দিকপাল

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার উত্তাপ রাইডশেয়ারিংয়ে: চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৪১ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার উত্তাপ রাইডশেয়ারিংয়ে: চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের গণপরিবহন ও রাইডশেয়ারিং খাতে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৮০ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, চালকরা অ্যাপের পরিবর্তে দ্বিগুণ ভাড়ায় ‘চুক্তিতে’ যেতে যাত্রীদের বাধ্য করছেন।

নগরীর বিভিন্ন ব্যস্ততম মোড় ঘুরে দেখা গেছে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির চিত্র। জিইসি মোড় থেকে আগ্রাবাদগামী বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা সায়মন কবির জানান, আগে যেখানে এই পথে ১২০-১৩০ টাকায় যাতায়াত করা যেত, আজ সেখানে ১৮০ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

সায়মন কবির আক্ষেপ করে বলেন, রাইডাররা সরাসরি বলছেন তেলের দাম বেড়েছে, তাই কম ভাড়ায় যাওয়া সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের পকেট কাটার জন্য এটি যেন একটি নতুন অজুহাত। 

পতেঙ্গা থেকে নিউ মার্কেট: আগের ভাড়া ১৮০-২০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ২৬০ টাকা। বহদ্দারহাট থেকে চকবাজার: স্বল্প দূরত্বের এই পথেও অতিরিক্ত ২০-৩০ টাকা দাবি করছেন চালকরা।

জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে কেবল যাত্রী নয়, ক্ষুব্ধ চালকরাও। তাদের দাবি, পাম্পে তেলের সংকট এবং চড়া মূল্যের কারণে আগের ভাড়ায় রাইড চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

চকবাজার এলাকার রাইডার আরমান হোসেন বলেন, গত রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাইনি। আজ ১৪০ টাকা দরে অকটেন কিনতে হচ্ছে। অথচ অ্যাপের ভাড়া এখনো আপডেট হয়নি। আগের ভাড়ায় চালালে আমাদের লোকসান গুনতে হবে, সংসার চলবে না।

"তেলের দামের সাথে ভাড়ার সামঞ্জস্য না থাকলে আমাদের রাইড চালানো বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।"

— আরমান হোসেন, মোটরসাইকেল চালক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ারিং কোম্পানিগুলো এখনো তাদের সিস্টেম আপডেট না করায় অ্যাপে পুরনো ভাড়াই প্রদর্শিত হচ্ছে। ফলে চালকরা অ্যাপে ট্রিপ নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অথবা নিরুপায় হয়ে চালকদের সাথে দামাদামি করে ‘চুক্তিতে’ গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

নগরীর মোড়ে মোড়ে ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে তিক্ত বাগবিতণ্ডা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ভাড়া সমন্বয় বা সরকারি নীতিমালা কার্যকর না হলে এই সংকট জনজীবনে আরও চরম ভোগান্তি ডেকে আনবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত কর্মজীবী মানুষ, যারা সময়ের প্রয়োজনে রাইডশেয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরশীল, তারা সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রাইডশেয়ারিং খাতের শৃঙ্খলাই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার উত্তাপ রাইডশেয়ারিংয়ে: চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের গণপরিবহন ও রাইডশেয়ারিং খাতে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৮০ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, চালকরা অ্যাপের পরিবর্তে দ্বিগুণ ভাড়ায় ‘চুক্তিতে’ যেতে যাত্রীদের বাধ্য করছেন।

নগরীর বিভিন্ন ব্যস্ততম মোড় ঘুরে দেখা গেছে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির চিত্র। জিইসি মোড় থেকে আগ্রাবাদগামী বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা সায়মন কবির জানান, আগে যেখানে এই পথে ১২০-১৩০ টাকায় যাতায়াত করা যেত, আজ সেখানে ১৮০ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

সায়মন কবির আক্ষেপ করে বলেন, রাইডাররা সরাসরি বলছেন তেলের দাম বেড়েছে, তাই কম ভাড়ায় যাওয়া সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের পকেট কাটার জন্য এটি যেন একটি নতুন অজুহাত। 

পতেঙ্গা থেকে নিউ মার্কেট: আগের ভাড়া ১৮০-২০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ২৬০ টাকা। বহদ্দারহাট থেকে চকবাজার: স্বল্প দূরত্বের এই পথেও অতিরিক্ত ২০-৩০ টাকা দাবি করছেন চালকরা।

জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে কেবল যাত্রী নয়, ক্ষুব্ধ চালকরাও। তাদের দাবি, পাম্পে তেলের সংকট এবং চড়া মূল্যের কারণে আগের ভাড়ায় রাইড চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

চকবাজার এলাকার রাইডার আরমান হোসেন বলেন, গত রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাইনি। আজ ১৪০ টাকা দরে অকটেন কিনতে হচ্ছে। অথচ অ্যাপের ভাড়া এখনো আপডেট হয়নি। আগের ভাড়ায় চালালে আমাদের লোকসান গুনতে হবে, সংসার চলবে না।

"তেলের দামের সাথে ভাড়ার সামঞ্জস্য না থাকলে আমাদের রাইড চালানো বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।"

— আরমান হোসেন, মোটরসাইকেল চালক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ারিং কোম্পানিগুলো এখনো তাদের সিস্টেম আপডেট না করায় অ্যাপে পুরনো ভাড়াই প্রদর্শিত হচ্ছে। ফলে চালকরা অ্যাপে ট্রিপ নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এতে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অথবা নিরুপায় হয়ে চালকদের সাথে দামাদামি করে ‘চুক্তিতে’ গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

নগরীর মোড়ে মোড়ে ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে তিক্ত বাগবিতণ্ডা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ভাড়া সমন্বয় বা সরকারি নীতিমালা কার্যকর না হলে এই সংকট জনজীবনে আরও চরম ভোগান্তি ডেকে আনবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত কর্মজীবী মানুষ, যারা সময়ের প্রয়োজনে রাইডশেয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরশীল, তারা সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রাইডশেয়ারিং খাতের শৃঙ্খলাই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল