিনগুলোতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যেতে উভয় দেশের কর্মকর্তারা আরও অন্তত ২০টি বিশেষ কৌশলগত নথিতে স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে দুই পরাশক্তি দেশ নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতাকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে গড়ে তোলার এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

যৌথ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছেন যে, সময়ের সাথে সাথে চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক ক্রমশ উন্নত ও পরিপক্ব হয়েছে এবং তা এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বে পৌঁছেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশ সম্পূর্ণ সমান মর্যাদার ভিত্তিতে এবং পারস্পরিক সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে একে অপরের সাথে আন্তর্জাতিক আচরণ পরিচালনা করছে। তার দাবি, এই যুগান্তকারী চুক্তির মাধ্যমে বেইজিং ও মস্কোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন একটি সম্পূর্ণ নতুন সূচনা বিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতের বিশ্বকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।

ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তির বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে শি জিনপিং আরও ঘোষণা করেন যে, চীন ও রাশিয়া আগামী দিনগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উচ্চমানের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা বহুগুণ বৃদ্ধি করবে। একই সাথে তিনি বিশ্বমঞ্চে পশ্চিমা আধিপত্যের দিকে ইঙ্গিত করে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, আন্তর্জাতিক সমতা ও ন্যায়বিচার রক্ষা করতে এবং বিশ্বজুড়ে সব ধরনের একতরফা দাদাগিরি ও ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে উল্টে দেওয়ার অপচেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে রুখে দিতে চীন ও রাশিয়াকে এখন দায়িত্বশীল বৃহৎ শক্তি হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।


মূল সূত্র: বিবিসি বাংলা ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল